
মো. জামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রামের অপরাধ জগতের কুখ্যাত নাম সোলাইমান—যিনি একসময় প্রকাশ্যে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র জনতার ওপর গুলি বর্ষণকারী সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত ছিলেন—আজ আবারো প্রকাশ্যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছেন। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজি ও হত্যাচেষ্টাসহ মোট ১৩ মামলার পলাতক আসামি হয়েও তিনি দিব্যি চট্টগ্রামের বাকলিয়া এলাকায় অবৈধ বালু সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছেন।পুলিশকে বোকা বানাতে নকল টিকিট–ভিসার খেলা-বিশেষ গোয়েন্দা সূত্র জানায়, সোলাইমান নকল বিমান টিকিট ও ভিসার কপি ব্যবহার করে নিজের উপস্থিতি গোপন করেন। কখনো তিনি বিদেশে আছেন বলে প্রচার করেন, আবার রাতে ফিরে এসে চালান অবৈধ বালুর সেলস সেন্টার। এই কৌশল ব্যবহার করে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিভ্রান্ত করে দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন। থানা পর্যায়ের দুর্নীতিতে সোলাইমানের অবাধ যাতায়াত-বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, সোলাইমান ১০ লাখ টাকা দিয়ে বাকলিয়া থানার কিছু অসাধু কর্মকর্তার সাথে আপোষ করেছে বলে বাজারে প্রচার রয়েছে।পাশাপাশি তিনি ১.৫ লাখ টাকা মাসোহারা দিয়ে থানার কয়েকজন সদস্যকে নিজের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন বলে জোরগলায় বলে বেড়াচ্ছে। তাদের সুরক্ষায় কর্ণফুলী নদীর পশ্চিম পাশে নতুন সেতুর নিচে তার সেলস সেন্টারগুলো রাতের বেলায় প্রকাশ্যে চলছে
রাতের বেলায় শত শত গাড়ী বালুর জন্য লাইন ধরে থাকে। এদিকে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন: “মহানগর এলাকায় কোনওভাবেই অবৈধ বালু উত্তোলন ও বিক্রি চলতে দেওয়া হবে না।” তবুও কেন বাকলিয়া এলাকায় সোলাইমানের সেলস সেন্টার সহ বকুল ও নবাবেরটা রাতেও খোলা থাকে?—এই প্রশ্ন বারবার উঠছে। পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ: কঠোর অবস্থানের কারণে টার্গেট-এখন এক শ্রেণীর অসাধু পুলিশ সদস্য এবং রাজনৈতিক সুবিধাভোগীরা পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ছড়ানোর চেষ্টা করছে। কারণ তিনি দায়িত্ব গ্রহণের পর—কর্ণফুলী নদীর সব অবৈধ বালুমহল বন্ধ করেন, রাতের বেলায় দ্রুত রেসপন্স টিম বাড়ান, সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে অভিযান পরিচালনা করেন, থানার অভ্যন্তরে থাকা দুর্নীতিবাজ সদস্যদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেন। এই কঠোর অবস্থানেই ক্ষুব্ধ হয়েছে সোলাইমান চক্র। তারা এখন কমিশনারের বিরুদ্ধে গুজব, অপপ্রচার ও ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে একটি বিভ্রান্তি তৈরি করতে চাইছে—যাতে সোলাইমান ও তার অবৈধ ব্যবসা টিকে থাকে। বাকলিয়া থানার ওসি আফতাব উদ্দিন—কমিশনারের নির্দেশনা অনুযায়ী এগিয়ে চলছে অভিযান-বাকলিয়া থানায় নিযুক্ত ওসি আফতাব উদ্দিন সম্প্রতি বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য সফলতা দেখিয়েছেন— রাতে বালু সেলস সেন্টারে অভিযানে নেতৃত্ব দিয়েছেন, সোলাইমানের ছায়াসঙ্গীদের গতিবিধি চিহ্নিত করেছেন, কমিশনারের নির্দেশে অবৈধ বালব্যবসা বন্ধে অভিযান জোরদার করেছেন। কিন্তু থানা পর্যায়ে কয়েকজন অসাধু সদস্য সোলাইমানের মদদপুষ্ট হওয়ায় অভিযান সম্পূর্ণ সফল হয়নি। ওসি আফতাব উদ্দিনের প্রচেষ্টা সত্ত্বেও সোলাইমান কিছু তথ্য আগেই জেনে ফেলে—থানার ভেতরের বিশ্বাসঘাতকদের কারণে রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় লাইমানের দাপট সোলাইমানকে বিভিন্ন সময় আ.লীগ নেতা মহিউদ্দিন বকুল, নবাব খান এনডিসি, নাজিম, এবিএনপি নেতা মুছা, ও আরও কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি সহায়তা দিয়ে আসছেন। বলিরহাট বেল্লাপাড়া এলাকায় এখনও তাদের অবৈধ বালুর সেলস সেন্টার চালু রয়েছে। আ জ ম নাসিরের ছায়াতলে উঠে আসা সন্ত্রাসী সোলাইমান- একসময় সোলাইমান ছিলেন আ জ ম নাসির উদ্দীনের বিশ্বস্ত ক্যাডার। তার মাধ্যমে— কর্ণফুলী নদীর অবৈধ বালুমহল দখল, অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী গোষ্ঠী গঠন, রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি, প্রতিমাসে অবৈধ কোটি কোটি টাকার লেনদেন হয়ে এসেছে। মিডিয়ার অনুসন্ধানে উন্মোচিত ঘন অন্ধকার- চট্টগ্রামের অন্যতম অনুসন্ধানী সংবাদমাধ্যম চট্টল চিত্র এবং সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউজ ইতিমধ্যে ভিডিও রিপোর্ট প্রচার করেছে। সেই রিপোর্ট প্রকাশের পর রাতেই বাকলিয়া থানার পুলিশ অভিযান চালায়—কিন্তু সোলাইমানের থানা–সখ্যতায় সেই অভিযান সম্পূর্ণ সফল হয়নি। সোলাইমান: শুধু বালু নয়, পুরো অপরাধ নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রক- তার নেতৃত্বে এখনও সক্রিয়: অস্ত্রধারী ক্যাডার, বালু চক্র,রাজনৈতিক ছত্রছায়া, থানা পর্যায়ের ঘুষখোর সদস্য, কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ বিনিয়োগ। এখন প্রয়োজন—দৃঢ় পদক্ষেপ- চট্টগ্রামের সাধারণ মানুষ, সাংবাদিক সমাজ এবং সচেতন নাগরিকেরা বলছেন— “সোলাইমানকে আইনের আওতায় আনতে হলে পুলিশ কমিশনারের চলমান কঠোর অবস্থানকে সমর্থন করতে হবে। থানার অনৈতিক সদস্যদের শাস্তির আওতায় আনলে সোলাইমান চক্র ভেঙে যাবে।” সোলাইমানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এখন শুধু প্রশাসনিক নয়— এটি সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও অবৈধ বালুবাণিজ্যের বিরুদ্ধে জনগণের লড়াই।