কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যাকাণ্ডে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১। গ্রেপ্তার হওয়া সবাই পূর্বে রেলওয়ে ডাকাতি মামলার আসামি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। তাদের মধ্যে চারজন এই হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত। সোমবার (২৭ এপ্রিল) র্যাবের এক কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বাস থেকে নেমে বুলেট বৈরাগী একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন। তবে ছিনতাইকারীরা আগে থেকেই ওই অটোরিকশার ভেতরে অবস্থান করছিল। পরবর্তীতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের কুমিল্লার কোটবাড়ি হাড়াতলী এলাকার ফুটপাত থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পুলিশ শুরুতে মাথার পেছনে আঘাতের চিহ্ন দেখে ঘটনাটিকে সড়ক দুর্ঘটনা বলে সন্দেহ করেছিল। কিন্তু তিনি কেন কুমিল্লা প্রবেশমুখ পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে না নেমে আরও প্রায় চার কিলোমিটার দূরে গেলেন—এ প্রশ্নের সূত্র ধরে তদন্তকারীরা ধারণা করেন, তিনি ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে খুন হয়েছেন। র্যাব-১১ সিপিসির অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম বলেন, এটি একটি ‘ক্লু-লেস’ হত্যা মামলা। ঘটনার পর থেকেই র্যাব নিবিড় তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে এবং জিজ্ঞাসাবাদ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন শনিবার ভোর সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সচল ছিল। রাত আড়াইটার আগ পর্যন্ত পরিবারের সঙ্গে তার কথা হয়, এরপর থেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। মোবাইল ফোনের ট্র্যাকিংয়ের ভিত্তিতেই তদন্ত এগোচ্ছে। এদিকে, বুলেট বৈরাগীর মরদেহের ময়নাতদন্ত রোববার সকালে সম্পন্ন হয়। পরে বেলা ১১টার দিকে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। এরপর কুমিল্লা পৌরপার্ক সংলগ্ন কাস্টমস কার্যালয়ে নেওয়া হলে কর্মকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। দুপুরে মরদেহ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে নেওয়া হয়। সেখানে রাতে ডুমুরিয়া ইউনিয়নের বাবুপাড়া গ্রামে নিজ বাড়িতে ধর্মীয় আনুষ্ঠানিকতার মধ্য দিয়ে তার দাফন সম্পন্ন হয়।