প্রিন্ট এর তারিখঃ সেপ্টেম্বর ৫, ২০২৬, ২:১৯ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুলাই ১১, ২০২৬, ১:০৫ পি.এম
বাঁকা কথা-ঘুষের সাতকাহন-

মো. কামাল উদ্দিন। ঘুষখোরদের প্রতি ঘুষ বিশেষজ্ঞদের উপদেশ বাণী: একা ঘুষ নিলে সকলের বাঁকা চোখের বদ নজরে পড়তে হবে। অতএব সবাইকে ঘুষের রসে জারিয়ে নিন-তাদেরকে কিছু কিছু দিন...। সাবধান, সব টাকা একা হজম করে কাউকে বঞ্চিত করবেন তাতে আপনিও লাঞ্ছিত হবেন। ঘুষখোর মুরব্বিরা কুপরামর্শ আকারে বলেন, ঘুষ খেতে হলে ঝুঁকি নিতে হবে। অবশ্য বলতে পারেন হাতেনাতে ধরা পড়লে চাকরি তো যাবেই এমনকি সরকারি শ্রীঘর পর্যন্ত যেতে হতে পারে। যেতেও যদি হয় যাবেন। সেখানে আপনাদের মতো অতি লোভী ঘুষখোররা আগে গিয়ে অপেক্ষা করছে। তাদের সাথে অতি সহজে দেখা মিলবে। তবে লজ্জা পাওয়ার কিছু নেই। আপনার চেয়ে বড় বড় রথি মহারথিরাও ঐ তীর্থস্থান থেকে ঘুরে পাকাপোক্ত হয়ে এসেছে এবং অনেকে সেটা এমন বেশি মান-যাওয়া এবং বেইজ্জতের কি হবে। নানা রকম খাওয়ার সঙ্গে 'ঘুষ খায় দারোগায়'। কবি সুকুমার রায় খাই খাই কবিতায় লিখেছিলেন। উৎকোচ তত্ত্ব লিখেছিলেন পরশুরাম। তাঁর 'চমৎকুমারী ইত্যাদি' গল্প নামক গ্রন্থে ঘুষ নিয়ে অনেক কাহিনী ছিলো। সেই কবে মহামতি চাণক্য বলেছিলেন, মাছ কখন পানি খায় আর রাজ কর্মচারী কখন ঘুষ আর নিস্কাম উপহার- এদের প্রভেদ নির্ণয় করা সবসময় করা যায় না।ঘুষ অতি প্রাচীন ব্যাপার। বোধহয় মানব সভ্যতার সমান বয়েসী। যে দিন থেকে সমাজে বিধি-নিষেধ তৈরি হয়েছে, লাভ-লোকসান, লোভ-লালসা এসেছে, তারপর থেকেই ঘুষও শুরু হয়েছে। ক্ষমতাবান অথচ দুর্নীতি পরায়ণ রাজপুরুষকে কিছু উৎকোচ দিয়ে যে কোন কাজোদ্ধার করা, লাভবান হওয়া কখনো কখনো খুব কঠিন নয়। তবে এর জন্য উৎকোচ প্রদানকারীকে কিঞ্চিৎ সাহসী এবং যথেষ্ট নীতিহীন হতে হবে নিঃসন্দেহে।একটু ঐতিহাসিক ঘুষের কাহিনী চর্চা করা যাক। এটা অবশ্যই কল্প কাহিনী নয়, খাঁটি ইতিহাস। এ কথা আজ যতই অসম্ভব হোক না কেন এটাই সত্যি যে, ধনবান মার্কিন দেশের ভুবন বিদিত রাজধানী ওয়াশিংটন শহর একদা প্রতিষ্ঠিত হয়েছিলো পূর্ব ভারতের রায়ত ও সামন্তদের দেয়া ঘুষের টাকায়। ঐ অপ্রিয় সত্য ঘটনাটি পরিষ্কার করে বলেছি-ভারত বর্ষে ইংরেজ রাজত্বের প্রথম যুগে টমাস ল নামে এক ব্রিটিশ সিভিলিয়ান এসেছিলেন। তিনি খুবই কর্মপটু ছিলেন। লর্ড কর্ণওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত যারা হাতে কলমে রূপায়ন করেছিলেন টমাস ল সাহেব তাদের অন্যতম। এই ল সাহেব বিবাহ সূত্রে আত্মীয় ছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট জর্জ ওয়াশিংটনের। টমাসল যদিও দক্ষ প্রশাসক ছিলেন, তাঁর ছিলো হাতটানের অভ্যাস। উৎকোচ গ্রহণে তার উৎসাহ ছিল অপরিসীম। অবশ্য সেকালের ব্রিটিশ সিভিলিয়ানদের মধ্যে তিনি এ ব্যাপারে বিশেষ কোনো ব্যতিক্রম ছিলেন না। খুব অরাজকতার সময় ছিলো সেটা। মোঘল সাম্রাজ্য ভেঙে পড়েছে। পূর্ব ভারতে চলছে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানীর রাজত্ব। রবীন্দ্রনাথের কবিতায়- বাণিকের মানদন্ড দেখা দিলো পোহাল শর্বরী রাজদণ্ড রূপে।এ সেই শর্বরী কালের অন্ধকার সময়ের কথা। ইংরেজ রাজপুরুষদের নীতিজ্ঞান ছিলো না। চুরি করা, উৎকোচ গ্রহণ শাসককূলের নিয়মিত অভ্যাসে পরিণত হয়েছিলো। এদিকে এসব খবর যখন বিলেতে পৌঁছালো সেখানে খুব কড়াকাড়ি শুরু হলো। নতুন সিভিলিয়ান যারা বিলেত থেকে আসছিলো তাদের দেশ থেকে রওনার আগে ধন সম্পত্তির হিসাব দিতে বলা হলো। চাকরি শেষে ফিরে যাবার পর মিলিয়ে দেখা হবে অবৈধ সম্পদ কিছু আছে কিনা। আমাদের এই টমাসল সাহেব যেন তেন প্রকারে নানা অনাচার, অত্যাচার করে দেশী প্রজাদের রক্ত শুষে লাল হয়ে গিয়েছিলেন। তার অধিক্ষেত্র ছিলো সাবেকি বাংলা-বিহার। বিলেতে ভারতীয় রাজপুরুষদের ধনসম্পত্তির হিসাব নিয়ে কড়াকাড়ি শুরু হয়েছে এই সংবাদ যথাসময়ে এ দেশে এসে পৌঁছালো। টমাসল ভাবলেন, আমিতো আসার সময় ধন সম্পত্তির হিসাব দিয়ে আসিনি, এখন তাড়াতাড়ি ফিরে গেলে ঝামেলা হবে না। তিনি দেশের দিকে রওনা হলেন। কিন্তু এডেন বন্দরে পৌঁছে তিনি এক দুঃসংবাদ পেলেন। এখন থেকে দেশের বন্দরে নামার সময়ও ধন-দৌলত সঙ্গে যা আছে তার ফিরিস্তি দিতে হবে। অসঙ্গতি দেখলে সেসব বাজেয়াপ্ত করা হবে। এত কষ্টের এই চুরির ধন-দৌলত এত সহজে কেউ ছাড়তে চায় না। টমাস ল করিৎকর্মা বুদ্ধিসম্পন্ন পুরুষ। তিনি এডেন বন্দরে জাহাজ বদল করে এক আমেরিকাগামী জাহাজে উঠে বসলেন এবং ধন-দৌলতসহ যথাকালে নিরাপদে আমেরিকা পৌছলেন। তিনি তার সমস্ত ধন-দৌলত বিনিয়োগ করলেন একটি জনপদ পত্তনে এবং তার পাশে একটি চিনির কারখানা স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীকালে ঐ ভূসম্পত্তি মার্কিন সরকারের কাছে তিনি প্রভৃত অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করে দেন এবং সেখানেই মার্কিন সরকার নতুন রাজধানী গড়ে তোলে।আমাদের অত্যাচারিত পূর্বপুরুষদের রক্ত-পানি করা ঘুষের টাকায় একদিন মার্কিন রাজধানী তৈরি হয়েছিলো। আন্তর্জাতিক ঘুষের ইতিহাসে এমন ঘটনা বিরল। এত প্রাচীন কালে গিয়ে লাভ নেই। নিবন্ধে পরিসীমা কুলোবে না। বরং আধুনিক কালে আমি ঘুষের বিশেষ বিশেষ কিছু ঘটনা তুলে না ধরলে ঘুষের ইতিহাসের চরিত্রটা পুরোপুরি ফুটে উঠবেনা। ব্রিটিশদের ইস্ট ইন্ডিয়ান কোম্পানি ভারতবর্ষে প্রতিষ্ঠার সুযোগ নিয়েছিলো সম্রাট শাহজাহান কন্যা জাহানারার অগ্নিদগ্ধ শরীরের চিকিৎসার জন্য এসে। সুযোগ বুঝে শাহজাদা সুজার সাথে গোপনে সখ্যতা গড়ে তোলে এবং ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি নামীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবসা করার অনুমতি পেয়েছিলো শাহজাদা সুজাকে মোটা অংকের উৎকোচ বিনিময়ের যা ইতিহাস পর্যালোচনা করলে প্রমাণ পাওয়া যাবে। ইংরেজদের হাতে বাংলার নবাব সিরাজদৌল্লার পতনের পিছনে অন্তর্নিহিত ছিলো অভিশপ্ত মুখ। মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে মীরজাফর বেঈমানী করেছিলো। সেই ঘুষের অভিশপ্ত ইতিহাস আবহমানকাল থেকে। ঘুষের ব্যাপারে পবিত্র কোরান ও হাদিসে ঘুষ আদান প্রদান এবং ঘুষ মধ্যস্থতাকারীর পরকালে শাস্তির বিধান রয়েছে। পবিত্র কোরানে সুষ বিষয়ে যা উল্লেখ আছে-ঘুষ সম্পর্কে আল্লাহতায়ালা বলেন, 'তোমরা অন্যায়ভাবে একে অপরের অর্থ আত্মসাৎ করো না। শাসকদের কাছে অর্থ নিয়ে যেয়ো না যাতে তোমরা মানুষের অর্থের একাংশ অন্যায় পথে ভোগ করতে পার। অথচ তোমরা জান যে, এরকম করা বৈধ নয়। রাসুল (সা:) বলেছেন, আল্লাহতায়ালা ঘুষদাতা ও ঘুষখোর উভয়কে অভিসম্পাত দিয়েছেন। এ সংক্রান্ত যে হাদীস আবু দাউদ ও তিরমিযী উদ্ধৃত করেছেন। তাতে ঘুষদাতা ও ঘুষখোরের মাঝে তৃতীয় যে ব্যক্তি উভয়কে সাহায্য করে তাকেও অভিশপ্তদের অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। শাসকের জন্য ঘুষ আদান-প্রদান সর্বাবস্থায় হারাম- চাই তা কারো অধিকার বিনষ্ট করার মাধ্যমেই করুক অথবা কোন জুলুম প্রতিহত করার জন্যই করুক। অতএব উপরোক্ত কোরান শরীফ ও হাদীস শরীফের আলোকে বুঝা যায় যে, বিচার কার্যে অসততা, দুর্নীতি ও ঘুষ খাওয়া ইসলাম ধর্মের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ হারাম। অর্থাৎ নিষিদ্ধ। ঘুষের সংজ্ঞা অথবা ঘুষ আদান প্রদান প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা নির্ণয় করা কোনভাবে সম্ভব নয়। তবে ঘুষখোরকে নির্ণয় করার জন্য যদি অনুবীক্ষণ যন্ত্র ব্যবহার করা যায় তাতে কিছুটা সফল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এক ব্যক্তি ঘুষের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা করতে গিয়ে ঘুষের বিড়ম্বনায় কিভাবে পড়েছিলো তা একটু শুনুন। বেশ কয়েক বছর আগের কথা। দেশে ঘুষের ছাড়াছড়ি, ঘুষের উপর দেশ ভাসছিলো। ঘুষপ্রীতি একটি অঘোষিত নীতিতে পরিণত হয়েছিলো। আমি আমার এক পরিচিত যুগল প্রেমিক-প্রেমিকার কোর্ট-বিবাহ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণে কোর্টে গিয়েছিলাম। কোর্ট-বিবাহ অনুষ্ঠান শেষে চলে আসার সময় এক ভদ্রলোক প্রাচীন এই ভবনের কাষ্ঠের সিঁড়িতে বসে বসে কি যেন খুঁজছেন। বেচারার চেহারা একেবারে খারাপ দেখাচ্ছে। কি যেন হারিয়ে ফেলেছ! আমারও কৌতূহল হল দেখার। ঐ ভদ্রলোক হতাশাগ্রস্ত হয়ে দাঁড়িয়ে নিজে নিজে বললেন, 'শালার ঘুষখোর, ঘুষখোরদের আখড়া কোর্ট বিল্ডিং। ঘুষের বিরুদ্ধে মামলা করতে এসে ঘুষখোরদের পাল্লায় পড়ে গেলাম। আগে জানতাম কোর্টে কোর্ট কর্মচারীরা ঘুষ খায় কিন্তু এখন দেখলাম কোর্টের সিঁড়ি পর্যন্ত ঘুষ খায়। পরে জানলাম ঐ ব্যক্তি ঘুষের মামলায় কোর্ট বিল্ডিংয়ে ঘুষ দিতে দিতে পকেটে থাকা শেষ সম্বল একটি মাত্র পাঁচ টাকার ধাতব মুদ্রাটি হাতের থেকে পড়ে গিয়ে ভাঙা কাঠের সিঁড়ির ফাঁকে ঢুকে গেলে আর পাওয়া গেল না। মানবসেবক নামীয় ডাক্তারদের কথা মনে পড়ে গেল। অনেক বেরসিক বলে জেলখানা, কসাইখানা, ডাক্তারখানা তিনটি অভিন্ন প্রতিষ্ঠান। ডাক্তাররা মানব সেবার নামে মানব ছেঁচার কাজে রত। মাল কামানোর ধান্ধায় ব্যস্ত সরকারি হাসপাতালসমূহ ঘুরে আসলে বুঝা যায় রোগীদের রোগ সারার জন্য যত পরিমাণ ঔষধ রোগীরা খায়, তারচেয়েও বেশি ঘুষ খায় হাসপাতালের সংশ্লিষ্ট সকল কর্মচারী। আবার এমনও দেখা যায় ডাক্তাররা হামলাবিহীন মিথ্যা মামলা করার জন্য সার্টিফিকেট দেয়ার চেম্বার খুলে বসে থাকেন। তবে তার জন্য কোন ধরনের জবাবদিহিতা না থাকলেও কিন্তু বিবেকের আদালতে একদিন জবাবদিহিতা যে হবে তা তাদের জানা নেই। পুলিশ ঘুষ খায় তা সবাই জানে। ঘুষ ব্যতীত পুলিশ চাকরি করতে পারেন না। তা যেন ড্রাগের মত নেশা গা সওয়া হয়ে গেছে। তার কারণ একটাই পুলিশ চাকরি পেতে ঘুষ, ট্রেনিং-এ পাস করাতে ঘুষ, পোস্টিং পেতে ঘুষ, সুবিধাদি পেতে ঘুষ, শিক্ষানবীশ হিসেবে থানায় দায়িত্ব পালন করতে গেলে ঘুষ, ভালো থানায় বদলিতে ঘুষ, ভাল কামাইর ঘুষের জায়গা ডিউটি পেতেও ঘুষ যেন ওপেন সিক্রেট। তবে পুলিশগণ ব্রিটিশ কর্তৃক প্রণীত 'আকাশে যত তারা পুলিশের তত ধারা'র অজুহাত দিয়ে বাচ বিচারহীন প্রকাশ্য ঘুষনীতিকে হালাল করে ফেলেছে। আমার এক পরিচিত পুলিশ বন্ধু প্রায় সময় বলেন, পুলিশে ঘুষ দিতে হয় বলেই ঘুষ নিতে হয়। আগে শোনা যেত কোর্ট কাচারি, থানা পুলিশ, কাস্টমস, ফরেস্ট ইত্যাদি ঘুষের আখড়া। কিন্তু এখন দেখা যায় ঐসব স্থানকে হার মানিয়েছে শিক্ষা দপ্তর হতে শুরু করে সরকারের অন্যান্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ। প্রতিটি কাজের সাথে 'ঘুষ আদান প্রদান' নিয়মে পরিণত হয়েছে। আর নয়, এরকম নোংরা বিষয় আর বেশি ঘাঁটাঘাঁটি করার প্রবৃত্তি নেই। ঘুষ খাওয়ার চেয়ে ঘুষ দেওয়া কম কঠিন কাজ নয়। প্রয়োজন বা তাগিদ যতই হোক কাকে ঘুষ দিতে হবে, কিভাবে দিতে হবে, কত দিতে হবে-এগুলি খুবই জটিল সমস্যা। সাধারণ মানুষরা ঠিক এগুলো ধরে উঠতে পারে না। অনেকে বলেন, যারা ঘুষ খায় না তারা কিছু কাজও করে না। সর্বদা তাদের পেছেনে লেগে থাকতে হয়। অফিসে ফাইল ঠেকিয়ে ঘুষ খায় সবাই কম বেশী অবগত। ঘুষের জায়গা কোথায় খালি আছে!"ছেলের বিয়েতে যৌতুক গ্রহণের পরিবর্তে কৌতুক করে উপঢৌকন নিয়ে থাকেন তা কি উৎকোচের আওতায় পড়ে না? একটি ছেলেকে মেয়ে বিয়ে দেয়ার জন্য কেউ নগদে ঘুষ দিচ্ছে, আবার কেউ বড় বড় ক্লাবে ভোজোৎসবের মাধ্যমে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে অতিথি আপ্যায়ন করাচ্ছে। এটাওকি কম ঘুষ নয়! ঘুষ একটি সামাজিক ব্যাধি। তার থেকে পরিত্রাণ পাওয়ার জন্য আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দায়িত্ব রয়েছে। ঘুষ প্রবণতা বন্ধ করার জন্য বর্তমান সরকার যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছে তা নিঃসন্দেহে প্রশংসার দাবিদার। তবে অপ্রিয় হলে সত্য, ঘুষখোরদের ঘুষ খাওয়া বন্ধ হয়নি। ঘুষ আদান-প্রদানের কৌশল পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। আজকে আপনি দুর্নীতিমুক্ত ঘুষ বিরোধী সরকারি কর্মকর্তা। কিন্তু কথাটির স্থায়ীত্ব থাকবে যে সব চাকরিতে ঘুষ খাওয়ার সুযোগ নেই। সে সব চাকরি যারা করেন তারা মোটামুটি সৎ থাকেন। কারণ অসাধু হওয়ার সুযোগ তাদের নেই বললেই চলে। কিন্তু পুলিশের চাকরি, শুল্ক বিভাগের চাকরি, লাইসেন্স পারমিট দেয়ার চাকরি, পারচেজ বিভাগের চাকরিতে ঘুষ খাওয়ার সুযোগ খুবই বেশি। এখানে যদি কেউ ঘুষ না খান, তাহলে তাকে সত্যিকারের সৎ বলা যায়। তবে এমন লোক যে নেই তা নয়। আমি অনেককে দেখেছি। তবে তারা সংখ্যায় কম। এমনও দেখেছি আমি ট্রাফিক পুলিশের একজন অফিসার কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছেন তাকে ট্রাফিক পুলিশের দায়িত্ব না দিয়ে পরিসংখ্যান দপ্তরের ওসি করার জন্য। ট্রাফিক বিভাগে প্রচুর ঘুষ। সেখানে তিনি ভীষণ প্রলোভনের মুখে পড়বেন। আর পরিসংখ্যান দপ্তরে কোন ঘুষের বালাই নাই। এই লেখাটি শৈলী প্রকাশন থেকে ২০০৮ সালে প্রকাশিত, আমার প্রথম রম্য গ্রন্হ বাঁকা কথা,বইয়ে ছাপা হয়েছিল। আগামীকাল পাবেন, চট্টগ্রাম পাসপোর্ট অফিসের ঘুষ বাণিজ্যের শ্বেতপত্র মূলক লেখা। লেখকঃ সাংবাদিক, গবেষক, সাহিত্যিক, টেলিভিশন উপস্থাপক ও মহাসচিব, চট্টগ্রাম নাগরিক ফোরাম।
email Kamaluddin 2247@gamal. Com
Copyright © 2026 দৈনিক ভোরের আওয়াজ. All rights reserved.