মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম মহানগরীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ থানা ‘চান্দগাঁও’— দীর্ঘদিন ধরে নানা অপরাধ ও সামাজিক বিশৃঙ্খলার ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট, ওসি আফতাব উদ্দিন এই থানার ভার গ্রহণ করার পর থেকে নাটকীয় পরিবর্তন ঘটেছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিতে। তার পেশাদারিত্ব, কঠোর মনোভাব এবং মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়ে থানার কার্যক্রমে এসেছে গতিশীলতা ও স্বচ্ছতা। তার নেতৃত্বে থানা এলাকায় অপরাধ দমন কার্যক্রমে চট্টগ্রামবাসী পেয়েছে দৃশ্যমান সফলতা।
চান্দগাঁও থানায় অপরাধ দমনের নতুন ইতিহাস: মাসভিত্তিক সফল অভিযানে ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে ১৭৮ জন অপরাধী গ্রেফতার –চট্টগ্রামের চান্দগাঁও থানা, এক সময় যেখানকার নির্দিষ্ট কিছু এলাকা মাদক ব্যবসা, ছিনতাই, অস্ত্রবাজি ও চোরচালানের জন্য কুখ্যাত ছিল, সেই এলাকাই এখন জনসচেতনতা ও পুলিশি তৎপরতার ফলে অনেকটাই নিরাপদ। ২০২৪ সালের আগস্টে ওসি আফতাব উদ্দিন দায়িত্ব নেওয়ার পর গত ছয় মাসে এ থানায় যে অপরাধ দমন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে, তা নজিরবিহীন।
মাসভিত্তিক অপরাধ দমন পরিসংখ্যান (নভেম্বর ২০২৪ – এপ্রিল ২০২৫ পর্যন্ত- মোট: মাদক উদ্ধার: প্রায় ১০,৪২৯ পিস ইয়াবা, ৮.৪ কেজি গাঁজা,অস্ত্র: ৭টি আগ্নেয়াস্ত্র/ধারালো অস্ত্র,চোরাই যানবাহন উদ্ধার: ১৩টি মোটরসাইকেল/সিএনজি/ট্রাক,বিশেষ মামলা: ধর্ষণ ৩টি, অপহরণ ২টি, প্রতারণা ২টি,মোট গ্রেফতার: ১৭৮ জন,অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কৌশল ওসি আফতাব উদ্দিনের- ১. ডেটা-ভিত্তিক টার্গেটেড অভিযান: চান্দগাঁওয়ের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে পুলিশি টহল বাড়ানো হয়েছে। ২. গোপন সোর্স ও সিভিল টিম: মাদক ও অস্ত্র ব্যবসায় জড়িতদের শনাক্ত করতে সোর্স নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করা হয়েছে। ৩. স্থানীয়দের সম্পৃক্ততা: বিট পুলিশিং কার্যক্রমে ওসি নিজে অংশগ্রহণ করেন, যার ফলে জনগণের আস্থা বেড়েছে। ৪. দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে আইনগত পদক্ষেপ: অধিকাংশ গ্রেফতারকৃত আসামিকে চার্জশিটসহ দ্রুত আদালতে প্রেরণ করা হয়। ৬ মাসের এই সময়ে মোট ১৭৮ জন আসামী গ্রেফতার হয়েছে বিভিন্ন অপরাধে। এর মধ্যে: মাদক: ১০,৪২৯ পিস ইয়াবা, ৮.৪ কেজি গাঁজা, মাদক বিক্রয়ের ৫,৫০০০০ টাকারও বেশি নগদ অর্থ উদ্ধারসহ ৪৬ জন আসামী গ্রেফতার। অস্ত্র: বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিনসহ গুলি, ধারালো দা, কিরিচ, ছোরা, চেইনচাবুকসহ অস্ত্রসহ গ্রেফতার ৩০ জন। চুরি ও ডাকাতি: ১৩টি চোরাইকৃত মোটরসাইকেল ও মিনি ট্রাক/বাস উদ্ধার, মোট ৫৭ জন চোর ও ছিনতাইকারী গ্রেফতার। প্রতারণা ও ধর্ষণ: গণধর্ষণ মামলায় গ্রেফতার ৪ জন, প্রতারণা মামলায় উদ্ধারকৃত সিএনজি ও নগদ অর্থসহ আসামী গ্রেফতার। অপহরণ: উদ্ধার ১ জন ভিকটিম, গ্রেফতার ২ জন অপরাধী। এই পরিসংখ্যানগুলো থেকেই স্পষ্ট— ওসি আফতাব উদ্দিন থানার সাধারণ কার্যক্রমকেই নয়, বরং অপরাধ দমনের প্রতিটি পর্যায়ে সফল পরিকল্পনা ও তৎপরতা অবলম্বন করেছেন। তার অধীনে থানার পুলিশ সদস্যরা রাতদিন পরিশ্রম করে জনবান্ধব পুলিশিংয়ের নতুন নজির স্থাপন করছেন।
আইজিপি ব্যাজ ও সিএমপির সেরা ওসি নির্বাচিত
দুইবার সিএমপির সেরা ওসি নির্বাচিত হওয়ার পাশাপাশি ২০২৪ সালে পুলিশের সর্বোচ্চ মর্যাদাপূর্ণ “আইজিপি ব্যাজ” অর্জন করেছেন আফতাব উদ্দিন। তার এ অর্জন শুধু চান্দগাঁও থানার নয়, পুরো চট্টগ্রাম পুলিশের জন্য গর্বের বিষয়।
এই সাফল্যের পেছনে যিনি ছায়াসঙ্গী — পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ –চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেব নিজেই একজন দক্ষ প্রশাসক ও সুশাসনের প্রতীক। তার দূরদর্শী নেতৃত্ব, নিরপেক্ষ দিকনির্দেশনা ও কঠোর শৃঙ্খলা প্রয়োগের ফলেই আজ চট্টগ্রামের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বাংলাদেশের অন্যান্য শহরের তুলনায় অধিক নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ। তিনি ওসিদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দিয়েছেন, অথচ দায়িত্বে কোনোরূপ অবহেলা হলে ন্যূনতম ছাড় দেন না।
হাসিব আজিজ সাহেব ও আফতাব উদ্দিনের যৌথ প্রচেষ্টায় এখন চট্টগ্রাম মহানগরীতে মাদকের আখড়া ও অস্ত্রধারীদের অবাধ দৌরাত্ম্য অনেকটাই সীমিত হয়ে এসেছে।
অপপ্রচারের বিরুদ্ধে স্পষ্ট বার্তা
দুঃখজনক হলেও সত্য— কিছু নামসর্বস্ব তথাকথিত সাংবাদিক ও পক্ষপাতদুষ্ট মহল এই সফল পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে। অথচ এই সমাজে যেসব পুলিশ কর্মকর্তারা সত্যিকার অর্থে দেশের জন্য নিরলস পরিশ্রম করেন, তাদের পাশে দাঁড়ানো, তাদের সাহস যোগানো আমাদের দায়িত্ব। অবশ্যই যদি কারও বিরুদ্ধে সত্যিকারের অভিযোগ থাকে, তদন্ত হোক, বিচার হোক। কিন্তু কেবল ঈর্ষাবশত ভালো কাজের স্বীকৃতিকে দমন করা কখনোই উচিত নয়।
ওসি আফতাব উদ্দিন ও পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ — এই দুই জনের নেতৃত্ব চট্টগ্রাম মহানগরকে অপরাধমুক্ত এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। জনসচেতনতা, পুলিশি তৎপরতা ও পেশাদার নেতৃত্বের এমন মেলবন্ধন থাকলে ভবিষ্যতে চট্টগ্রামই হতে পারে বাংলাদেশের মডেল সিটি ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড সেফটি।
