
ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা বার্নার্ড জুলিয়েন আর নেই। ৭৫ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন সাবেক এই অলরাউন্ডার। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত ক্যারিবিয়ানদের হয়ে ২৪ টেস্ট ও ১২ ওয়ানডে খেলা জুলিয়েন শনিবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ৫০ বছর আগে, ১৯৭৫ সালে অনুষ্ঠিত হয় ক্রিকেট ইতিহাসের প্রথম বিশ্বকাপ। ওই বৈশ্বিক আসরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন জুলিয়েন। ব্যাট ও বল হাতে দলের শিরোপা জয়ে রেখেছিলেন বড় ভূমিকা। গ্রুপ পর্বে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে লড়াইয়ে পেস বোলিংয়ে স্রেফ ২০ রান দিয়ে ৪ উইকেট নিয়েছিলেন জুলিয়েন। পরে সেমি-ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষেও ৪ শিকার ধরেছিলেন তিনি, খরচ করেছিলেন ২৭ রান। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ১৭ রানে জেতা ফাইনালে উইকেট পাননি জুলিয়েন। তবে দলের ২৯১ রানের পুঁজি গড়ার পথে ব্যাট হাতে খেলেছিলেন ১ চারে ৩৭ বলে অপরাজিত ২৬ রানের ইনিংস। ওয়েস্ট ইন্ডিজের ১৯৭৫ ও ১৯৭৯ বিশ্বকাপ জয়ী অধিনায়ক ক্লাইভ লয়েড ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগো গার্ডিয়ানের সঙ্গে আলাপকালে জুলিয়েনের উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেন। “সে সবসময় শতভাগের বেশি দিয়ে খেলেছে। কখনও কর্তব্য এড়িয়ে যায়নি এবং ব্যাট ও বল হাতে আমি তার ওপর ভরসা করতে পারতাম। প্রতি ম্যাচেই সে তার সেরাটা উজাড় করে দিত। কি দুর্দান্ত এক ক্রিকেটার।” জুলিয়েনের ক্যারিয়ারের আরেকটি বড় অর্জন ছিল ক্রিকেট তীর্থ লর্ডসে টেস্ট সেঞ্চুরি করা। ১৯৭৩ সালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ জেতানো ১২১ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। পরের বছর একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ব্রিজটাউনে ইনিংসে পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন বাঁহাতি এই পেসার। টেস্ট ওই একবারই পেয়েছিলেন পাঁচ উইকেটের স্বাদ। টেস্টে আরেকটি সেঞ্চুরি আছে জুলিয়েনের। ১৯৭৫ সালে করাচিতে ১০১ রান করেছিলেন তিনি। দুই সেঞ্চুরি ও তিন ফিফতিতে টেস্টে ৮৬৬ রান করা জুলিয়েনের নামের পাশে উইকেট ৫০টি। ১৯৫ প্রথম শ্রেণির ম্যাচে ৫ হাজার ৭৯০ রান করেন জুলিয়েন, সেঞ্চুরি তিনটি, ফিফটি ২৭টি। এই সংস্করণে তার শিকার ৪৮৩ উইকেট, ১৫বার পান ইনিংসে পাঁচ উইকেটের স্বাদ, ম্যাচে দশ উইকেট একবার। লিস্ট ‘এ’ ম্যাচ খেলেন ১১৫টি, এক সেঞ্চুরি ও ৩ ফিফটিতে রান করেন ১ হাজার ৪৫০। উইকেট নেন ১৫৩টি। ম্যাচে ৪ উইকেট ছয়বার, ৫ উইকেট দুইবার পান তিনি। ১৯৭০ সালে থেকে ১৯৭৭ সাল পর্যন্ত কেন্টের হয়ে খেলা জুলিয়েনের ক্রিকেট ক্যারিয়ার থেমে যায় ১৯৮২-৮৩ মৌসুমে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিদ্রোহী দলের হয়ে ওই মৌসুমে নিষিদ্ধ দক্ষিণ আফ্রিকা সফরে গিয়েছিলেন তিনি।