বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম আবারও নিচে

0
121

ডলারের মান শক্তিশালী হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম আবারও পতনের মুখে। মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) সকাল পর্যন্ত প্রতি আউন্স স্বর্ণের দাম নেমে এসেছে ৪ হাজার ডলারের নিচে। যুক্তরাষ্ট্রে ডিসেম্বর মাসে আরেক দফা সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা কমে যাওয়া এবং যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্য উত্তেজনা প্রশমিত হওয়ায় বিনিয়োগকারীদের আগ্রহও কিছুটা কমেছে।সকাল ৬টা ২৫ মিনিট পর্যন্ত স্পট গোল্ডের দাম ০.৮ শতাংশ কমে দাঁড়িয়েছে প্রতি আউন্স ৩,৯৭০.৩৯ ডলারে। একই সময়ে ডিসেম্বরে সরবরাহযোগ্য যুক্তরাষ্ট্রের গোল্ড ফিউচারও প্রায় ১ শতাংশ কমে ৩,৯৭৯.৩০ ডলারে লেনদেন হয়। গত তিন মাসের মধ্যে ডলারের মান এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে। ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) সুদের হার কমানো নিয়ে দ্বিধায় থাকায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কে-সিএম ট্রেডের প্রধান বিশ্লেষক টিম ওয়াটারার বলেন, “ডলারের শক্তি এখন স্বর্ণের জন্য প্রধান বাধা। বিনিয়োগকারীরা বছরের শেষের দিকে সুদের হার কমানোর সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করছেন।”গত সপ্তাহে ফেড দ্বিতীয়বারের মতো সুদের হার কমালেও চেয়ারম্যান জেরোম পাওয়েল ইঙ্গিত দিয়েছেন, শিগগিরই আরেক দফা হার কমানো নিশ্চিত নয়। বর্তমানে ডিসেম্বর মাসে সুদের হার কমার সম্ভাবনা ৬৫ শতাংশ ধরা হচ্ছে, যা পাওয়েলের বক্তব্যের আগে ছিল ৯০ শতাংশেরও বেশি। অন্যদিকে, ফেড কর্মকর্তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্নমত দেখা দিয়েছে, যা ডিসেম্বরের বৈঠকের আগে বিতর্ক আরও বাড়াবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি শাটডাউনের কারণে তথ্য প্রকাশে বিলম্ব পরিস্থিতিকে আরও অনিশ্চিত করেছে। সাধারণত সুদের হার কমে গেলে এবং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়লে স্বর্ণের প্রতি চাহিদা বৃদ্ধি পায়। বিনিয়োগকারীরা এখন যুক্তরাষ্ট্রের এডিপি কর্মসংস্থান তথ্য এবং আইএসএম শিল্প সূচকের দিকে নজর রাখছেন। ওয়াটারার বলেন, “যদি এডিপি রিপোর্ট দুর্বল আসে, তাহলে স্বর্ণ আবারও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতায় ফিরতে পারে।” চলতি বছর এখন পর্যন্ত স্বর্ণের দাম বেড়েছে ৫৩ শতাংশ, তবে অক্টোবরের ২০ তারিখের সর্বোচ্চ দামের পর থেকে তা প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে। এদিকে রুপার দাম ১.৩ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪৭.৪৭ ডলারে, প্লাটিনাম ১.১ শতাংশ কমে ১,৫৪৮.১৫ ডলারে এবং প্যালাডিয়াম ২.৮ শতাংশ কমে ১,৪০৪.৬৮ ডলারে নেমে এসেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here