চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় জাহেদুল আলম (৩৩) ওরফে ‘পিচ্চি জাহিদ’ হত্যা মামলায় এজাহারনামীয় ১২ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে চট্টগ্রাম জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মো. আজাদ আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। গত ৩০ আগস্ট রাত আনুমানিক ১০টার দিকে সাতকানিয়া থানার পুরানগড় ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাজালিয়া-শীলঘাটা সড়কের ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় জাহেদুল আলমকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায় জাহেদুলের সঙ্গে থাকা মো. ওয়াহিদ (২৫)ও আহত হন। পুলিশ জানায়, পুরানগড় ইউনিয়ন পরিষদের সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ এবং এ-সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশকে কেন্দ্র করে জাহেদের সঙ্গে কয়েকজনের বিরোধের সৃষ্টি হয়। ওই ভিডিও জয়নাল আবেদীন মানিক সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন বলে জানানো হয়েছে। ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে পুরানগড় নতুন হাট এলাকায় জাহেদুলকে মারধর করে ভিডিও প্রকাশের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পরে রাত ১০টার দিকে তিনি মো. ওয়াহিদকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে বাজালিয়া স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় ভাঙ্গারগোড়া এলাকায় গাছের গুঁড়ি ও ভ্যানগাড়ি দিয়ে তাদের পথরোধ করা হয়। এ সময় একদল ব্যক্তি দা, কিরিচ, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে জাহেদুলের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় নিহতের মা মনোয়ারা বেগম ২ সেপ্টেম্বর সাতকানিয়া থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় ১৩ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫ থেকে ৬ জনকে আসামি করা হয়। ঘটনাটিকে গুরুত্ব দিয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার মো. মাসুদ আলম, বিপিএমের সার্বিক নির্দেশনায় আসামিদের গ্রেপ্তার ও হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে অভিযান শুরু করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। গোয়েন্দা নজরদারির মাধ্যমে আসামিদের সম্ভাব্য অবস্থান শনাক্তের পর অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানের একপর্যায়ে পাহাড়তলী থানা এলাকা থেকে মো. আজাদ ও মো. হেলালকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মামলার কয়েকজন আসামি ঢাকায় আত্মগোপনে থাকার তথ্য পেয়ে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক দল ঢাকায় অভিযান চালায়। এর ধারাবাহিকতায় ১৪ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টার দিকে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে মামলায় এজাহারনামীয় মোট ১২ আসামি গ্রেপ্তার হয়েছেন। গ্রেপ্তার আসামিরা হলেন—জসিম উদ্দিন (৫০), জয়নাল আবেদীন মানিক (২৬), মো. রিদুয়ান (২৬), মো. টিপু (৩৫), আবু মাজহারুল ইসলাম ইফাজ (২০), আব্দুল্লাহ আল তুষার (৩০), খোরশেদ আলম ওরফে ফারুক (৫২), মো. রবিউল হোসেন (২১), আবুল কাশেম (৩৮), হাবিবুর ইসলাম ওরফে হাবিব (২৮), মো. হেলাল ও মো. আজাদ। পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার মো. আজাদকে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। গ্রেপ্তার আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদ, আদালতে দেওয়া জবানবন্দি এবং তদন্তে পাওয়া অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে ঘটনায় জড়িত অবশিষ্ট আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।