মো. কামাল উদ্দিন:
চট্টগ্রামকে ভালোবাসি বললেই চট্টগ্রামের জন্য কাজ করা হয় না। চট্টগ্রামের জন্য কাজ করতে হলে অনেক সময় জনপ্রিয়তার পথ ছেড়ে কঠিন সিদ্ধান্তের পথে হাঁটতে হয়। কখনো সেই সিদ্ধান্তে কেউ খুশি হবে, কেউ ক্ষুব্ধ হবে, কেউ প্রশ্ন তুলবে, আবার কারও স্বার্থে আঘাত লাগলে প্রতিবাদের আড়ালে ব্যক্তিগত আক্রমণও আসতে পারে।
কিন্তু একটি প্রশ্ন আজ চট্টগ্রামবাসীর বিবেকের কাছে রেখে যেতে চাই— আমরা কি এমন একজন নগর প্রশাসক চাই, যিনি কারও বিরাগভাজন না হয়ে নিশ্চুপ থাকবেন, নাকি এমন একজন দায়িত্বশীল কর্তৃপক্ষ চাই, যিনি আইন, পরিকল্পনা ও জনস্বার্থের প্রশ্নে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস দেখাবেন?
এই প্রশ্নটি আজ আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনকে ঘিরে।
আমি কোনো ব্যক্তির অন্ধ প্রশংসা করতে চাই না। সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের মূল্যায়নও ব্যক্তিগত সম্পর্কের ভিত্তিতে হওয়া উচিত নয়। কিন্তু চট্টগ্রামের স্বার্থে এটুকু অবশ্যই বলা যায়—একজন সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে তার জবাব অভিযোগ, তথ্য ও প্রমাণের মাধ্যমে হতে হবে; ব্যক্তিগত জীবন, ছবি বা ভিডিওকে অস্ত্র বানিয়ে সামাজিক বিচারে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা কোনো সভ্য সমাজের পথ হতে পারে না। চট্টগ্রাম কি আবারও অপরিকল্পিত নগরীর বোঝা বহন করবে? চট্টগ্রামের বর্তমান বাস্তবতা কারও অজানা নয়।
জলাবদ্ধতা, খাল-নালা দখল, অপরিকল্পিত ভবন, অনুমোদনবহির্ভূত নির্মাণ, পাহাড় ও জলাশয়ের ওপর চাপ, অপরিকল্পিত ভূমি ব্যবহার, যানজট এবং নগর সম্প্রসারণের সঙ্গে প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর সমন্বয়হীনতা—এসব সমস্যা একদিনে তৈরি হয়নি। তাই সমাধানও একদিনে সম্ভব নয়। এই বাস্তবতায় সিডিএর সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো—আজকের চট্টগ্রামকে সামলানোর পাশাপাশি আগামী ২০ থেকে ৩০ বছরের চট্টগ্রামের ভিত্তি তৈরি করা। সিডিএ বর্তমানে ২০২৫ থেকে ২০৫০ মেয়াদের নতুন মহাপরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে। খসড়া পরিকল্পনায় মহানগরের বাইরের আনোয়ারা, পটিয়া, বোয়ালখালী, রাউজান ও হাটহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে। পরিকল্পনায় ভূমি ব্যবহার, পরিবহন, যোগাযোগ, জলাবদ্ধতা, আবাসন, পরিবেশ, পাহাড়, নদী, খাল, পুকুর, জলাশয়, শিল্প ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয়ের বিষয় রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিকদের মতামত, আপত্তি ও সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এটি নিছক একটি প্রশাসনিক কাগজ নয়। এটি বাস্তবায়িত হলে আগামী প্রজন্মের চট্টগ্রাম কোন পথে এগোবে, তার একটি কাঠামো তৈরি হতে পারে। সুতরাং এই পরিকল্পনা নিয়ে বিতর্ক হতেই পারে। সমালোচনা হতেই পারে। নাগরিকের আপত্তি থাকতেই পারে। কিন্তু সেই আলোচনা হওয়া উচিত পরিকল্পনার তথ্য, মানচিত্র, ভূমি ব্যবহার, পরিবেশগত প্রভাব, পরিবহন ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়নযোগ্যতার ওপর।
ব্যক্তিগত আক্রমণের ওপর নয়। কঠিন সিদ্ধান্তের জায়গাতেই একজন চেয়ারম্যানের পরীক্ষা। ২০২৬ সালের জুনে দায়িত্ব নেওয়ার পর সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন অবৈধ দখল, অনিয়ম ও দীর্ঘদিনের স্থবিরতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের কথা প্রকাশ্যে বলেছেন। তিনি সিডিএকে জনবান্ধব, জবাবদিহিমূলক ও গতিশীল প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্য ব্যক্ত করেন। একই সময়ে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের বিভিন্ন খাল ও চলমান প্রকল্প পরিদর্শন করেন। জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের আওতায় অবৈধ স্থাপনা ও দখল উচ্ছেদের প্রয়োজনীয়তার কথাও তিনি বলেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী প্রকল্পের ৩৬টি খালের মধ্যে ৩০টির কাজ সম্পন্ন হয়েছিল এবং অবশিষ্ট কাজও এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্য ছিল।
এখানেই প্রশ্ন আসে— যে অবৈধ স্থাপনা একটি খালের স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ করে দেয়, সেটি যদি উচ্ছেদ করতে হয়, তাহলে কারও না কারও অসন্তোষ হবেই।
যে ভবন অনুমোদিত নকশার বাইরে নির্মিত হয়েছে বলে কর্তৃপক্ষের তদন্তে প্রমাণিত হয়, তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির আপত্তি থাকতেই পারে।
যে দখল বছরের পর বছর ধরে চলে এসেছে, সেটি উচ্ছেদের উদ্যোগ নিলে স্বার্থসংশ্লিষ্ট মহলের চাপ আসতেই পারে। কিন্তু চাপ আসবে বলে কি নগর আইন প্রয়োগ বন্ধ থাকবে?
অবশ্যই নয়। আবার এর বিপরীত কথাটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ— আইন প্রয়োগের নামে বৈধ নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ন করা যাবে না। অর্থাৎ চট্টগ্রামের জন্য প্রয়োজন কঠোরতা ও ন্যায়সংগততার সমন্বয়। চেয়ারম্যানের কাজের সমালোচনা করুন, কিন্তু ব্যক্তিকে অপমান করবেন না আমি মনে করি, প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের যেকোনো সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তোলার অধিকার নাগরিকের আছে। সাংবাদিকের প্রশ্ন করার অধিকার আছে। নাগরিক সংগঠনের প্রতিবাদ করার অধিকার আছে। ভুক্তভোগীর আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার আছে।
আদালতে যাওয়ার অধিকার আছে। কিন্তু একটি গণতান্ত্রিক সমাজে কাজের সমালোচনা আর ব্যক্তিগত চরিত্রহনন এক বিষয় নয়। কোনো সরকারি কর্মকর্তার সিদ্ধান্ত ভুল মনে হলে সেই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে তথ্য দিন। নথি দেখান। আইন দেখান। প্রমাণ উপস্থাপন করুন। প্রয়োজনে আদালতের দ্বারস্থ হন। কিন্তু ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিওকে সামাজিক বিচারের হাতিয়ার বানিয়ে দেওয়া কোনো সুস্থ নাগরিক আন্দোলনের ভাষা হতে পারে না। আইন কী বলে? বাংলাদেশের প্রচলিত দণ্ডবিধির ৪৯৯ ধারায় কোনো ব্যক্তির সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে বা এমন ক্ষতি হবে জেনেও কোনো অভিযোগ বা আরোপ প্রকাশ করাকে নির্দিষ্ট ব্যতিক্রম সাপেক্ষে মানহানির আওতায় বিবেচনা করা হয়েছে। একই আইনে সরকারি কর্মচারীর সরকারি দায়িত্ব পালনের বিষয়ে সৎ বিশ্বাসে মতামত প্রকাশের একটি ব্যতিক্রমও রয়েছে। অর্থাৎ জনস্বার্থে সমালোচনা এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মানহানি—দুটিকে আইন এক করে দেখে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, বর্তমান আইনি কাঠামোতে সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ কার্যকর রয়েছে। সরকারি আইনভান্ডারের তথ্য অনুযায়ী, এই আইন ১০ এপ্রিল ২০২৬ প্রণীত এবং ২১ মে ২০২৫ থেকে কার্যকর বলে গণ্য করা হয়েছে। এই আইনের ২৫ ধারায় ব্ল্যাকমেইলিং, যৌন হয়রানি, রিভেঞ্জ পর্ন, সেক্সটর্শনসহ নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে ক্ষতিকর ভিডিও, ছবি বা ডিজিটাল উপাত্ত প্রকাশ বা প্রচারের বিষয়কে অপরাধ হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। একই আইনে সাইবার স্পেসে প্রতারণা ও তথ্য বিকৃতির বিষয়েও বিধান রয়েছে। তবে একটি বিষয় পরিষ্কার রাখা জরুরি— প্রতিটি ব্যক্তিগত ছবি বা ভিডিও প্রকাশ স্বয়ংক্রিয়ভাবে একই অপরাধের মধ্যে পড়ে না। কীভাবে ভিডিওটি সংগ্রহ করা হয়েছে, কী উদ্দেশ্যে প্রচার করা হয়েছে, সেটি সম্পাদিত বা বিকৃত কি না, তাতে হুমকি বা ব্ল্যাকমেইলের উপাদান আছে কি না, কারও সুনাম ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্য ছিল কি না—এসব বিষয় তদন্ত ও প্রমাণের মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে। এ কারণেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিচার নয়, আইনের বিচার প্রয়োজন। অপপ্রচারের অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক—কিন্তু অভিযোগও হোক প্রমাণভিত্তিক কেউ যদি দাবি করেন যে চেয়ারম্যানকে হেয় করার উদ্দেশ্যে কোনো ভিডিও ছড়ানো হয়েছে, তাহলে সেই দাবিরও তদন্ত প্রয়োজন। কেউ যদি বলেন ভিডিওটি সম্পাদিত বা বিকৃত, তাহলে মূল ভিডিও, উৎস, প্রকাশের সময়, অ্যাকাউন্ট, ডিজিটাল ফরেনসিক তথ্য—সবকিছু পরীক্ষা করা যেতে পারে। আবার কেউ যদি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে গুরুতর কোনো অভিযোগ করেন, সেই অভিযোগও একইভাবে তদন্তযোগ্য। কারণ আইনের শাসনের সৌন্দর্য এখানেই— আইন কারও পক্ষে নয়, কারও বিপক্ষেও নয়; আইন সত্য ও প্রমাণের পক্ষে।
চট্টগ্রামের স্বার্থে আমাদের অবস্থান কী হওয়া উচিত? আমার বিবেক বলে, চট্টগ্রামের মানুষকে এখন ব্যক্তি নিয়ে উত্তেজিত হওয়ার চেয়ে চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ নিয়ে বেশি কথা বলতে হবে। আমরা চাই— চট্টগ্রামের খালগুলো দখলমুক্ত হোক। জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান হোক। নির্মাণ আইন কার্যকর হোক। পাহাড় ও জলাশয় রক্ষা হোক। নগরীর পরিবহনব্যবস্থা পরিকল্পিত হোক। অপরিকল্পিত ভবন নির্মাণ বন্ধ হোক। নতুন আবাসিক ও বাণিজ্যিক এলাকা পরিকল্পনার আওতায় আসুক। উন্নয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত হোক। এবং সর্বোপরি— চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ যেন ব্যক্তিগত স্বার্থের কাছে পরাজিত না হয়। এই কাজগুলো করতে গিয়ে সিডিএ চেয়ারম্যানের কোনো সিদ্ধান্ত ভুল হলে নাগরিক সমাজ তার সমালোচনা করবে। সাংবাদিকরা প্রশ্ন করবেন। বিশেষজ্ঞরা মত দেবেন। প্রয়োজনে আদালত সিদ্ধান্ত দেবে। কিন্তু যদি কোনো সিদ্ধান্ত আইনসম্মত ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট হয়, তাহলে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রমণ বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচারণার কারণে সেই কাজ থেমে যাওয়া উচিত নয়। একজন চেয়ারম্যানকে দেবতা বানানোর দরকার নেই, আবার শত্রুও বানানোর দরকার নেই। আমাদের সমাজে একটি বিপজ্জনক প্রবণতা তৈরি হয়েছে—কোনো কর্মকর্তা ভালো সিদ্ধান্ত নিলে তাকে অতিরিক্ত প্রশংসা করা, আর কোনো সিদ্ধান্তে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হলে তাকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ করা। দুটিই ভুল। চট্টগ্রামের একজন নাগরিক হিসেবে আমার প্রত্যাশা আরও সহজ— চেয়ারম্যান কাজ করুন, জনগণ দেখুক। চেয়ারম্যান সিদ্ধান্ত নিন, তথ্য প্রকাশ হোক। চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকুক, তদন্ত হোক। অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা হোক। অভিযোগ মিথ্যা হলে সেটিও পরিষ্কার হোক। কিন্তু চট্টগ্রামের উন্নয়ন যেন কোনোভাবেই থেমে না যায়। বেলায়েত হোসেনের আসল পরিচয় নির্ধারণ করবে তাঁর কাজ। প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের সবচেয়ে বড় পরিচয় কোনো প্রশংসা, কোনো সমালোচনা, কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভিডিও কিংবা কোনো রাজনৈতিক পরিচয় হওয়া উচিত নয়। তাঁর সবচেয়ে বড় পরিচয় হওয়া উচিত—সিডিএ চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি চট্টগ্রামের জন্য কী রেখে গেলেন। তিনি যদি নগর পরিকল্পনাকে কার্যকর করতে পারেন, উন্নয়ন প্রকল্পকে গতিশীল করতে পারেন, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী অগ্রগতি আনতে পারেন, নির্মাণ আইন প্রয়োগে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারেন এবং ২০২৫–২০৫০ মহাপরিকল্পনাকে বাস্তবভিত্তিক ও জনসম্পৃক্ত করতে পারেন, তাহলে চট্টগ্রামবাসী তার মূল্যায়ন করবে। আর কোথাও ভুল হলে নাগরিক সমাজ প্রশ্ন করবে। এটাই স্বাভাবিক। এটাই গণতান্ত্রিক পথ। চট্টগ্রামবাসীর প্রতি আমার আহ্বান। আসুন, আমরা কোনো ব্যক্তির পক্ষে অন্ধ হয়ে নয়—চট্টগ্রামের পক্ষে দাঁড়াই। কোনো চেয়ারম্যানের ব্যক্তিগত জীবনের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়—তাঁর সরকারি দায়িত্ব ও সিদ্ধান্তের তথ্যভিত্তিক মূল্যায়নের পক্ষে দাঁড়াই। কোনো গোষ্ঠীর অপপ্রচারের পক্ষে নয়—সত্য, প্রমাণ ও আইনের পক্ষে দাঁড়াই। যারা চট্টগ্রামের উন্নয়ন চান, তারা প্রশ্ন করুন। যারা সিডিএর সিদ্ধান্তে অনিয়ম দেখেন, তারা তথ্য দিন। যারা অবৈধ নির্মাণের শিকার, তারা আইনগত প্রতিকার চান। যারা চেয়ারম্যানের সিদ্ধান্তকে ভুল মনে করেন, তারা যুক্তি দিন। কিন্তু ব্যক্তিগত ছবি, ভিডিও, গুজব, অর্ধসত্য ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিচারকে যেন আমরা সত্যের বিকল্প বানিয়ে না ফেলি। কারণ আজ যদি একজন সরকারি কর্মকর্তা জনস্বার্থে কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার সাহস হারান, আগামীকাল অন্য কোনো কর্মকর্তা আরও বড় জনস্বার্থের সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দশবার ভাববেন। আর তার মূল্য দিতে হবে আমাদেরই। শেষ কথা- চট্টগ্রাম আজ একটি সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। একদিকে অপরিকল্পিত নগরায়নের পুরোনো বোঝা, অন্যদিকে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য পরিকল্পিত নগর গড়ার সুযোগ। একদিকে দখল, অনিয়ম ও নকশাবহির্ভূত নির্মাণের অভিযোগ; অন্যদিকে আইন ও পরিকল্পনার ভিত্তিতে নগর ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার প্রয়োজন।এই মুহূর্তে আমাদের সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বিবেক, তথ্য, সাহস এবং আইনের শাসন। প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেনের প্রতিটি পদক্ষেপের মূল্যায়ন হোক। প্রশ্ন থাকলে প্রশ্ন উঠুক।
অভিযোগ থাকলে তদন্ত হোক। ভুল হলে সংশোধন হোক। অন্যায় হলে ব্যবস্থা হোক। কিন্তু চট্টগ্রামের উন্নয়ন থামিয়ে দেওয়ার মতো কোনো ব্যক্তিগত অপপ্রচার, গুজব বা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা যেন জনস্বার্থের ওপর স্থান না পায়। চট্টগ্রাম কোনো ব্যক্তির নয়—চট্টগ্রাম চট্টগ্রামবাসীর। আর চট্টগ্রামের ভবিষ্যৎ রক্ষার দায়িত্বও আমাদের সবার। তাই আজ প্রয়োজন কাউকে অন্ধভাবে সমর্থন করা নয়; প্রয়োজন একজন দায়িত্বশীল নগর কর্তৃপক্ষকে তাঁর কাজ করার সুযোগ দেওয়া এবং একই সঙ্গে তাঁর কাজকে তথ্য, আইন, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির কঠিন মানদণ্ডে বিচার করা।
চট্টগ্রামের স্বার্থে—ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়, অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াই। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে নয় শুধু, সত্যের পক্ষেও দাঁড়াই। কোনো ব্যক্তির জন্য নয়, চট্টগ্রামের ভবিষ্যতের জন্য কথা বলি।
লেখকঃ সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক
সাধারণ সম্পাদক, চট্টগ্রাম সিনিয়র'স প্রেসক্লাব
মহাসচিব, বৃহত্তর চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম