-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম মহানগর নগরজীবনের কেন্দ্র। এই শহরের প্রতিটি মোড়, প্রতিটি জনপদ, প্রতিটি মানুষের জীবনে নিরাপত্তা, সুশাসন ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় আস্থার একমাত্র অবলম্বন—পুলিশ বাহিনী। আর সেই বাহিনীর পরিচালনায় সাম্প্রতিক সময়ে যে বলিষ্ঠ ও সিদ্ধান্তমূলক নেতৃত্ব দেখা গেছে, তার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ।
তিনি দায়িত্ব গ্রহণের প্রথমদিন থেকেই পুলিশের প্রতিটি শাখায় দায়িত্বশীলদের সামনে তুলে ধরেছেন কঠোরতা, জবাবদিহিতা, দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারিত্ব। তাঁর এই কঠিন মনোভাব, নীরব কর্মঠতার মাধ্যমেই চট্টগ্রামে পুলিশিং বাগান সুনিপুণভাবে সাজানো হয়েছে এক দক্ষ নেতৃত্বের ফ্রেমে। যারা ছিলেন মাঠের যোদ্ধা—এবার পেলেন যোগ্য জায়গা- শুধু প্রশাসনিক বদলি নয়—এটি নৈতিক মূল্যায়ন, কর্মদক্ষতার স্বীকৃতি এবং মাঠপর্যায়ে দায়িত্ব পালনকারীদের সম্মান। চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের অধীন নিম্নোক্ত থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) যারা সাম্প্রতিক সময়ে জীবনবাজি রেখে দায়িত্ব পালন করেছেন— জনাব মোঃ আব্দুল করিম,পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, কোতোয়ালী,নতুন দায়িত্ব—ওসি, পাহাড়তলী মডেল থানা চট্টগ্রাম নগরীর কেন্দ্রস্থল কোতোয়ালীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং দমনমূলক পরিস্থিতিকে দক্ষতার সাথে নিয়ন্ত্রণ করে তিনি অল্প সময়েই নজর কাড়েন। তাঁর পুলিশিং ছিল দৃঢ়, মানবিক এবং প্রশাসনিক দক্ষতায় পূর্ণ। জনাব মোঃ আব্দুর রহিম- পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, সদরঘাট নতুন দায়িত্ব—ওসি, বন্দর থানা অব্যবস্থাপনার মাঝে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করেছিলেন সতর্কতা ও কৌশল দিয়ে। ৩. জনাব মোঃ আফতাব উদ্দিন- পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, বাকলিয়া নতুন দায়িত্ব—ওসি, কোতোয়ালী থানা, তিনি ছিলেন সাম্প্রতিক উত্তপ্ত পরিস্থিতির সামনে সবচেয়ে অগ্রগামী যোদ্ধা। চান্দগাঁও-পতেঙ্গা-বাকলিয়াসহ বিস্তৃত জনসংখ্যার এলাকায় তিনি কঠিন সংঘাত সামলে সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দিয়েছেন। একাধিক ঘটনার গভীরে গিয়ে তাঁর পেশাদারিত্ব ছিল সবচেয়ে দৃঢ়। ৪. জনাব মোহাম্মদ সোলাইমান-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, পাচলাইশ নতুন দায়িত্ব—ওসি, বাকলিয়া থানা, তিনি ছিলেন কঠিন সময়ের সফল ব্যবস্থাপক। পাঁচলাইশে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি পরিস্থিতি এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করেন, যা চট্টগ্রামে পুলিশিংয়ের এক উৎকৃষ্ট উদাহরণ। ৫. জনাব জসিম উদ্দিন-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, বায়েজিদ নতুন দায়িত্ব—ওসি, চান্দগাঁও একাধিক জনবহুল এলাকায় সংঘাত প্রতিরোধ, মাদকবিরোধী অভিযান এবং আইন প্রয়োগে ছিলেন কঠোর। ৬. জনাব মোঃ জাহেদুল কবির-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, চান্দগাঁও নতুন দায়িত্ব—ওসি, বায়েজিদ থানা যে সময়ে প্রশাসনিক চাপ বেশি ছিল, তিনি মাঠে থেকে কমিউনিটি পুলিশিংকে শক্ত করেছেন। তার পুলিশিং আচরণ ছিল শৃঙ্খলাবদ্ধ এবং নেতৃত্বদায়ী। ৭. জনাব শহীনুর আলম- পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, খুলশী নতুন দায়িত্ব—ওসি, কর্ণফুলী খুলশীর মতো এলিট অঞ্চলে আইন-শৃঙ্খলা ধরে রাখা সহজ নয়—তিনি তা রেখেছেন কর্মদক্ষতায়। ৮. জনাব মোঃ বাবুল আজাদ-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, ডবলমুরিং নতুন দায়িত্ব—ওসি, চকবাজার পাহাড়তলীতে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ মানুষ তাঁকে দেখেছে জরুরি মুহূর্তে মাঠে। নীরবে কাজ করার ক্ষমতা ছিল তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ৯. জনাব মুহাম্মদ নুরুল আবছার-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, হালিশহর
নতুন দায়িত্ব—ওসি, পাহাড়তলী থানা জরুরি পরিস্থিতিতে নাগরিকদের পাশে দাঁড়ানোর নজির রাখেন। ১০. জনাব মোঃ আরিফুর রহমান পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, আকবরশাহ নতুন দায়িত্ব—ওসি, সদরঘাট থানা মাদক, জলদস্যুতা, অপরাধী গোষ্ঠী নিয়ন্ত্রণে নীরব ভূমিকার জন্য প্রশংসিত তিনি। ১১. জনাব মোহাম্মদ জমির হোসেন জিয়া-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, পাহাড়তলী নতুন দায়িত্ব—ওসি, ডবলমুরিং,নগরের অন্যতম অর্থনৈতিক কেন্দ্র পাহাড়তলীর শৃঙ্খলা রক্ষা করেছেন দৃঢ়ভাবে। ১২. জনাব মোঃ জাহেদুল ইসলাম-পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, কর্ণফুলী নতুন দায়িত্ব—ওসি, খুলশী থানা শিল্পঘন অঞ্চলে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ছিল তাঁর বিশেষ দক্ষতা। ১৩. জনাব মোস্তফা আহম্মেদ- পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, বন্দর নতুন দায়িত্ব—ওসি, পতেঙ্গা মডেল থানা সমুদ্রবন্দর শৃঙ্খলা ও আইন প্রয়োগে সাহসী ভূমিকা রেখেছেন।১৪. জনাব কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান উদ্দীন- পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, পতেঙ্গা নতুন দায়িত্ব—ওসি, হালিশহর অভিযান পরিচালনা এবং বিরোধ সামলানোর দক্ষতা ছিল প্রশংসনীয়। ১৫. জনাব কামরুজ্জামান-
পূর্ব দায়িত্ব—ওসি, ইপিজেড নতুন দায়িত্ব—ওসি, আকবরশাহ শিল্পাঞ্চলে শ্রমিক উত্তেজনা নিয়ন্ত্রণে ছিলেন সুশাসনের প্রতীক। ১৬. জনাব শফিকুল ইসলাম- পূর্ব দায়িত্ব—ওসি চকবাজার নতুন দায়িত্ব—নিরস্ত্র পুলিশ পরিদর্শক, সিটিএসবি এটি প্রশাসনিক দায়িত্ব হলেও তাঁর উপস্থিতি তদন্তে ভূমিকা রাখবে। কমিশনার হাসিব আজিজ—যোগ্যতার সামনে মূল্যায়ন অটুট রাখলেন-দ্বিধাহীনভাবে বলা যায়— তিনি স্বচ্ছতা, সততা এবং মাঠপর্যায়ের কর্মদক্ষতাকে মূল্যায়ন করেছেন। তিনি প্রমাণ দিলেন—“চট্টগ্রামের পুলিশিং কাঠামোতে যারা রাত জেগেছেন, যারা সংকট সামলেছেন, যারা মানুষের আস্থার জায়গা হয়ে উঠেছেন
তাদের হাতে থাকুক দায়িত্ব।” এটি একটি ঐতিহাসিক পরিবর্তন। এই পদায়ন শুধু বদলি নয়, এটি ভবিষ্যৎ নির্বাচন-পূর্ব প্রস্তুতি-সংঘাত নিয়ন্ত্রণ আইন প্রয়োগ,জননিরাপত্তা,সামাজিক স্থিতিশীলতা চট্টগ্রাম শহর এখন অতীতের তুলনায় আত্মবিশ্বাসী।
জনগণের ভাষায় বলা যায়— এই কর্মকর্তারা "সোনার বাংলার সোনার পুলিশ"। এবং পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ হলেন—
যোগ্যতার স্বীকৃতিদাতা এক দূরদর্শী প্রশাসক। এই নেতৃত্বেই চট্টগ্রাম হবে নিরাপদ, শৃঙ্খলাবদ্ধ ও স্মার্ট নগর। এটাই আজকের বাস্তবতা। এটাই ইতিহাসের নতুন বর্ণমালা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার হাসিব আজিজ এমন একজন প্রশাসক, যিনি দায়িত্বকে কেবল দায়িত্ব হিসেবে নয়—একটি নৈতিক অঙ্গীকার হিসেবে ধারণ করেন। তাঁর নেতৃত্বের প্রতিটি সিদ্ধান্তে রয়েছে দৃঢ়তা, প্রজ্ঞা, সততা এবং পেশাদারিত্বের পরিপূর্ণ সামঞ্জস্য। চট্টগ্রামের আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থাকে সুনির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে এনে তিনি প্রমাণ করেছেন—দক্ষ নেতৃত্ব থাকলে একটি পুলিশ বাহিনী কত দ্রুত জনআস্থা পুনরুদ্ধার করতে পারে। সাম্প্রতিক বদলি ও পদায়ন শুধুমাত্র প্রশাসনিক রদবদল ছিল না; বরং তা ছিল যোগ্যতার স্বীকৃতি, কর্মদক্ষতার সম্মান এবং সততার প্রতি শ্রদ্ধা। মাঠপর্যায়ে যারা জীবনবাজি রেখে আইন প্রয়োগ করেছেন—তাদেরকে সঠিক মূল্যায়নের মাধ্যমে সম্মান দেওয়া তাঁর নেতৃত্বের মানবিক ও দূরদর্শী পরিচয় বহন করে। তিনি বুঝেছেন—পুলিশিং সফল হতে হলে প্রথমে মনোবল শক্ত থাকা প্রয়োজন, আর সেই মনোবলই তিনি নিশ্চিত করেছেন ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন, সঠিক দায়িত্ব বণ্টন এবং সময়োপযোগী ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে। হাসিব আজিজ নেতৃত্বে চট্টগ্রামের প্রতিটি থানা হয়েছে দায়িত্ববান, সুশৃঙ্খল এবং আরও গতিশীল। তিনি এমন এক পরিবেশ তৈরি করেছেন, যেখানে পুলিশ কেবল ইউনিফর্মধারী নয়—বরং জনগণের রক্ষক, নিরাপত্তার প্রতিশ্রুতি এবং দায়িত্ববোধের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। তাঁর প্রশাসনিক ক্ষমতা, অভিজ্ঞ সিদ্ধান্ত গ্রহণ, অদম্য সাহস এবং নৈতিক অবস্থান আজ চট্টগ্রামের নিরাপত্তা কাঠামোতে এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। নীরবে, দৃঢ়তায় এবং সততায় নেতৃত্ব দেওয়া—তাঁর সবচেয়ে বড় শক্তি। ঠিক সেই কারণেই আজ বলা যায়—চট্টগ্রামের বর্তমান পুলিশিং যে নিরাপদ, জনবান্ধব এবং কার্যকর—তার কেন্দ্রে রয়েছেন দক্ষ এবং দৃষ্টিশীল প্রশাসক হাসিব আজিজ।