চট্টগ্রাম, ২৫ এপ্রিল ২০২৬ (শনিবার): মানবিক দায়িত্ববোধ, ধর্মীয় মূল্যবোধ এবং সমাজসেবার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনের প্রত্যয়ে চট্টগ্রামে “আলহাজ্ব রোকেয়া–সামশুল ইসলাম এতিমখানা ও নুরানী মাদ্রাসা”-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠান যথাযোগ্য মর্যাদা ও ব্যাপক অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকাল ৩টায় আয়োজিত এই তাৎপর্যপূর্ণ অনুষ্ঠানে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, আলেম-ওলামা, সমাজসেবক, শিক্ষানুরাগী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের উপস্থিতিতে এলাকা জুড়ে এক উজ্জ্বল মানবিক আবহ সৃষ্টি হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সাবেক সহকারী পুলিশ কমিশনার, চট্টগ্রাম মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের সহ-সভাপতি, এরাবিয়ান লিডারশীপ মাদ্রাসার সিনিয়র সহ-সভাপতি এবং আলহাজ্ব মাহফুজুর রহমান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান।
সভাপতির বক্তব্যে তিনি বলেন, “সমাজে এতিম ও অবহেলিত শিশুদের জন্য একটি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল এবং আদর্শ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা শুধু একটি উদ্যোগ নয়, এটি আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। এই প্রতিষ্ঠান শুধু শিক্ষা দেবে না, বরং মানবিক মানুষ তৈরির কারখানা হিসেবে গড়ে উঠবে।” প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পপতি, শিক্ষানুরাগী ও সমাজসেবক আলহাজ্ব আবুল বশর আবু। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “এতিম শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের জন্য শিক্ষার সুব্যবস্থা করা আল্লাহর নিকট অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কাজ। এই উদ্যোগ সমাজে দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে এবং অন্যদেরও এমন কল্যাণমূলক কাজে এগিয়ে আসতে উদ্বুদ্ধ করবে।” তিনি প্রকল্পটির সফল বাস্তবায়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। সংবর্ধিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ সিরাজুল ইসলাম চৌধুরী। তিনি বলেন, “এই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এলাকার অসহায় শিশুদের জন্য একটি নতুন আশার দ্বার উন্মোচিত হলো। আমরা সবাই মিলে এই মহৎ উদ্যোগকে সফল করতে কাজ করবো।” বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শোভনদন্ডী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মোহাম্মদ আব্দুল আলিম এবং শোভনদন্ডী ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক সভাপতি আলহাজ্ব মোহাম্মদ শামসুল আলম। তারা উভয়েই এতিমদের কল্যাণে এই উদ্যোগকে সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয় বলে উল্লেখ করেন এবং সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। অনুষ্ঠানের মুখ্য আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বায়তুশ শরফ আঞ্জুমানে ইত্তেহাদ বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদের সমাধান সম্পাদক আলহাজ্ব হাফেজ মোহাম্মদ আমান উল্লাহ। তিনি বলেন, “ইসলাম এতিমদের অধিকার রক্ষায় সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান শুধু একটি আশ্রয়স্থল নয়, এটি হবে নৈতিকতা, আদর্শ ও ইসলামী শিক্ষার এক আলোকবর্তিকা।”
এছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও সাংবাদিক মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনসহ এলাকার বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ—জাহাঙ্গীর কবির, শহিদুল ইসলাম, মোরশেদুল ইসলাম, মহবুবুর রহমান, ইসমাইল ঠিকাদার, আহমদ কবির চৌধুরী, মোহাম্মদ নুর কাশেম, মুহিবুল্লাহ, তানিমুল হক প্রমুখ। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাইফুদ্দিন আহমদ, যিনি সাবলীল উপস্থাপনায় পুরো আয়োজনকে সুশৃঙ্খল ও প্রাণবন্ত করে তোলেন। অনুষ্ঠানের একটি উল্লেখযোগ্য দিক ছিল স্থানীয় জনগণের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ। সম্ভাব্য শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে পুরো পরিবেশে এক ধরনের আশাবাদ ও প্রত্যাশার আবহ সৃষ্টি হয়। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতে এই এতিমখানা ও নুরানী মাদ্রাসায় এতিম ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য আবাসন, ধর্মীয় শিক্ষা, নৈতিকতা চর্চা এবং আধুনিক শিক্ষার সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করা হয়, যেখানে এতিমখানা ও মাদ্রাসার সফলতা, স্থায়িত্ব এবং এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের মঙ্গল কামনা করা হয়। সংশ্লিষ্টরা দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন, “আলহাজ্ব রোকেয়া–সামশুল ইসলাম এতিমখানা ও নুরানী মাদ্রাসা” একদিন শুধু একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবেই নয়, বরং অসহায় শিশুদের জন্য নিরাপদ আশ্রয়, সুশিক্ষা ও মানবিকতার এক অনন্য কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে—যেখান থেকে গড়ে উঠবে ভবিষ্যতের আলোকিত প্রজন্ম।