
– মো. কামাল উদ্দিন: চট্টগ্রাম মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সহজ কাজ নয়। এই নগরী শুধু ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের কেন্দ্র নয়, বরং প্রতিদিন এখানে হাজারো মানুষের জীবন-জীবিকা চলে। আর সেই জীবিকা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছে আমাদের পুলিশ বাহিনী। এই দায়িত্ব জটিল এবং চ্যালেঞ্জপূর্ণ। অপরাধ দমন এবং জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সহজ নয়, বিশেষ করে এমন এলাকায় যেখানে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ কর্মকাণ্ড, চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসা ক্রমশ বাড়ছে। তবুও কিছু পুলিশ কর্মকর্তা আছেন, যাদের মধ্যে রয়েছে সততা, নিষ্ঠা এবং সাহস—যারা কঠোর ও মানবিকভাবে দায়িত্ব পালন করেন। এই ধরনের একজন কর্মকর্তা হলেন চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের বাকলিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান। তবে ইতিহাসই আমাদের বারবার শিখিয়েছে যে, যারা সততা এবং ন্যায়পরায়ণতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তারা প্রায়ই ষড়যন্ত্র এবং অপপ্রচারের শিকার হন। বর্তমানেও ওসি সোলাইমানকে ঘিরে যে অপপ্রচার চলছে, তা অনেক বিশ্লেষক এবং স্থানীয় সচেতন মহলকে আশঙ্কিত করেছে। তারা এটিকে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছেন। ওসি সোলাইমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বাকলিয়া থানায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি দৃশ্যমানভাবে উন্নত হয়েছে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় অপরাধীদের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা শুরু করেন। এই অভিযানের মধ্যে রয়েছে মাদক ব্যবসায়ী, চাঁদাবাজ এবং সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করা ও গ্রেফতার। তার নেতৃত্বে পরিচালিত অভিযানে উদ্ধার হয়েছে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য, অবৈধ অস্ত্র এবং অপরাধে ব্যবহৃত বিভিন্ন আলামত। স্থানীয়রা বলছেন, এসব পদক্ষেপের ফলে এলাকার অপরাধ প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। সাধারণ মানুষ এখন অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছেন। থানার বাইরে টহল বৃদ্ধির পাশাপাশি সুনির্দিষ্ট অভিযান ও অভিযান-পূর্ব পরিকল্পনা অপরাধীদের জন্য একটি বড় ধাক্কা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
যারা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক, চাঁদাবাজি এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছিল, তারা পুলিশের এই কঠোর অবস্থান সহজভাবে মেনে নিতে পারছে না। ফলে এক কুচক্রী মহল ওসি সোলাইমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। কখনও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে, কখনও গোপনে বিভিন্ন মহলে তার ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এই অপপ্রচার কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণা। অপরাধীদের স্বার্থে আঘাত হানার পেছনে তারা সক্রিয়ভাবে এই অপপ্রচার চালাচ্ছে। সাধারণত অপরাধী চক্র দুটি কৌশল অবলম্বন করে—প্রথমত, তারা প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে; দ্বিতীয়ত, তারা অপপ্রচার চালিয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার চেষ্টা করে। ওসি সোলাইমানের ক্ষেত্রেও একই কৌশল প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। ওসি সোলাইমানের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হল তার জনবান্ধব মনোভাব। তিনি বিশ্বাস করেন, পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী বাহিনী নয়; পুলিশ জনগণের বন্ধু। এই দর্শন থেকেই তিনি থানায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্ব দিয়েছেন। থানায় সেবাপ্রার্থীদের সঙ্গে মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা, দ্রুত অভিযোগ গ্রহণ করা এবং সমস্যা সমাধান করা—এসব বিষয়গুলো তিনি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছেন। ফলে সাধারণ মানুষ এখন সহজেই থানায় গিয়ে তাদের অভিযোগ জানাতে পারছেন এবং তা দ্রুত সমাধান পাচ্ছে।
ওসি সোলাইমান চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিভাগ থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেছেন। এই শিক্ষাগত পটভূমি তাকে সমাজ এবং অপরাধ বিষয়ে গভীর বিশ্লেষণাত্মক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে। তিনি ভালো করেই জানেন, অপরাধ দমন কেবল শক্তি প্রয়োগে সম্ভব নয়; প্রয়োজন তথ্য বিশ্লেষণ, কৌশলগত পরিকল্পনা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা।
এই কারণে তার নেতৃত্বে পুলিশ কার্যক্রম আরও বেশি ফলপ্রসূ এবং পরিকল্পিত হয়েছে। অপপ্রচারের মুখোমুখি হওয়ার পরও তার মনোবল অটুট আছে। বিশ্বের অনেক দেশে দেখা যায়, যারা পুলিশ কর্মকর্তা সততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তারা প্রায়ই অপপ্রচারের শিকার হন। কখনও বিতর্ক তৈরি করা হয়, কখনও ভিত্তিহীন অভিযোগ তোলা হয়। এর মূল উদ্দেশ্য একটাই—কঠোর অবস্থানে থাকা কর্মকর্তাকে দুর্বল করা এবং মনোবল ভেঙে দেওয়া। বাংলাদেশেও এর ব্যতিক্রম নয়। তবে বাস্তবতা হলো, এই অপপ্রচার দীর্ঘস্থায়ী হয় না। জনগণ খুব দ্রুত বুঝতে পারে—কোন কর্মকর্তা সত্যিকার অর্থে তাদের নিরাপত্তার জন্য কাজ করছেন।
বাকলিয়া এলাকার সচেতন নাগরিকরা বলছেন, ওসি সোলাইমানের নেতৃত্বে থানার কার্যক্রম গতিশীল হয়েছে। পুলিশের টহল বৃদ্ধি, অপরাধীদের বিরুদ্ধে অভিযান এবং দ্রুত পদক্ষেপের কারণে মানুষ এখন অনেক বেশি নিরাপদ বোধ করছেন।
এমন পরিস্থিতিতে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে, সেটি আসলে তার সফলতার বিরুদ্ধে একটি প্রতিক্রিয়া। সমাজের সচেতন মানুষ জানে—অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো কর্মকর্তাদের পাশে দাঁড়ানোই ন্যায়বিচারের পক্ষে দাঁড়ানো।
ওসি সোলাইমান একজন মেধাবী, চৌকস বুদ্ধি সম্পন্ন অফিসার। তিনি কেবল শিক্ষিতই নন, বরং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার এবং প্রশাসনিক জটিলতা সমাধান করার ক্ষমতাও রাখেন। এই কঠিন সময়ে পুলিশকে পথ দেখানো হয়েছে পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ এর নেতৃত্বে, যিনি পুলিশ বাহিনীর হারানো গৌরব পুনঃস্থাপন করেছেন।
এছাড়াও তার দক্ষতা এবং দূরদর্শিতা অপরাধ দমন কার্যক্রমকে আরও কার্যকর এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক করে তুলেছে।
অপরাধ দমন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ওসি সোলাইমানের দৃঢ় অবস্থান প্রমাণ করে, তিনি দায়িত্ব পালনে আপসহীন। অপপ্রচারের মুখোমুখি হলেও তিনি থেমে থাকেননি। কারণ, সত্য শেষ পর্যন্ত প্রতিষ্ঠিত হয়। সাময়িকভাবে সত্যকে আড়াল করা গেলেও চিরকাল চাপা রাখা সম্ভব নয়। যারা সততা এবং সাহসিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন, তারা সাময়িক বাধা-বিপত্তির মুখোমুখি হলেও শেষ পর্যন্ত মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেন। ওসি মোহাম্মদ সোলাইমানও সেই পথেই এগিয়ে চলেছেন। অপরাধীদের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো, মানুষের আস্থা অর্জন এবং পুলিশের গৌরব পুনঃস্থাপন—এসব মিলিয়ে বোঝা যায়, ওসি সোলাইমানের বিরুদ্ধে যে অপপ্রচার চলছে, তা কেবল অসাধু চক্রের স্বার্থে পরিচালিত একটি ষড়যন্ত্র। তবে সচেতন মানুষ জানে, সত্য ও সততার পথেই শেষ পর্যন্ত বিজয়। চট্টগ্রাম মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে একজন সাহসী ও নীতিবান কর্মকর্তার ভূমিকা অপরিসীম। ওসি সোলাইমানের কার্যক্রম প্রমাণ করে, যে কর্মকর্তা সততা, নিষ্ঠা এবং দূরদর্শিতা নিয়ে দায়িত্ব পালন করেন, তার সাফল্য মানুষ দ্রুত বোঝে। অতএব বলা যায়, অপপ্রচার নয়, সত্য, সততা এবং জনগণের পাশে দাঁড়ানোই চিরস্থায়ী বিজয়। এই বিজয়ের পথে এগোতে হলে সমাজের সচেতন মানুষ ও আইনপ্রণয়নকারী সকলের সমর্থন অপরিহার্য। ওসি মোহাম্মদ সোলাইমান সেই সাহসী পথিক, যিনি কেবল নিজের দায়িত্ব নয়, বরং জনগণের নিরাপত্তা ও আইনের শাসনের শক্ত ভিত্তি স্থাপন করছেন।