কক্সবাজারের রামুতে অটোরিকশাকে ট্রেনের ধাক্কা, পাঁচ যাত্রী নিহত

By Wahed
2 Min Read

আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী

রামুতে ট্রেনের ধাক্কায় সিএনজির পাঁচ যাত্রী নিহত
কক্সবাজারের রামু উপজেলার রশিদনগর রেলক্রসিংয়ে আজ শনিবার দুপুর পৌনে দুইটার দিকে ট্রেনের ধাক্কায় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশার পাঁচ যাত্রী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিনজন নারী ও শিশু এবং একজন পুরুষ চালক রয়েছেন।
দুর্ঘটনার পর এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

রামু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈয়বুর রহমান জানান, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী একটি আন্তঃনগর ট্রেন রশিদনগর এলাকায় পৌঁছালে রেললাইনের ওপর ওঠা একটি অটোরিকশাকে সজোরে ধাক্কা দেয়। ধাক্কা লাগার সঙ্গে সঙ্গেই অটোরিকশাটি ছিটকে পড়ে এবং ঘটনাস্থলেই সবাই মারা যান।

নিহতদের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন—
হাবিব উল্লাহ (৫০), অটোরিকশাচালক

রেনু আরা (৪৫), যাত্রী

আসমা আরা (১৩), রেনু আরার ছোট বোন

আশেক উল্লাহ (৩ বছর), রেনু আরার ছেলে

আতা উল্লাহ (দেড় বছর), রেনু আরার ছোট ছেলে

প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসীরা জানান, রেলক্রসিংটি সম্পূর্ণ অনিরাপদ। সেখানে কোনও গেট বা সিগন্যাল ব্যবস্থা ছিল না। চালকেরা নিজ দায়িত্বে রেললাইন পার হন। তারা আরও বলেন, অটোরিকশাটি যখন রেললাইন পার হচ্ছিল, তখন হঠাৎ করেই ট্রেন চলে আসে। চালক ট্রেন দেখতে পেয়ে বাঁচার চেষ্টা করলেও শেষরক্ষা হয়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে। লাশগুলো উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

রেলওয়ে ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে এবং দুর্ঘটনার কারণ ও দায়ী ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

স্থানীয়দের ক্ষোভ
রশিদনগরের স্থানীয় বাসিন্দা মো. রশিদ বলেন,
“এই রেলক্রসিংয়ে গেট না থাকায় এর আগেও অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসনের টনক নড়ে না। আজ পাঁচটা প্রাণ চলে গেল। এই দায় কে নেবে?”
পরিবারের আহাজারি
নিহত রেনু আরার পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। একটি পরিবার থেকে একসঙ্গে মা, দুই সন্তান এবং বোন—চারজনের প্রাণহানি হৃদয়বিদারক দৃশ্য তৈরি করেছে। এলাকাবাসী, আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের চোখে ছিল শুধু জল। প্রশাসনের বক্তব্য ওসি তৈয়বুর রহমান বলেন,
“এটি অত্যন্ত দুঃখজনক দুর্ঘটনা। আমরা বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করছি। অটোরিকশাটি কীভাবে রেললাইনে উঠে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।” এই দুর্ঘটনা আবারও রেলক্রসিং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। গেট ও সতর্কীকরণ ব্যবস্থা না থাকায় এ ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা বারবার ঘটছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।

Share This Article
Leave a Comment