চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামীর রউফাবাদ কলোনিতে সন্ত্রাসীদের গুলিতে আহত শিশু রেশমী আক্তার শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কাছে হার মেনেছে। কয়েকদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করার পর বৃহস্পতিবার (১৪ মে) সকাল পৌনে ১০টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। চমেক হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দীন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। নিহত রেশমী স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। সবজি বিক্রেতা রিয়াজ আহমেদের পাঁচ সন্তানের মধ্যে সে ছিল সবার ছোট। চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, গুলিটি রেশমীর বাঁ চোখ ভেদ করে মাথার ভেতরে ঢুকে মস্তিষ্কের গুরুত্বপূর্ণ অংশে আটকে যায়। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তার অস্ত্রোপচার সম্ভব হয়নি। শুরু থেকেই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল। স্থানীয় বাসিন্দা ও পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাতে রউফাবাদ এলাকায় বোনের বাসায় বেড়াতে আসা হাসান রাজু (২৪) নামে এক যুবককে লক্ষ্য করে ৫ থেকে ৬ জন মুখোশধারী দুর্বৃত্ত গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই নিহত হন রাজু। এ সময় মায়ের কথায় দোকান থেকে পান আনতে বের হওয়া শিশু রেশমী গুলির মধ্যে পড়ে যায়। একটি গুলি এসে লাগে তার চোখে। আহত অবস্থায় প্রথমে তাকে চমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে আইসিইউ শয্যা না থাকায় দ্রুত একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে চমেকে আইসিইউ খালি হলে আবার সেখানে স্থানান্তর করা হয়। শুক্রবার রাত থেকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন থাকার পর বৃহস্পতিবার সকালে তার মৃত্যু হয়। পরিবারের দাবি, ঘটনার সময় এলাকায় টানা চার থেকে পাঁচ মিনিট এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ চলে। আতঙ্কে আশপাশের লোকজন নিরাপদ স্থানে সরে গেলেও ছোট্ট রেশমী নিজেকে রক্ষা করতে পারেনি। ওই ঘটনায় সন্ত্রাসীদের গুলিতে হাসান রাজু নামের এক যুবক ঘটনাস্থলেই নিহত হন।