-জামাল উদ্দিন জাহেদ ও জিসান-
সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউস
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার কৈখাইন গ্রাম—যেখানে ২০২৫ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর ভোরবেলা ঘটে যায় এক মৃত্যুর ঘটনা। সাধারণ মানুষের চোখে এটি হয়তো একটি “স্বাভাবিক মৃত্যু”— কিন্তু পরিবারের দাবি, স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য এবং তদন্তে উঠে আসা অসংগতি—সবকিছু মিলিয়ে দিন দিন clearer হয়ে উঠছে: এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যা। এবং নিহত ব্যক্তি মোঃ ফরিদ। ফরিদের মৃত্যু—লুকানো তথ্যের ভয় কি মৃত্যুর কারণ? নিহত ফরিদ ছিলেন মৃত আলী আকবরের ছেলে। পরিবারের ভাষ্য, ফরিদ জানতেন আনোয়ারা ভূমি অফিসের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারি শাহাদাত হোসেন চৌধুরীর টাকা আত্মসাত, ঘুষ, স্থানীয় অনিয়ম ও বেশ কিছু গোপন নথি সংক্রান্ত তথ্য। এসব তথ্য ফাঁস হয়ে গেলে শাহাদাতের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যেত—এমন ধারণা পরিবারসহ স্থানীয়দের। ফলে পরিবারের দাবি— “ফরিদ ছিলেন একটি গোপন সত্যের ধারক। তাই তাকে টার্গেট করা হয়।” মায়ের অবস্থান: “আমার ছেলে স্বাভাবিকভাবে মারা যায়নি, ওকে হত্যা করা হয়েছে” মোছাঃ ছেনোয়ারা বেগম চোখের পানি মুছতে মুছতে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়ার চেরাগি পাহাড় কার্যালয়ে এসে বলেন— “আমার সন্তান ন্যায়ের কথা বলত। কিন্তু আমার ছেলেকে ন্যায্যের পথেই প্রাণ দিতে হলো। শাহাদাত আর তার লোকজন আমার ছেলেকে হত্যা করেছে। এরা আজ আমাকে ও আমার পরিবারকে পর্যন্ত মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে।” জিডি: হুমকি, ভয়ভীতি ও সম্পত্তি দখলের বর্ণনা জিডি নং: ১২৩২ / তাং: ২৩/১১/২৫ জিডিতে ছেনোয়ারা বেগম লিখেছেন: বিবাদীরা উশৃঙ্খল ও প্রভাবশালী ছেলের মৃত্যুর পর তারা ফরিদের সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা করছে,প্রতিবাদ করতেই তাকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে,আইনের আশ্রয় নিলে “জানে মেরে ফেলবে”—এমনও বলা হয়েছে, এতে তিনি ও তার পরিবার চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। দাফনের সময় মাথায় রক্ত—এটাই তদন্তে প্রথম সন্দেহের জন্ম দেয়,দাফনের কাফন পড়ানোর সময় স্থানীয় মৌলভি সাহেব মাথার অংশ রক্তাক্ত দেখেন। তিনি জানান—“মাথার কাপড়ে রক্ত! স্বাভাবিক মৃত্যুর মতো ছিল না।” স্বাভাবিক মৃত্যুর ক্ষেত্রে মাথায় রক্তপাত থাকার কথা নয়। এই তথ্য তদন্তের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। রাশেদ চৌধুরীর ভূমিকাই সবচেয়ে সন্দেহজনক,শাহাদাতের ভাই রাশেদ চৌধুরী ফরিদকে হাসপাতালে তোলার সময় থেকে দাফন পর্যন্ত ছিলেন মূল দায়িত্বে। কিন্তু— চিকিৎসা নথি অস্বাভাবিকভাবে ‘গায়েব’ ইসিজি রিপোর্ট,ভর্তি নথি,চিকিৎসা সারাংশ,লাশ আনার অ্যাম্বুলেন্স রেকর্ড, সবই এখন অস্বীকার করছেন। অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভার প্রথমে স্বীকার করে, পরে অস্বীকার,এটি গোপন করার ইঙ্গিত মিলছে। তড়িঘড়ি করে পোস্টমর্টেম ছাড়াই দাফন পরিবারকে বলা হয় “ময়নাতদন্ত করলে ঝামেলা হবে।” কিন্তু কেন? কিসের ভয়? তদন্ত দল এলে কর্মস্থল থেকে পালানো,চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে যখন আমাদের টিম তার ব্যাখ্যা নিতে চায়— সহকর্মীরা বলেন, “সেই বাইরে আছে - ” কিন্তু পরে ক্যাম্পাসে তাকেই দেখা যায়। আমাদের উপস্থিতি টের পেয়ে দ্রুত সরে যায়। হাসপাতাল তদন্ত: পরিচালককে অবহিত করা হয়েছে- চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ তসলিম উদ্দি বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে গ্রহণ করেছেন। তিনি বলেন— “সন্দেহজনক মৃত্যু ও গোপন নথি—এটি গুরুতর। প্রয়োজনীয় তদন্ত করা হবে।” সিসিটিভি ফুটেজ ও টাইমলাইনে ভয়াবহ অসংগতি-তদন্তে দেখা গেছে—ফরিদকে হাসপাতালে আনা হয় “মুমূর্ষু” অবস্থায় ফুটেজের সময় ও নথির সময় মিলছে না কাগজপত্র অসম্পূর্ণ, কিছু একেবারেই নেই,রাশেদের ফোনকল, হাসপাতালে চলাফেরা—সবই সন্দেহীয় প্যাটার্ন নির্দেশ করছে এসব তথ্য বিশ্লেষণ করে আমাদের টিম মনে করছে: ঘটনা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়—বরং আলামত মুছে ফেলা হয়েছে। স্থানীয় জনমতের চাপ: “ফরিদ প্রভাবশালী গোষ্ঠীর টার্গেটে ছিল” গ্রামে কেউ মুখ খুলতে চায় না প্রকাশ্যে। ভয়ে। চাপের কারণে। কিন্তু রাতের অন্ধকারে, বা আড়ালে কথা বললে— সবাই একটাই কথা বলছে: “ফরিদ কিছু জানত। তাই ওকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।” আইনগত বিশ্লেষণ: কেন এই মৃত্যুকে হত্যা হিসেবে দেখার যৌক্তিকতা আছে- আইনজীবীরা বলছেন—মাথায় রক্ত চিকিৎসা নথি গোপন তড়িঘড়ি দাফন,পরিবারকে হুমকি সন্দেহজনক টাইমলাইন,সন্দেহভাজনদের আচরণ এসবই একটি হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনা জোরালো করে। বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৩০২, ৩৪, ১২০(বি), ২০১ ধারায় এটি “অপরাধ লুকানোর ষড়যন্ত্র” হিসেবেও গণ্য হতে পারে। সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া নিউজ হাউস—আমাদের অবস্থান- আমাদের ৪ দিনের গভীর তদন্তে যা উঠে এসেছে— তা পরিষ্কারভাবে বলছে:ফরিদের মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, নথি গোপনের চেষ্টা হয়েছে ঘটনার সাথে একাধিক ব্যক্তি জড়িত, পরিবার নিরাপত্তাহীন পুনঃতদন্ত ছাড়া সত্য উদ্ঘাটন সম্ভব নয়,আমাদের টিম পরবর্তী পর্যায়ের তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছে। নতুন তথ্য পাওয়া মাত্রই প্রকাশ করা হবে। ছেনোয়ারা বেগমের শেষ কথা “আমার ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে। আমি ন্যায় চাই। আল্লাহর কাছে বিচার আছে—সরকারের কাছেও বিচার চাই।” প্রকাশযোগ্য প্রস্তুত সংস্করণ সম্পন্ন।
যদি চান