চট্টগ্রামের সরকারি কমার্স কলেজের গেটে ৩১ মে ২০২৫ তারিখে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে, যা এলাকায় উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার সময় কলেজ গেটে ছাত্রশিবিরের কর্মীরা ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য হেল্পডেস্ক পরিচালনা করছিলেন। এ সময় ছাত্রদল কর্মীরা হেল্পডেস্কে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে, যার ফলে ছাত্রশিবিরের তিনজন আহত হন।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, ভর্তি পরীক্ষার চাপ ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার মধ্যে ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে এক ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছিল। তবে ছাত্রদল এই হেল্পডেস্ককে অবৈধ ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত বলে দাবি করে। অভিযোগ উঠেছে, ছাত্রদল কর্মীরা হঠাৎ করে হেল্পডেস্কে ধাওয়া করে এবং সেখানে থাকা কর্মীদের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু করে। এতে তিনজন ছাত্রশিবির কর্মী আহত হন এবং পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, ছাত্রদল এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানায়, ঘটনার সময় শুধু কথাকাটাকাটি হয়েছে, কোনো মারামারি হয়নি। তারা বলেন, “আমরা কোনো ধরনের সহিংসতা করি নি, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ ছিল।” ছাত্রদলের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়, দুই পক্ষের মধ্যে কথোপকথনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঘটবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ কর্মকর্তা জানান, “এটি মারামারি নয়, সামান্য কথাকাটাকাটির ঘটনা ছিল। আমরা পরিস্থিতি নজরদারিতে রেখেছি এবং শান্তি বজায় রাখতে কাজ করছি।”
সরকারি কমার্স কলেজ চট্টগ্রামের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এটি ১৯৪৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং চট্টগ্রাম শহরের আগ্রাবাদ এলাকায় অবস্থিত। কলেজটি দেশের অন্যতম প্রধান সরকারি কমার্স কলেজ হিসেবে পরিচিত। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য কলেজ কর্তৃপক্ষও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
এই ঘটনার পর থেকে কলেজ প্রশাসন ও স্থানীয় প্রশাসন উভয়ই পরিস্থিতি মনিটর করছে এবং ভবিষ্যতে এমন ধরনের সংঘর্ষ এড়াতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখা এবং শিক্ষার পরিবেশকে সুরক্ষিত রাখা এখন প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে।