
চট্টগ্রামের রাউজানে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত একটি সংঘবদ্ধ অপরাধীচক্রের বিরুদ্ধে পুলিশের অভিযানে গুলিবিনিময়ের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থল থেকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় দিদার হোসেন (৩৭) নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় বিপুল পরিমাণ আগ্নেয়াস্ত্র, গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধারের কথা জানিয়েছে পুলিশ। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টা ৪০ মিনিটের দিকে রাউজান থানাধীন ৮ নম্বর কদলপুর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ কদলপুর জয়গির বড়ুয়া পাড়া এলাকায় এ অভিযান চালানো হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে মোঃ জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম এবং মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বসের নেতৃত্বে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছে চাঁদা দাবি ও আদায় করে আসছিল। সর্বশেষ ২৫ সেপ্টেম্বর তারা আবু বক্কর চৌধুরীর বাড়িতে গিয়ে চাঁদা দাবি করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি যাচাই করে সত্যতা পাওয়ার পর চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তারে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মোঃ মাসুদ আলম, বিপিএম রাউজান থানা পুলিশকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় বুধবার রাতে জানে আলম ওরফে ডাকাত আলমের বসতঘরের সামনে অভিযান পরিচালনা করে পুলিশ। পুলিশের দাবি, অভিযানের সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে বসতঘরের ভেতরে থাকা জানে আলম ওরফে ডাকাত আলম (৪২), মোহাম্মদ আজিজ ওরফে আজিজ বস (৫২), দিদার হোসেন (৩৭), মোঃ রুবেল (২৭), মোঃ মামুন-অর-রশিদ ওরফে মামুন (৩৫) এবং মোঃ বাঁচা (৪৫)সহ কয়েকজন পুলিশকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এ সময় আত্মরক্ষার্থে পুলিশও পাল্টা গুলি চালায়। এতে এসআই (নিরস্ত্র) মোঃ জান্নাতুন নাঈম রাজন, এসআই মোঃ নোবনেদ আলম, এসআই মোঃ রায়েজিদ মৃধা, এসআই মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, এএসআই মোঃ জুয়েল চন্দ্র বিশ্বাস, এএসআই মোঃ রফিউল হোসেনসহ মোট ১২ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। অভিযান চলাকালে দিদার হোসেনকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় আটক করা হয়। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অন্যরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার দিদার হোসেনের হেফাজত ও তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে—

পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তি ও পলাতক সহযোগীদের সংঘবদ্ধ ও অস্ত্রধারী অপরাধী হিসেবে বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ২৯ সেপ্টেম্বর গভীর রাতে কদলপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে তিনজনকে অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি এলজি, দুই রাউন্ড সীসা কার্তুজ, একটি রামদা ও একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডাকাতির প্রস্তুতি ও অস্ত্র আইনে দুটি পৃথক মামলা করা হয়। অন্যদিকে, ফটিকছড়িতে মন্দিরে চুরির পৃথক ঘটনায় চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশ জানায়, গত ২২ সেপ্টেম্বর ভোরে ফটিকছড়ি থানার সুন্দরপুর ইউনিয়নের সার্বজনীন শ্রী শ্রী শিব ও মগধেশ্বরী মন্দির এবং ৩০ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক ২টার দিকে বেলখাং ইউনিয়নের শ্রী শ্রী মা মনসা চণ্ডী মন্দিরে চুরির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। তদন্তের পর পুলিশ চুরি হওয়া বিভিন্ন মালামালের মধ্যে পিতলের ঘট, পঞ্চপাত্র, শিশি, ঘণ্টা, পিতলের সই, স্টিলের প্লেট, চামচ, পিতলের বড় ঘট, কোষা, বদনা, কাসার গামলা, গ্লাস, পিতলের থালা, আরতি, দুর্গামূর্তি, পিতলের বাটি, প্রণামী বাক্সের ১ হাজার ২০০ টাকা এবং আসামিদের ব্যবহৃত একটি সিএনজি উদ্ধার করে। পুলিশের দাবি, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বিভিন্ন মসজিদ ও মন্দিরের দানবাক্স ভেঙে চুরির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। গ্রেপ্তার চারজন হলেন—মোঃ ইউসুফ (৩২), মোঃ হানেম (৪২), মোঃ সাহাব উদ্দিন (৪১) ও রুহুল আমিন (২৯)। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।