প্রিন্ট এর তারিখঃ জুন ২৫, ২০২৬, ১:৪৫ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জুন ২৪, ২০২৬, ৯:০৩ এ.এম
লিবিয়ায় জিম্মি থাকা পেকুয়ার যুবক দেশে ফিরলেন

ইতালি পাঠানোর প্রলোভন দেখিয়ে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে রাখা কক্সবাজারের পেকুয়ার এক যুবককে অবশেষে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। বুধবার (২৪ জুন) ভোরে তিনি বাংলাদেশে পৌঁছান। সকাল ৬টার দিকে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পেকুয়া থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা তাকে গ্রহণ করেন। ফিরে আসা যুবক হলেন পেকুয়া পৌরসভার বাংলাপাড়া এলাকার নাছির উদ্দীন সিকদার ও রাজিয়া সুলতানা (কল্পনা) দম্পতির ছেলে নাবিদুল ইসলাম ফাহিম ওরফে বাপ্পু (২৩)। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই একটি মানবপাচারকারী চক্র উন্নত জীবনের স্বপ্ন দেখিয়ে বাপ্পুকে ইতালি পাঠানোর কথা বলে। পরে তাকে বাংলাদেশ থেকে লিবিয়ায় নিয়ে গিয়ে জিম্মি করে পরিবারের কাছে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। চক্রটির দাবির মুখে পরিবার তিন দফায় মোট ৩৬ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও তারা আরও অর্থ দাবি করতে থাকে। একপর্যায়ে বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হয়। পরিবারের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে বাপ্পু মানবপাচারকারী চক্রের নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং অমানবিক পরিস্থিতিতে জীবনযাপন করতে বাধ্য হয়েছেন। এ ঘটনায় বাপ্পুর মা বাদী হয়ে ২০২৫ সালের নভেম্বর মাসে মানবপাচারকারী চক্রের ১২ সদস্যকে আসামি করে পেকুয়া থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্তে পুলিশ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্য ও তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পুলিশ জানায়, মামলাটিকে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি-ইন্টারপুল বাংলাদেশ) বিষয়টি ইন্টারপুলের মাধ্যমে লিবিয়া পুলিশের এনসিবির কাছে উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে বাংলাদেশ পুলিশ, ইন্টারপুল এবং লিবিয়া পুলিশের সমন্বিত প্রচেষ্টায় বাপ্পুর অবস্থান শনাক্ত করা সম্ভব হয়। এরপর দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হয়। দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর তিনি নিরাপদে দেশে ফিরে আসেন। ছেলেকে ফিরে পেয়ে পরিবারের সদস্যরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। একই সঙ্গে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন তারা। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, বিদেশে চাকরি ও উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রগুলোর বিরুদ্ধে আরও কঠোর অভিযান পরিচালনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি বিদেশগামীদের বৈধ প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং দালালচক্র সম্পর্কে সচেতন থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। পেকুয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, মানবপাচার মামলাটি দায়েরের পর বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তর, ইন্টারপুল বাংলাদেশ এবং লিবিয়া পুলিশের সমন্বিত উদ্যোগে মাত্র সাত মাসের মধ্যে ভুক্তভোগীকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে। তিনি এটিকে মানবপাচারবিরোধী কার্যক্রমে আন্তর্জাতিক পুলিশি সহযোগিতার একটি সফল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
Copyright © 2026 দৈনিক ভোরের আওয়াজ. All rights reserved.