-মো.কামাল উদ্দিনঃ -একটি সাজানো মামলার অভিযোগ, দীর্ঘ সংগ্রাম এবং সত্য প্রতিষ্ঠার পথচলা: একজন নাগরিকের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার সততা, সম্মান এবং সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা। অর্থ-সম্পদ হারিয়ে আবার অর্জন করা যায়, কিন্তু একটি মিথ্যা ফৌজদারি মামলার আসামি হিসেবে সমাজে পরিচিত হয়ে গেলে সেই ক্ষত বহু বছর ধরে একজন মানুষকে বহন করতে হয়। আমার জীবনেও এমনই একটি অধ্যায় যুক্ত হয়েছে, যার ভার আমাকে বছরের পর বছর বহন করতে হয়েছে। আমি দাবি করছি, ২০১৪ সালে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) কর্তৃক ঢাকা মতিঝিল থানায় আমার নামে দায়ের করা একটি (মতিঝিল থানার মামলা নং ৫/৭/২০১৪ ইং) আমাকে জড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় তৎকালীন ডিবি ইয়াবা মামলা ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং আমাকে হয়রানির জন্য করা হয়েছিল। এই মামলার কারণে আমাকে শুধু আইনি জটিলতার মধ্যেই পড়তে হয়নি; বরং ব্যক্তিগত, সামাজিক, পারিবারিক ও পেশাগত জীবনেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।
আমার অভিযোগ অনুযায়ী, একটি নির্দিষ্ট ঘটনার পর আমি সংশ্লিষ্টদের কাছে কৈফিয়ত চাই। এরপর থেকেই আমার প্রতি বিরূপ আচরণ শুরু হয় এবং পরবর্তীতে আমাকে একটি মাদক মামলায় আসামি করা হয়। আমি প্রথম থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করি এবং দাবি করি যে, আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের কোনো বাস্তব ভিত্তি ছিল না। ঘটনার পর আমি নীরব থাকিনি। আমি আইনের আশ্রয় নিয়েছি, বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের আবেদন করেছি। আমার বিশ্বাস ছিল সত্য একদিন প্রতিষ্ঠিত হবেই। আমার দাবি অনুযায়ী, পরবর্তীতে একাধিক তদন্তে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হয়। তদন্ত শেষে আমাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং আদালতও পরবর্তীতে মামলাটি খারিজ করেন। আদালতের এই সিদ্ধান্ত আমার দীর্ঘদিনের অবস্থানকে সমর্থন করেছে বলে আমি মনে করি। কিন্তু এখানেই আমার দুর্ভোগ শেষ হয়নি। আদালতের সিদ্ধান্তের পরও আমি লক্ষ্য করি যে, বাংলাদেশ পুলিশের পিসিপিআর (PCPR) তথ্যভাণ্ডারে আমার নাম এখনও ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। আমার অভিযোগ, এই তথ্য ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী আমার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময়ে অপপ্রচার চালিয়েছে এবং আমাকে সামাজিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করেছে। আমি একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক। দীর্ঘদিনের পেশাগত জীবনে অর্জিত সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এই তথ্যকে ব্যবহার করা হয়েছে বলে আমি বিশ্বাস করি। একটি মামলা আদালতে খারিজ হওয়ার পরও যদি তার পুরোনো তথ্য সরকারি রেকর্ডে সংশোধিত না হয়, তাহলে একজন নিরপরাধ নাগরিককে কত দীর্ঘ সময় ধরে এর মূল্য দিতে হয়—আমি তার একটি বাস্তব উদাহরণ। আজ আমি প্রতিশোধের জন্য নয়, ন্যায়বিচারের জন্য আইনের দ্বারস্থ হতে চাই। আমি চাই, আদালত ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি যাচাই করে দেখুক এবং যদি কোনো প্রশাসনিক ত্রুটি, অবহেলা বা দায়িত্বহীনতা থেকে থাকে, তাহলে তার যথাযথ প্রতিকার হোক। এই উদ্দেশ্যে আমি দুইজন ব্যারিস্টার ও পাঁচজন সিনিয়র আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করেছি। তাদের সঙ্গে নথিপত্র, তদন্ত-সংক্রান্ত তথ্য এবং আদালতের আদেশ পর্যালোচনা করে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আমার লক্ষ্য কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ প্রকাশ করা নয়। আমার লক্ষ্য—একজন নাগরিক হিসেবে আমার সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠা, সরকারি তথ্যভাণ্ডারে প্রয়োজনীয় সংশোধন এবং আইনের মাধ্যমে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা।
এই লড়াই শুধু আমার একার নয়; এটি এমন প্রতিটি মানুষের জন্য, যারা বিশ্বাস করেন যে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের মতো নাগরিকেরও ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকার রয়েছে। সত্যকে প্রতিষ্ঠা করতে সময় লাগতে পারে, কিন্তু আইনের প্রতি আস্থা হারানো উচিত নয়। আমি সেই আস্থা নিয়েই আমার আইনি লড়াই চালিয়ে যাব। : তদন্ত, আদালতের কার্যক্রম, সরকারি তথ্যভাণ্ডার ও মানহানির অভিযোগ- আমি শুরু থেকেই দাবি করে আসছি যে, ২০১৪ সালে আমার বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া ইয়াবা মামলাটি ছিল ভিত্তিহীন। সে কারণে আমি আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে না গিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিল করি এবং নিরপেক্ষ তদন্তের অনুরোধ জানাই। আমার উদ্দেশ্য ছিল একটাই—ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটিত হোক এবং যদি কোনো অন্যায় হয়ে থাকে, তার প্রতিকার আইনের মাধ্যমেই হোক। আমার দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি নিয়ে একাধিক তদন্ত পরিচালিত হয়। তদন্তে সংগৃহীত তথ্য, নথি ও সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনার পর আমাকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে আদালত মামলাটি খারিজ করে দেন। আমি এই ঘটনাকে বিচারব্যবস্থার প্রতি আস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখি, কারণ শেষ পর্যন্ত আদালতের প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই আমি আইনি স্বস্তি লাভ করি। তবে আদালতের সেই সিদ্ধান্তের পরও আমার একটি গুরুতর উদ্বেগ রয়ে যায়। আমার পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাংলাদেশ পুলিশের পিসিপিআর (PCPR) তথ্যভাণ্ডারে আমার নাম দীর্ঘদিন ধরে ওই মামলার সঙ্গে যুক্ত ছিল বা রয়েছে। যদি আদালতের চূড়ান্ত আদেশ অনুযায়ী রেকর্ড সংশোধন করা প্রয়োজন হয়ে থাকে, তাহলে কেন তা যথাসময়ে সম্পন্ন হয়নি—এই প্রশ্নের উত্তর আমি আজও জানতে চাই। আমার অভিযোগ, এই তথ্যকে ভিত্তি করে কিছু ব্যক্তি ও একটি সংঘবদ্ধ চক্র বিভিন্ন সময়ে আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়েছে। তারা আদালতের পরবর্তী অবস্থান বা মামলার পরিণতি তুলে না ধরে কেবল পুরোনো তথ্য ব্যবহার করে আমাকে সামাজিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করেছে বলে আমি মনে করি। এর ফলে আমার ব্যক্তিগত সুনাম, পেশাগত গ্রহণযোগ্যতা এবং সামাজিক মর্যাদা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমি একজন লেখক, সাংবাদিক ও টেলিভিশন উপস্থাপক হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও গণমাধ্যম-সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। আমার পেশার মূল ভিত্তি বিশ্বাসযোগ্যতা ও জনআস্থা। তাই আমার বিরুদ্ধে একটি খারিজ হওয়া মামলার তথ্য ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো হলে তা শুধু ব্যক্তিগতভাবে নয়, পেশাগতভাবেও ক্ষতির কারণ হতে পারে। আমি বিশ্বাস করি, কোনো ব্যক্তি যদি আইনি প্রক্রিয়ায় অব্যাহতি পান বা আদালত যদি একটি মামলা খারিজ করেন, তাহলে সেই সিদ্ধান্ত সরকারি রেকর্ড ও প্রশাসনিক তথ্যভাণ্ডারে যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এতে নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত হয় এবং ভবিষ্যতে বিভ্রান্তি ও সম্ভাব্য মানহানি এড়ানো যায়। এই প্রেক্ষাপটে আমি আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শ করে বিষয়টির আইনগত প্রতিকার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমার উদ্দেশ্য হলো আদালতের মাধ্যমে বিষয়টি পর্যালোচনা করা, প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি রেকর্ড সংশোধনের নির্দেশনা চাওয়া এবং আমার দাবি অনুযায়ী যে মানহানি ও ক্ষতি হয়েছে তার প্রতিকার প্রার্থনা করা। একই সঙ্গে, আমি মনে করি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা অন্য কোনো মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে দায়িত্বশীলতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আদালতের পূর্ণাঙ্গ অবস্থান বা পরবর্তী আইনি ফলাফল উপেক্ষা করে অসম্পূর্ণ তথ্য প্রচার করা হলে তা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সম্মান ও অধিকারকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। আমি আইনের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। তাই এই বিষয়ে আমার প্রতিটি পদক্ষেপ আইনসম্মত উপায়ে গ্রহণ করা হবে। আদালত, প্রাসঙ্গিক নথিপত্র এবং প্রমাণের ভিত্তিতেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন—এটাই আমার বিশ্বাস। আমার প্রত্যাশা, এই আইনি প্রক্রিয়া কেবল আমার ব্যক্তিগত প্রতিকার নিশ্চিত করবে না; একই সঙ্গে সরকারি তথ্য সংরক্ষণ, তথ্য হালনাগাদ এবং নাগরিকের সুনাম রক্ষার বিষয়েও একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপনে সহায়ক হবে। -আইনের শাসনের প্রতি আস্থা, ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা এবং ভবিষ্যতের অঙ্গীকার-- আমার এই আইনি উদ্যোগ কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রতিহিংসামূলক পদক্ষেপ নয়। আমার একমাত্র উদ্দেশ্য হলো, আমার দাবি অনুযায়ী যে অন্যায়ের শিকার হয়েছি তার আইনসম্মত প্রতিকার চাওয়া এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা। আমি বিশ্বাস করি, রাষ্ট্রের প্রতিটি নাগরিকের মতো আমিও সংবিধানপ্রদত্ত অধিকার অনুযায়ী সম্মান, ন্যায়বিচার এবং আইনের সমান সুরক্ষা পাওয়ার অধিকারী। যদি কোনো নাগরিকের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া একটি মামলা পরবর্তীতে তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হয়ে থাকে, তবে সেই আইনি অবস্থান সরকারি রেকর্ডেও যথাযথভাবে প্রতিফলিত হওয়া গুরুত্বপূর্ণ। এটি শুধু একজন ব্যক্তির মর্যাদার প্রশ্ন নয়; এটি আইনের শাসন, প্রশাসনিক জবাবদিহি এবং সুশাসনেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কারণেই আমি আমার আইনজীবীদের সঙ্গে পরামর্শক্রমে প্রচলিত আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি প্রতিকার চাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আদালতে উপস্থাপিত হবে সংশ্লিষ্ট নথি, আদেশ, রেকর্ড এবং অন্যান্য গ্রহণযোগ্য প্রমাণ। আদালতই সেগুলো মূল্যায়ন করে আইনের আলোকে সিদ্ধান্ত দেবেন—এটাই আমার প্রত্যাশা। আমি আরও বিশ্বাস করি, কোনো ব্যক্তির সম্পর্কে তথ্য প্রকাশ বা প্রচারের ক্ষেত্রে যথার্থতা, প্রেক্ষাপট এবং আইনি অবস্থান বিবেচনা করা জরুরি। অসম্পূর্ণ বা পুরোনো তথ্যের ভিত্তিতে কাউকে সামাজিকভাবে হেয় করা ব্যক্তি-অধিকার এবং ন্যায্যতার নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
আমার দীর্ঘ পেশাগত জীবনে আমি লেখালেখি, সাংবাদিকতা এবং গণমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত থেকেছি। জনজীবনে কাজ করা একজন মানুষ হিসেবে আমি সবসময় সমালোচনাকে সম্মান করেছি। কিন্তু সমালোচনা এবং মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্যভিত্তিক অপপ্রচার এক বিষয় নয়। গণতান্ত্রিক সমাজে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি অন্যের সুনাম ও অধিকার রক্ষাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
আমার এই আইনি লড়াই কেবল ব্যক্তিগত সম্মান পুনঃপ্রতিষ্ঠার জন্য নয়; বরং ভবিষ্যতে যেন কোনো নিরপরাধ নাগরিক একই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি না হন, সেই প্রত্যাশাও এর সঙ্গে জড়িত। যদি প্রশাসনিক কোনো ত্রুটি বা তথ্য হালনাগাদের ঘাটতি থেকে থাকে, তবে তার যথাযথ সমাধান হওয়া উচিত—এটাই আমার বিশ্বাস। আমি আদালত, সংবিধান এবং দেশের বিচারব্যবস্থার প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখি। সত্য, প্রমাণ এবং আইন—এই তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়েই আমি আমার বক্তব্য উপস্থাপন করব এবং ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করব। আমার বিশ্বাস, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হলে শুধু একজন ব্যক্তির অধিকারই পুনরুদ্ধার হয় না; রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকের আস্থাও আরও সুদৃঢ় হয়। সেই বিশ্বাস নিয়েই আমি আমার আইনসম্মত পথচলা অব্যাহত রাখব।