
মোবারক হোসেন ওরফে ডেভিড ইমন চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার কাঞ্চননগর এলাকার বাসিন্দা এবং মো. মুসার ছেলে। পুলিশের তথ্যমতে, তিনি ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ নগরের বাকলিয়া এলাকায় সংঘটিত আলোচিত জোড়া হত্যা মামলার অন্যতম আসামি। এছাড়া একই বছরের ২৩ মে রাতে পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সংঘটিত সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যা মামলাতেও তাঁর নাম রয়েছে। এসবসহ বিভিন্ন অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা বিচারাধীন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দাবি, ডেভিড ইমন আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারে অত্যন্ত দক্ষ এবং তাঁর নিয়ন্ত্রণে ১৫ থেকে ২০টি অস্ত্র ছিল বলে গোয়েন্দা তথ্য রয়েছে। বাকলিয়ার জোড়া হত্যা মামলায় হামলাকারী সন্ত্রাসীদের সমন্বয় এবং মোটরসাইকেল সরবরাহের দায়িত্বও তিনি পালন করেছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিদেশে অবস্থানরত শীর্ষ সন্ত্রাসী বড় সাজ্জাদের হয়ে বর্তমানে চট্টগ্রামে অপরাধচক্র পরিচালনায় নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন দুজন। তাঁদের একজন ছিলেন ডেভিড ইমন, অন্যজন মোহাম্মদ রায়হান। এর আগে একই চক্রের নেতৃত্বে ছিলেন ছোট সাজ্জাদ, যিনি বর্তমানে কারাগারে রয়েছেন। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বড় সাজ্জাদের সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কে অন্তত ৫০ জন শুটার ও সহযোগী সক্রিয় রয়েছে। এই চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন ব্যক্তি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে নিয়মিত চাঁদা দাবি করত বলে অভিযোগ রয়েছে। যদিও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে, দীর্ঘদিন ধরেই এই চক্রের মূল সদস্যদের গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার হওয়া ডেভিড ইমন ও তাঁর সহযোগীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রটির অন্যান্য সদস্যদেরও আইনের আওতায় আনার অভিযান অব্যাহত থাকবে।