লিওনেল মেসির কাছে বিশ্বকাপের ট্রফি কখনও শেষ গল্প নয়। বরং শিরোপা জয়ের পর তিনি আরও সতর্ক, আরও বাস্তববাদী হয়ে উঠেছেন। ২০২৬ বিশ্বকাপে শিরোপা রক্ষার মিশনে নামার আগে মেসি জানিয়েছিলেন, দল সবকিছু উজাড় করে চেষ্টা করবে; তবে ফুটবলের নির্মম বাস্তবতায় ভাগ্যের গুরুত্বও অস্বীকার করা যাবে না। আগামী শুক্রবার (৫ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের গ্রুপ ড্র। এর আগমুহূর্তে ইএসপিএনকে সাক্ষাৎকারে মেসি বলেন, “হ্যাঁ, জাতীয় দল আবার চেষ্টা করবে, সর্বোচ্চটা দেবে, লড়াই করবে। কিন্তু ছোট ছোট বিষয়ই কখনো কখনো আপনাকে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিতে পারে। বিশ্বকাপ খুবই কঠিন—যেকোনো দল বিপদ সৃষ্টি করতে পারে।” কাতার বিশ্বকাপের উদাহরণ টেনে মেসি স্মরণ করান, শ্রেষ্ঠ পারফরম্যান্সের পরও ভাগ্য পাশে না থাকলে সব শেষ হয়ে যেতে পারে। নেদারল্যান্ডস ও ফ্রান্সের ম্যাচের প্রসঙ্গ দিয়ে তিনি বলেন, “ওই ম্যাচগুলোতে আমরা এগিয়ে ছিলাম, তবু সব শেষ হলো পেনাল্টিতে। তখনও আমাদের ছিল দিবু মার্তিনেজ, কিন্তু সব সময় পেনাল্টিতে জেতা সম্ভব নয়। তাই বিশ্বকাপ জেতা ভীষণ কঠিন।” ৩৮ বছর বয়সী এই তারকা নিজেকে ইতিমধ্যেই ২০২৬ বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনার নেতা হিসেবে প্রস্তুত করছেন। তার বক্তব্যে স্পষ্ট—শিরোপা জয়ের আত্মবিশ্বাস আছে, কিন্তু আত্মতুষ্টি নেই। সাক্ষাৎকারের শেষ ভাগে মেসি তার ক্যারিয়ারের সেরা কোচ হিসেবে বেছে নেন পেপ গার্দিওলাকে। তিনি বলেন, “আমার কাছে পেপ অনন্য। অনেক দারুণ কোচ আছে, কিন্তু তার খেলার ভাবনা, প্রস্তুতি, খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগাযোগ—সব মিলিয়ে সে সেরাদের সেরা। শুধু জেতার জন্য নয়, তার দল যেভাবে খেলেছে, সেটাই তাকে বিশেষ করেছে।” বার্তাটি পরিষ্কার—আর্জেন্টিনা শিরোপা ছাড়তে রাজি নয়। তবে মেসির আর্জেন্টিনা জানে, বিশ্বকাপে শুধু সেরা হওয়াই যথেষ্ট নয়; শেষ হাসির জন্য ভাগ্যও পাশে থাকতে হবে।