সীতাকুণ্ডে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা: ২৪ ঘণ্টায় প্রধান আসামি আরিফসহ গ্রেপ্তার ৬, অস্ত্র উদ্ধার

0
54

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে তারেক হোসেন বাপ্পিকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা এবং তাপসির আলম শাওনকে গুরুতর আহত করার ঘটনায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রধান আসামি মো. আরিফ হোসেনসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। এ সময় হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৬ অক্টোবর রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে সীতাকুণ্ড মডেল থানার বাড়বকুণ্ড ইউনিয়নের অলিনগর তিন রাস্তার মোড়সংলগ্ন পাকা সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, রাতে খাবার খেয়ে তারেক হোসেন বাপ্পি তাঁর বন্ধু ইমনকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে ওই এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া দুর্বৃত্তরা তাঁদের মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে। পরে বাপ্পি ও তাঁর বন্ধুকে মোটরসাইকেল থেকে নামিয়ে মারধর করা হয়।

একপর্যায়ে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন বাপ্পিকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র তাক করেন। অন্যরাও তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করেন। এ সময় ইমন কৌশলে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান। পরে বাপ্পিকে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হলে তিনি গুরুতর আহত হয়ে সড়কে লুটিয়ে পড়েন।

গুলির শব্দ শুনে বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসেন তাপসির আলম শাওন। এ সময় তাঁকেও লক্ষ্য করে গুলি ছোড়া হয় এবং ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে শাওনও গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয় লোকজনের উপস্থিতি টের পেয়ে গুলি ছুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান হামলাকারীরা।

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে নিহত বাপ্পির সঙ্গে প্রধান অভিযুক্ত আরিফ হোসেন ও তাঁর সহযোগীদের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল।

 

পুলিশের দাবি, পূর্ববিরোধের জেরে বাপ্পিকে নিজেদের আধিপত্য বিস্তারের পথে বাধা মনে করে তাঁকে হত্যার পরিকল্পনা করেন অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় ঘটনার দিন অস্ত্র নিয়ে আগে থেকে ঘটনাস্থলে অবস্থান করে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। বাপ্পিকে উদ্ধারে এগিয়ে আসায় শাওনও হামলার শিকার হন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।

 

হত্যাকাণ্ডের পর জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ। ঘটনাস্থলের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. আরিফ হোসেন (২৯), ফখরুল ইসলাম (৩২), আব্দুল মান্নান (২৮), মো. ইফতেখার (৩৫), আরিফুল ইসলাম জাবেদ (২৫) এবং নুর আহাম্মদ রনি।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের কাছ থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি এলজি, একটি রিভলভার ও একটি পিস্তল উদ্ধার করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here