
সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে পড়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষকরা। শনিবার (২ মে) সকালে মধ্যনগর উপজেলার বোয়ালা হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে প্রবল স্রোতে পানি ঢুকে বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত তলিয়ে যায়। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, ভোর থেকে টানা বৃষ্টিপাতের কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পায়। এতে মধ্যনগর জামে মসজিদের পাশের কালভার্টসংলগ্ন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্মিত বাঁধ ভেঙে যায়। ভাঙা অংশ দিয়ে দ্রুতগতিতে পানি হাওরে প্রবেশ করে মুহূর্তেই ফসল প্লাবিত হয়। সকালে হাওরে ধান কাটতে যাওয়া কৃষকরা হঠাৎ এমন পরিস্থিতির মুখে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। কেউ ডুবন্ত ফসল রক্ষার চেষ্টা করেন, আবার কেউ বাঁধ রক্ষায় এগিয়ে যান। অনেকেই ক্ষতির শোকে কান্নায় ভেঙে পড়েন। ঘটনাস্থলে স্থানীয় কৃষক ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও তীব্র স্রোতের কারণে ভাঙন ঠেকানো সম্ভব হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, নিম্নমানের নির্মাণকাজ ও অবহেলার কারণেই বাঁধটি টেকেনি। বিশেষ করে কালভার্টের মুখে প্রয়োজনীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা না থাকায় এটি দুর্বল হয়ে পড়ে। উপজেলা প্রশাসন জানায়, অতিবৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সোমেশ্বরী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে প্রথমে বাঁধ উপচে হাওরে ঢুকে পড়ে। পরে পানির তীব্র চাপেই বাঁধটি ভেঙে যায়। বোয়ালা হাওরে মোট ৫৭৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধান চাষ হয়েছিল, যার মধ্যে ৪৬০ হেক্টরের ধান ইতোমধ্যে কাটা হয়েছে। তবে বাঁধ ভেঙে অন্তত ৮৪ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। যদিও কৃষকদের দাবি, ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২০০ হেক্টর। হাওরপাড়ের কৃষক মানিক মিয়া ও সৈকত মিয়া জানান, তাদের অনেক জমির ধান কাটা বাকি ছিল। শ্রমিক নিয়ে ধান কাটতে গিয়ে দেখেন, বাঁধ ভেঙে সব ফসল পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মধ্যনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চয় ঘোষ বলেন, পাহাড়ি ঢল ও ভারী বৃষ্টির কারণে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় বাঁধ ভেঙে কালভার্ট দিয়ে হাওরে পানি প্রবেশ করে, এতে কিছু ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার জানান, হাওরের অধিকাংশ ধান কাটা শেষ হওয়ার পর বাঁধটি ভেঙেছে। তাই তাৎক্ষণিকভাবে বাঁধ রক্ষায় বড় কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।