সাক্ষাৎকারঃ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন: “চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হবে জনগণের বিশ্বাসের ঠিকানা”

0
355

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন—একজন সৎ, দায়িত্বশীল এবং অনুপ্রেরণাদায়ী মানুষ, যাঁর নেতৃত্ব আজ দেশের অন্যতম বৃহৎ সরকারি হাসপাতালটিকে নতুন এক উচ্চতায় পৌঁছে দিয়েছে। তাঁকে দেখলে বোঝা যায়, নেতৃত্ব কেবল পদ বা প্রভাব নয়, এটি একধরনের অন্তর্দীপ্তি—যা সেবার মনোভাব থেকে জন্ম নেয়।
তসলিম উদ্দিনের চোখে হাসপাতাল কোনো কাগুজে অফিস নয়, এটি মানুষের প্রাণ বাঁচানোর এক পবিত্র ক্ষেত্র। যেখানে প্রতিটি রোগী একটি আশার প্রতীক, প্রতিটি চিকিৎসক একেকজন মানবসেবার সৈনিক। অফিসের দরজায় তিনি দাঁড়িয়ে থাকেন এক আত্মবিশ্বাসী প্রশাসক হিসেবে, কিন্তু রোগীর সামনে তিনি একজন কোমল হৃদয়ের মানুষ। তাঁর কথায়, আচরণে এবং সিদ্ধান্তে ফুটে ওঠে মানবিক নেতৃত্বের এক উজ্জ্বল রূপ।
তাঁর কর্মজীবনের পথচলা সহজ ছিল না। সেনাবাহিনীর কঠোর শৃঙ্খলা থেকে তিনি এসেছেন স্বাস্থ্য প্রশাসনের জটিল ব্যবস্থাপনায়—দুই ভুবনের অভিজ্ঞতা মিলে তাঁকে গড়ে তুলেছে এক দূরদর্শী ব্যবস্থাপক হিসেবে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্ব গ্রহণের পরই তিনি বুঝেছিলেন, এই বিশাল প্রতিষ্ঠানের উন্নয়ন শুধু অবকাঠামো বা যন্ত্রপাতি দিয়ে সম্ভব নয়; এখানে দরকার সৎ প্রশাসন, সঠিক মনোভাব, আর মানবিকতা।
তসলিম উদ্দিন সেই মানবিকতার দ্বার খুলে দিয়েছেন সবার জন্য। হাসপাতালের প্রতিটি বিভাগে তিনি এনেছেন শৃঙ্খলা, স্বচ্ছতা এবং জবাবদিহি। তাঁর হাত ধরে হাসপাতালের চিত্র পাল্টে গেছে—রোগীর দীর্ঘ সারি কমেছে, চিকিৎসকদের দায়িত্ববোধ বেড়েছে, ঔষধ পাচারের মতো অন্ধকার অধ্যায় মুছে গেছে। প্রতিটি সিদ্ধান্তের পেছনে তিনি রেখেছেন বিবেকের উপস্থিতি, প্রশাসনের শক্তি নয়।
তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতাল পেয়েছে প্রযুক্তির ছোঁয়া—ডিজিটাল মনিটরিং সিস্টেম, হেল্পলাইন চালু, সিসিটিভি নজরদারি, উন্নত পরীক্ষাগার ও আধুনিক অপারেশন থিয়েটার। এসবের মাঝে তিনি নিজে থেকেও খোঁজ নেন রোগীদের—কারও অভিযোগ থাকলে শুনে নেন মনোযোগ দিয়ে, যেন হাসপাতালের পরিচালক নয়, বরং একজন অভিভাবক কথা বলছেন।
তসলিম উদ্দিনের একটি বিশেষ গুণ হলো, তিনি কেবল উন্নয়ন করেন না—তিনি উন্নয়নকে টিকিয়ে রাখার সংস্কৃতি গড়ে তোলেন। তিনি বিশ্বাস করেন, প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্সরাই হাসপাতালের আসল সম্পদ। তাই তিনি নিয়মিত ওয়ার্কশপ, সেমিনার এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করেছেন, যাতে প্রত্যেকে তাদের দায়িত্ব আরও দক্ষতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে পারেন।
তাঁর অফিসে বসলে বোঝা যায়, তিনি কোনো প্রথাগত আমলা নন। তাঁর চোখে ঝিলিক দেয় দৃঢ়তা, কিন্তু মুখের ভাষায় থাকে শান্তি। কথার ফাঁকে তিনি বলেন, “আমরা যদি রোগীর মুখে হাসি ফেরাতে না পারি, তবে আমাদের সকল উন্নয়নই ব্যর্থ।” এই একটি বাক্য যেন তাঁর পুরো কর্মজীবনের দর্শন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনের জীবনযাত্রা এক শৃঙ্খলার অধ্যায়। সেনাবাহিনীর কঠোর অনুশাসন তাঁর চরিত্রে এনেছে দৃঢ়তা, আবার চিকিৎসা প্রশাসনের দায়িত্ববোধ তাঁকে দিয়েছে মানবিকতা। এই দুই শক্তির মেলবন্ধন তাঁকে করেছে এক অনন্য প্রশাসক। তিনি জানেন—কঠোরতা কখন প্রয়োগ করতে হয়, আবার কোমলতা কখন প্রয়োজন হয়।
তাঁর নেতৃত্বে হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও রোগীর কল্যাণ—সব ক্ষেত্রেই এসেছে এক নতুন উদ্দীপনা। হাসপাতালের দেয়াল, করিডর, ওয়ার্ড—সবখানেই এখন এক নতুন বাতাস বইছে। মানুষ বিশ্বাস করতে শিখেছে যে সরকারি হাসপাতালও হতে পারে সেবার প্রকৃত কেন্দ্র।
তসলিম উদ্দিনের আরেকটি দিক হলো তাঁর নীরব অবদান। তিনি প্রচারের মানুষ নন; বরং কাজের মধ্য দিয়েই পরিচিতি অর্জন করেন। তাঁর সহকর্মীরা বলেন, তিনি প্রশাসনে যেমন দৃঢ়, তেমনি সহানুভূতিশীল। কোনো ভুল দেখলে শাসন করেন, কিন্তু তার সঙ্গে শেখানও—এই শিক্ষাই তাঁকে করে তুলেছে এক প্রভাবশালী নেতৃত্বের প্রতীক।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে তিনি আজ শুধুই একজন কর্মকর্তা নন; তিনি এক অনুপ্রেরণার নাম। তাঁর সৎ সাহস, দায়িত্ববোধ, নীতি ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি এখন দেশের অন্যান্য হাসপাতালগুলোর জন্যও উদাহরণ।
এ যেন এক আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার গল্প, যেখানে নেতৃত্বের কেন্দ্রবিন্দু একজন মানুষ—যিনি বিশ্বাস করেন, হাসপাতাল কেবল চিকিৎসার নয়, এটি আশার ঘর। আর এই আশার ঘর নির্মাণে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনের অবদান অমলিন হয়ে থাকবে, চট্টগ্রামের মানুষ ও বাংলাদেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার ইতিহাসে।
চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন প্রশাসনিক ভবনের দোতলায় ঢুকতেই চোখে পড়ে নীরব কিন্তু সুশৃঙ্খল পরিবেশ। ভেতরের করিডোরে শৃঙ্খলার ছাপ, দেয়ালে পরিস্কার তথ্যফলক, আর বাইরে ভিড়ের মধ্যেও এক ধরনের সৌন্দর্য। ৫ই অক্টোবর রবিবার বেলা
১২টা—দৈনিক টুরিস্টন ও “চট্রল চিত্র”পত্রিকার পক্ষ থেকে আমি প্রবেশ করলাম হাসপাতালের নতুন পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিনের কক্ষে।
কক্ষের দরজা খোলার সঙ্গে সঙ্গে তিনি হাসিমুখে উঠে দাঁড়ালেন। দৃঢ় কণ্ঠে বললেন—
“স্বাগতম আপনাদের দৈনিক টুরিস্ট পত্রিকায়। সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়মিত সংলাপ আমার কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের উন্নয়ন মানে শুধু ভবন নয়, মানুষের মন-মানসিকতার পরিবর্তনও দরকার। সেটিই আমরা করছি।”
সৌজন্য বিনিময়ের পর সাক্ষাৎকার শুরু হয়—
প্রশ্ন: আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই হাসপাতালটিতে একটা দৃশ্যমান পরিবর্তন এসেছে। শুরুতে কী ভাবনা নিয়ে কাজ শুরু করেছিলেন?
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন:
আমি দায়িত্ব নেওয়ার দিন থেকেই একটা বিষয় মাথায় রেখেছিলাম—এই হাসপাতাল চট্টগ্রাম তথা দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের মানুষের শেষ আশ্রয়স্থল। এখানে প্রতিদিন গড়ে ৭ থেকে ৮ হাজার রোগী চিকিৎসা নিতে আসে। তাদের কষ্ট, তাদের ভরসা—সবকিছু এই হাসপাতালের ওপর। তাই আমার প্রথম লক্ষ্য ছিল সেবা ব্যবস্থার শৃঙ্খলা ফেরানো।
আমি প্রথম তিনদিন রোগীর ভেতরে ঘুরেছি, তাদের সঙ্গে কথা বলেছি, শুনেছি নার্সদের অভিযোগ, কর্মচারীদের অসন্তোষ। বুঝেছি, এখানে অনেক জায়গায় নিয়মানুবর্তিতার অভাব। তারপর ধীরে ধীরে প্রশাসনিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে শুরু করেছি।
প্রশ্ন: আপনি আসার পর হাসপাতালের পরিবেশ ও আচরণে একটা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। এই পরিবর্তনের মূল রহস্য কী?
উত্তর:
সত্যি বলতে, হাসপাতালের কাজ শুধু চিকিৎসা দেওয়া নয়—এটি মানবিক আচরণের জায়গা। আমি সব সময় বলি, “রোগীকে শুধু ওষুধ নয়, সহানুভূতিও দিতে হয়।”
আমি চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে প্রতিদিন আলাদা সভা করি। তাদের মনে করিয়ে দিই—তারা শুধু চাকরি করছেন না, বরং মানবতার সেবা করছেন।
এখন রোগী সন্তুষ্টির হার অনেক বেড়েছে। অভিযোগ কমেছে। অনেকেই বলেন, “স্যার, এখন হাসপাতালের ভেতর ঢুকলে মনে হয় একটা সামরিক শৃঙ্খলা কাজ করছে।”
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম মেডিকেলের সবচেয়ে বড় সমস্যা হিসেবে কী দেখেছেন?
উত্তর:
সবচেয়ে বড় সমস্যা ছিল ব্যবস্থাপনা। এখানে অনেক বছর ধরে অগোছালোভাবে কাজ চলছিল। রোগীর সংখ্যা অনেক, কিন্তু শৃঙ্খলা ছিল না। আমি এসে প্রথমেই প্রতিটি ওয়ার্ডে দায়িত্ব বণ্টন নতুন করে সাজিয়েছি।
রোগী ভর্তি ও ছাড়পত্র প্রক্রিয়া ডিজিটালাইজ করেছি।
এছাড়া বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার ওপর বিশেষ নজর দিয়েছি।
প্রতিটি টয়লেট এখন দিনে দুইবার পরিষ্কার হয়, পরিচ্ছন্নতা টিম ২৪ ঘণ্টা কাজ করে। আগে যেখানে দুর্গন্ধ ছিল, এখন সেখানে পরিষ্কার গন্ধ ও শৃঙ্খলা—এটাই সবচেয়ে বড় অর্জন।
প্রশ্ন: হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মচারীদের মধ্যে শৃঙ্খলা রক্ষা করা কি কঠিন ছিল?
উত্তর:
অবশ্যই। তবে আমি সব সময় ‘আদেশ নয়, অনুপ্রেরণা’ পদ্ধতিতে কাজ করি।
আমি চাই সবাই বুঝুক—এটা তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠান। শৃঙ্খলা জোর করে নয়, ভালোবাসা দিয়ে আনা যায়।
এখন সবাই নিজের দায়িত্ব জানে, অনেকে নিজের খরচে ওয়ার্ড সাজিয়ে ফেলেছে। এমন একটা স্বতঃস্ফূর্ত পরিবেশ গড়ে উঠেছে, যা আগে ছিল না।
প্রশ্ন: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা আছে?
উত্তর:
অবশ্যই। এখন আমাদের ফোকাস হচ্ছে হাসপাতালটিকে আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থার মডেল হিসেবে দাঁড় করানো।
আমরা নতুন ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দিয়েছি, যেখানে বিশেষায়িত বিভাগ থাকবে—নিউরোসায়েন্স, কার্ডিয়াক, ও বার্ন ইউনিটের সম্প্রসারণ।
এছাড়া ইমারজেন্সি সেবা পুরোপুরি কম্পিউটারাইজড করা হচ্ছে।
আমি চাই, রোগী হাসপাতালে আসার পর এক জায়গা থেকে রেজিস্ট্রেশন, পরীক্ষা, চিকিৎসা ও ওষুধ সবকিছু এক ছাতার নিচে পাক।
প্রশ্ন: আপনি সামরিক বাহিনী থেকে এসেছেন—এই অভিজ্ঞতা কি হাসপাতাল পরিচালনায় সহায়ক হয়েছে?
উত্তর:
অবশ্যই। সামরিক জীবনে আমরা শিখি শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও সময়নিষ্ঠা। হাসপাতালের মতো বিশাল প্রতিষ্ঠানে এই তিনটি বিষয়ই সাফল্যের মূল।
আমি চেষ্টা করি, অফিসে সময়মতো উপস্থিত থাকতে, সবাইকে সময়ের মূল্য বোঝাতে।
চিকিৎসকরা এখন সকাল ৮টার আগেই উপস্থিত হন—এটা আগে কল্পনাই করা যেত না।
প্রশ্ন: হাসপাতালের সেবা নিয়ে সাধারণ মানুষ এখন কী বলছে?
উত্তর:
আমি প্রতিদিন দেখি—রোগী বা স্বজনরা এখন হাসিমুখে ধন্যবাদ দেন। এটা আমার সবচেয়ে বড় অর্জন।
একজন বৃদ্ধ রোগী বলেছিলেন—“স্যার, আগে হাসপাতালের দরজায় ঢুকলে ভয় পেতাম, এখন শান্তি লাগে।”
এই কথাগুলোই আমার কাজের অনুপ্রেরণা।
প্রশ্ন: চট্টগ্রামবাসী আপনাকে এখন ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছে—এটি কি আপনার জন্য বাড়তি দায়িত্ব?
উত্তর:
আমি এই দায়িত্বকে সম্মানের সঙ্গে গ্রহণ করেছি।
চট্টগ্রাম আমার শহর—এই শহরের মানুষ যেন বিশ্বাস করতে পারে, সরকারি হাসপাতালেও মানসম্মত চিকিৎসা পাওয়া যায়, এটাই আমার লক্ষ্য।
এই বিশ্বাস ফিরিয়ে আনা আমার জীবনের বড় চ্যালেঞ্জ এবং সবচেয়ে বড় আনন্দও।
প্রশ্ন: ভবিষ্যতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে আপনি কেমন দেখতে চান?
উত্তর:
আমি চাই, এটি হবে বাংলাদেশের মডেল হাসপাতাল।
যেখানে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের সেবা, মানবিক আচরণ, পরিচ্ছন্নতা, এবং গবেষণার সংস্কৃতি।
আমি এখন থেকেই চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উৎসাহিত করছি।
একটা সময় আসবে, যখন এখানকার ডাক্তাররা শুধু রোগ সারাবেন না, বরং নতুন চিকিৎসা উদ্ভাবনে ভূমিকা রাখবেন।
প্রশ্ন: সাংবাদিকদের জন্য আপনার বার্তা কী?
উত্তর:
সাংবাদিকরা সমাজের আয়না। আমি চাই আপনারা আমাদের কাজের ভালো-মন্দ দুটোই তুলে ধরুন।
কিন্তু সমালোচনাটা যেন হয় গঠনমূলক—যাতে আমরা আরও ভালো করতে পারি।
আমি সবসময় সাংবাদিকদের সহযোগিতা চাই, কারণ জনগণের সেবা আর গণমাধ্যম—দুটিই একে অপরের পরিপূরক।
প্রশ্ন: ব্যক্তিজীবনে আপনি কেমন মানুষ?
উত্তর:
আমি খুব সাধারণ জীবনযাপন পছন্দ করি। নিয়মিত ব্যায়াম করি, বই পড়ি, আর সময় পেলেই রোগীদের সঙ্গে কথা বলি।
আমি বিশ্বাস করি, নেতৃত্ব মানে নির্দেশ দেওয়া নয়—মানুষকে অনুপ্রাণিত করা।
প্রশ্ন: শেষ প্রশ্ন—চট্টগ্রামবাসীর উদ্দেশে কিছু বলবেন?
উত্তর:
আমি চট্টগ্রামবাসীর কাছে শুধু একটা অনুরোধ রাখব—এই হাসপাতাল আপনাদের।
এর পরিচ্ছন্নতা, সেবার মান, শৃঙ্খলা—সবকিছুর দায়িত্ব আমাদের সবার।
আপনারা সহযোগিতা করুন, সঠিক জায়গায় অভিযোগ করুন, আমরা ব্যবস্থা নেব।
আমরা একসঙ্গে কাজ করলে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হবে সত্যিকার অর্থে জনগণের বিশ্বাসের ঠিকানা।
সাক্ষাৎকার-পরবর্তী অনুভব
ব্রিগেডিয়ার জেনারেল তসলিম উদ্দিনের সঙ্গে এক ঘণ্টার এই সাক্ষাৎকার শেষে আমরা বেরিয়ে এলাম হাসপাতালের করিডোরে।
দেখলাম—একজন নার্স বৃদ্ধ রোগীর চেয়ারে ধীরে ধীরে চাদর বিছিয়ে দিচ্ছেন, এক তরুণ চিকিৎসক রোগীর হাতে ওষুধ বুঝিয়ে দিচ্ছেন।
বাইরের দেয়ালে লেখা—
“চিকিৎসা নয়, মানবতা—এটাই আমাদের প্রতিশ্রুতি।”
এই প্রতিশ্রুতি সত্যিই এখন চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রাণশক্তি হয়ে উঠেছে।
মো.কামাল উদ্দিন-
–যুগ্ম সম্পাদক, শিক্ষা নবিশ সাংবাদিক নওরিন সুলতানা-
দৈনিক টুরিস্ট ও চট্রল চিত্র”পত্রিকা
সাক্ষাৎকার গ্রহণের তারিখ: ৫ অক্টোবর ২০২৫, স্থান: পরিচালক কার্যালয়, চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here