প্রিন্ট এর তারিখঃ মে ২১, ২০২৬, ৮:৫৮ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মে ২১, ২০২৬, ১১:০৭ এ.এম
বিদ্যুতের দাম ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে চায় বিতরণ সংস্থাগুলো
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম ৬ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে দেশের বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থাগুলো। একই সঙ্গে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের মূল্য বৃদ্ধি হলে সেই অতিরিক্ত ব্যয়ও গ্রাহকের ওপর সমন্বয় করার যৌথ আবেদন জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানগুলো। বৃহস্পতিবার (২১ মে) রাজধানীর কেআইবি মিলনায়তনে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) দ্বিতীয় দিনের গণশুনানিতে ৬টি বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থা এ প্রস্তাব উপস্থাপন করে। শুনানিতে আবাসিক গ্রাহকদের জন্য বিদ্যুৎ ব্যবহারের স্ল্যাব বা ধাপ পুনর্নির্ধারণের প্রস্তাবও দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এটি কার্যকর হলে সবচেয়ে বেশি চাপ পড়বে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের ওপর। এছাড়া বেসরকারি স্কুল-কলেজ ও হাসপাতালের জন্য বিদ্যমান বিশেষ সুবিধা বা ক্রস-সাবসিডি প্রত্যাহার করে তাদের বাণিজ্যিক গ্রাহক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাবও দিয়েছে কয়েকটি বিতরণ কোম্পানি। এতে শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবার ব্যয় আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এর আগে বুধবার (২০ মে) গণশুনানির প্রথম দিনে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশ (পিজিসিবি) সঞ্চালন চার্জ ইউনিটপ্রতি ১৯ পয়সা বা প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব দেয়। অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) পাইকারি বিদ্যুতের দাম ইউনিটপ্রতি ১ টাকা ৫০ পয়সা বা প্রায় ২১ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব করেছে। পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম জানান, চলতি অর্থবছরে প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ৬৫ হাজার কোটি টাকার ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে। তার দাবি, কাঠামোগত কারণেই এই ঘাটতি তৈরি হচ্ছে এবং এখন দাম সমন্বয় না করলে দেশের বিদ্যুৎ খাত বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে। তবে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাবের কড়া বিরোধিতা করেছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা, ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধি এবং কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-সহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা। তাদের অভিযোগ, বিদ্যুৎ খাতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির দায় সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারা বলেন, গ্রাহকের ওপর বাড়তি চাপ না দিয়ে বিতরণ কোম্পানিগুলোকে অপচয় ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোর উদ্যোগ নিতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নতুন করে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে পুরো অর্থনীতিতে। বিশেষ করে শিল্প ও উৎপাদন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় উদ্যোক্তারা প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়তে পারেন। এজন্য বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর পরিবর্তে কমানোর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান তারা।