প্রিন্ট এর তারিখঃ জুলাই ১৬, ২০২৬, ৪:৩৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১৫, ২০২৬, ১২:০৯ পি.এম
চাঁদা না পেয়ে ইন্টারনেট প্রতিষ্ঠানে হামলা-লুটপাট: সিএমপির অভিযানে গ্রেফতার ৮
চট্টগ্রাম নগরীতে চাঁদার দাবি পূরণ না হওয়ায় একটি ইন্টারনেট সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করেছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। সিএমপির চকবাজার থানা, একাধিক চৌকশ টিম এবং র্যাব-৭ এর যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়। পুলিশ জানায়, দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রামে ইন্টারনেট সেবা দিয়ে আসা ডিজিটাল ডট নেট (ডিডিএন) প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারীর কাছে গত ১১ জুলাই হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজেকে "ডেবিড ইমন" পরিচয় দিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় এককালীন ২ কোটি টাকা এবং পরবর্তীতে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে প্রতিষ্ঠানটির মালিককে বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৩ জুলাই দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চকবাজার থানার মনুমিয়াজী লেইন এলাকায় অবস্থিত মরিয়ম হাইটস ভবনের তৃতীয় তলায় ডিডিএনের কার্যালয়ে ৩০ থেকে ৪০ জনের একটি সশস্ত্র দল পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায়। হামলাকারীরা অফিসে ঢুকে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভয়ভীতি দেখিয়ে কম্পিউটার, ল্যাপটপ, প্রিন্টার, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, আসবাবপত্র, গ্লাসের দরজাসহ বিভিন্ন মালামাল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
এছাড়া হামলাকারীরা অফিস থেকে ৪৭ হাজার টাকা নগদ, তিনটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন, একটি ক্যানন প্রিন্টার এবং প্রতিষ্ঠানের পরিচালক অরিফুল ইসলামের কাঁধের ব্যাগ নিয়ে যায়। ওই ব্যাগে কর্মচারীদের বেতন পরিশোধের জন্য রাখা আনুমানিক ৩৫ লাখ টাকা ছিল বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় চকবাজার থানায় মামলা দায়ের করা হলে সিএমপি পুলিশ কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর নির্দেশনায় গত ১৪ জুলাই রাতভর নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিএমপির একাধিক টিম, চকবাজার থানা পুলিশ ও র্যাব-৭। অভিযানে ঘটনায় জড়িত মো. ইউনুস (৪১), ইমরান হোসেন চ্যাং (৩১), আকবর হোসেন (২৪), মো. সুমন (২৭), মো. মনির ওরফে কেহেরমান (৩৮), মো. গিয়াস উদ্দিন (২১), মো. নয়ন (২০) এবং মোহাম্মদ আবদুল নাহিদ ওরফে ফরহাদ (২৮)-কে গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার তদন্ত চলমান রয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গ্রেফতার হওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, অস্ত্র, মাদক, মানবপাচার, ছিনতাই, চোরাচালান, ডাকাতি ও অন্যান্য অপরাধে একাধিক মামলা রয়েছে। বিশেষ করে ইমরান হোসেন চ্যাংয়ের বিরুদ্ধে ১২টি এবং মো. নয়নের বিরুদ্ধে ৮টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।এদিকে, মামলার আরও একজন অভিযুক্তকে গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান চলমান থাকায় তার পরিচয় ও ছবি প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে সিএমপি।