দেশের শিক্ষাব্যবস্থা থেকে কোচিং বাণিজ্য নির্মূলে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং এ লক্ষ্যে বহুমুখী পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, কোচিং বাণিজ্য বর্তমানে সমাজের একটি বড় সমস্যা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। শনিবার (১৮ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর যাত্রাবাড়ী পাড়াডগার মান্নান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বৃত্তি পরীক্ষার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, বিভিন্ন নীতিগত উদ্ভাবন ও পাইলটিং প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কোচিং বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণে আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষাকে ঘিরে কোচিং নিয়ে এখন পর্যন্ত বড় কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে বৃত্তি পরীক্ষার নীতিমালা, অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং বৃত্তির পরিমাণ পুনর্বিবেচনা করার পরিকল্পনা রয়েছে। বৃত্তি পরীক্ষা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পড়াশোনায় উৎসাহিত করার একটি কার্যকর মাধ্যম উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়া বন্ধ করার কোনো পরিকল্পনা নেই। দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই বৃত্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং তা বাস্তবায়ন করা হয়েছে। আগামী বছরগুলোতে নির্ধারিত সময়েই এ পরীক্ষা আয়োজন করা হবে। বিদ্যালয়ের অবকাঠামোগত উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, স্কুলগুলোর বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সরকার ‘দৃষ্টিনন্দন’ প্রকল্প ও পিডিপি-৫সহ একাধিক উন্নয়ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে, যার আওতায় শ্রেণিকক্ষ বৃদ্ধি, ওয়াশরুম নির্মাণ, নকশা উন্নয়ন এবং আসবাবপত্র আধুনিকায়নের কাজ করা হবে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে তিনি নিজে, সচিব ও মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন করেছেন। পরীক্ষার সময় শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সুবিধা পাচ্ছে কি না তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে এবং মাঠপর্যায়ে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে। বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শনে সন্তোষজনক পরিস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। এ সময় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান উপস্থিত ছিলেন।