ডেস্কঃ
থার্টি ফার্স্ট নাইট—পশ্চিমা বর্ষবরণের একটি ক্ষণিক আনন্দঘন সময় হলেও, চট্টগ্রামের প্রেক্ষাপটে এবারের এই রাত ভিন্ন অর্থ বহন করছে। একদিকে বছরের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষার চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক বেদনাবিধুর অধ্যায়—দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার প্রয়াণকে ঘিরে শোক, শ্রদ্ধা ও আত্মসংযমের আবহ। এই দুই বাস্তবতার সমন্বয়েই চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের সম্মানিত কমিশনার হাসিব আজিজ নগরবাসীর উদ্দেশে জারি করেছেন সময়োপযোগী, সুস্পষ্ট ও কঠোর নির্দেশনা। বাংলাদেশ পুলিশ অধ্যাদেশ, ১৯৭৮-এর ২৮, ২৯ ও ৩৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে জারিকৃত এই গণবিজ্ঞপ্তি কোনো আনুষ্ঠানিক নোটিশ মাত্র নয়—এটি একটি সচেতন নগর ব্যবস্থাপনার দলিল। এতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, অনুমতি ব্যতীত উন্মুক্ত স্থান, ছাদ, রাস্তা কিংবা জনসমাগমস্থলে কোনো প্রকার অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ, সাংস্কৃতিক আয়োজন, ডিজে পার্টি, নাচ-গান বা শোভাযাত্রা আয়োজন করা যাবে না। একই সঙ্গে আতশবাজি, পটকা ফোটানো ও ফানুস ওড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে নাগরিক নিরাপত্তা ও অগ্নি দুর্ঘটনা প্রতিরোধের বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।শুধু তাই নয়—মাদক ও সহিংসতা-নির্ভর যেকোনো ঝুঁকি এড়াতে ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ জানুয়ারি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত মহানগরের সকল বার ও মদের দোকান বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত একটি সাহসী ও জনস্বার্থনির্ভর পদক্ষেপ। পাশাপাশি আবাসিক হোটেল, রেস্তোরাঁ, জনসমাবেশস্থল ও উৎসব এলাকায় আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, লাঠি কিংবা বিস্ফোরক দ্রব্য বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে সম্ভাব্য সহিংসতা রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। পতেঙ্গা ও পারকি সমুদ্রসৈকতে অবস্থান নিষিদ্ধ করার নির্দেশনাও নগরবাসীর নিরাপত্তা বিবেচনায় অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই সময়গুলোতে অতিরিক্ত জনসমাগম দুর্ঘটনা ও অপ্রীতিকর ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে তোলে। কমিশনার হাসিব আজিজের নেতৃত্বে সিএমপি সেই ঝুঁকির আগেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। এই নির্দেশনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো—নৈতিকতা ও সামাজিক শালীনতার প্রশ্ন। বেপরোয়া গাড়ি ও মোটরবাইক চালনা, উচ্চ শব্দে হর্ন বাজানো, মাদকাসক্ত অবস্থায় চলাফেরা, নারীদের প্রতি যেকোনো ধরনের হয়রানি বা ইভটিজিংয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করে দেয়—এই নগরে আইন মানার বিকল্প নেই। নগরবাসীর একটি বড় অংশ মনে করেন, এমন শোকাবহ সময়ে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনা ও তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের প্রকৃত অর্থ হলো অসংযম নয়, বরং সংযত আচরণ উচ্ছৃঙ্খলতা নয়, বরং শালীনতা; বিশৃঙ্খলা নয়, বরং সামাজিক দায়িত্ব পালন। থার্টি ফার্স্ট নাইটকে আনন্দের নামে অশালীনতায় রূপ না দিয়ে নীরবতা ও শৃঙ্খলার মাধ্যমে পালন করাই হতে পারে একজন রাষ্ট্রনায়িকার প্রতি সম্মান জানানোর মানবিক ভাষা। পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজের এই উদ্যোগে নগরবাসী একটি সুস্পষ্ট বার্তা পাচ্ছেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা শুধু পুলিশের একক দায়িত্ব নয়, এটি নাগরিক ও প্রশাসনের যৌথ অঙ্গীকার। শান্ত, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ চট্টগ্রাম গড়তে এই নির্দেশনাগুলো মেনে চলা আজ সময়ের দাবি। এই থার্টি ফার্স্ট নাইটে উচ্ছ্বাস নয়, সংযমই হোক আমাদের উদযাপন, শৃঙ্খলাই হোক আমাদের শ্রদ্ধা।