চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় লেখক সম্মেলন ২০২৫”। আগামী ২১ ও ২২ নভেম্বর (শুক্রবার ও শনিবার) চট্টগ্রাম থিয়েটার ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে এই সাহিত্য উৎসব অনুষ্ঠিত হবে। সম্মেলনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, গবেষক এবং দেশের প্রথিতযশা সাহিত্যকর্মীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।
প্রথম দিন: উদ্বোধন ও সাহিত্যচর্চার আলোচনায় ভরপুর শুক্রবার
২১ নভেম্বর শুক্রবার বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শুরু হবে লেখক সম্মেলনের যাত্রা। উদ্বোধন করবেন—চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইয়াহহিয়া আখতার। সভাপতিত্ব করবেন প্রফেসর ড. ওবায়দুল করিম। উদ্বোধনী পর্বে আলোচক হিসেবে থাকবেন প্রফেসর ড. এ. এফ. ইমাম আলি, প্রফেসর ড. হায়াত হোসেন, প্রফেসর ড. মো. আবুল কাসেম, প্রফেসর ড. এম. এ. গফুর ও প্রফেসর ড. আনোয়ারুল হক। সূচনা বক্তব্য দেবেন কবি রাশেদ রউফ, সঞ্চালনা করবেন আয়েশা হক শিমু। সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে গুরুত্বপূর্ণ সেমিনার “চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সাহিত্যচর্চা”। সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক এলিজাবেথ আরিফা মুবাশশিরা, মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন ড. নূরুল আমিন। এ পর্বে আলোচনায় অংশ নেবেন ড. সেলিম জাহাঙ্গীর, প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার সাঈদ, খালেদ হামিদী, প্রফেসর ড. আহমেদ মাওলা, প্রফেসর ড. উদিতি দাশ সোমা, ড. শ্যামল কান্তি দত্ত, অধ্যাপক বিচিত্রা সেন ও শাকিল আহমদ প্রমুখ। রাত ৭টায় শুরু হবে কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণ পর্ব, যেখানে সভাপতিত্ব করবেন প্রফেসর ড. প্রণব কুমার চৌধুরী। এই পর্বে অংশ নেবেন প্রফেসর ড. দীপংকর শ্রীজ্ঞান বড়ুয়া, প্রফেসর রেজাউল করিম, প্রফেসর মোহাম্মদ জাভেদ হোসেন, প্রফেসর আলেক্স আলীম, প্রফেসর মোহাম্মদ হাসানুল ইসলাম, কানাই চক্রবর্তী, কাজী সুফিয়া আকতার, মুহাম্মদ মুসা খান, রূপক কুমার রক্ষিত, রোকেয়া হক, অধ্যাপক খোরশেদুল আনোয়ার, ডা. রতন কুমার নাথসহ অর্ধশতাধিক কবি-লেখক। সঞ্চালনা করবেন কাঞ্চনা চক্রবর্তী।
দ্বিতীয় দিন: কর্মশালা, সংবর্ধনা ও কবিতা সন্ধ্যা
২২ নভেম্বর শনিবার সকাল ৯টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে লেখক কর্মশালা “লেখকের মানসগঠন” শীর্ষক সেশনের মাধ্যমে।
এতে চারটি আলাদা বিষয়ভিত্তিক পর্ব থাকবে—
প্রবন্ধের ভাষা ও বিষয়-বৈচিত্র্য: ড. মোহীত উল আলম
গল্পের কলকব্জা: বিশ্বজিৎ চৌধুরী
কবিতার নির্মাণ ও নির্মিতি: ওমর কায়সার
লেখকের দায়: সেলিম সোলায়মান
বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে দ্বিতীয় দিনের কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণ পর্ব, সভাপতিত্ব করবেন অধ্যক্ষ তরুণ কান্তি বড়ুয়া।
এই পর্বে অংশ নেবেন প্রফেসর ড. মোহাম্মদ সালেহ জহুর, প্রফেসর ড. নারায়ন বৈদ্য, প্রফেসর অঞ্জলি বড়ুয়া, অধ্যাপক দিলরুবা আক্তার চৌধুরী, কাজী আবুল মনসুর, অধ্যাপক পিংকু দাশ, অধ্যাপক উজ্জ্বল মুৎসুদ্দী সম্পু, অধ্যাপক বদরুননেসা সাজু, স্বপন কুমার বড়ুয়া, অধ্যাপক বাসুদেব খাস্তগীরসহ অনেকেই।
সন্ধ্যা ৫টা ৩০ মিনিটে হবে কৃতী লেখক সংবর্ধনা।
এ বছর সংবর্ধিত হচ্ছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক ও অনুবাদক জি. এইচ. হাবীব।
সভাপতিত্ব করবেন অভীক ওসমান, আলোচনায় অংশ নেবেন প্রফেসর ড. উজ্জ্বল কুমার দেব, প্রফেসর ড. আদনান মান্নান, প্রফেসর ড. শারমিন মুস্তারী প্রমুখ।
পরবর্তী পর্বে সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে লেখক কর্মশালার সনদ বিতরণ অনুষ্ঠান, সভাপতিত্ব করবেন প্রফেসর রীতা দত্ত।
সন্ধ্যার শেষ আয়োজন হিসেবে রাত ৭টা ৩০ মিনিটে শুরু হবে কবিতা পাঠ ও স্মৃতিচারণ, সভাপতিত্ব করবেন অধ্যাপক মৃণালিনী চক্রবর্তী।
এ পর্বে অংশ নেবেন অধ্যাপক শ্যামলী মজুমদার, অধ্যক্ষ ছন্দা চক্রবর্তী, ইউসুফ মুহাম্মদ, অধ্যাপক লালন কান্তি দাশ, ফজলুর রহমান, ড. বিকিরণ বড়ুয়া, প্রফেসর ড. সুমন দে, ফারহানা ইসলাম রুহী, অধ্যাপক মোহাম্মদ দিদারুল আলমসহ প্রায় শতাধিক কবি ও সাহিত্যিক।
সাহিত্যচর্চার ঐতিহ্যে নতুন মাত্রা
আয়োজকরা জানিয়েছেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘ সাহিত্যচর্চার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের লেখকদের সঙ্গে যুক্ত করতেই এই আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সাহিত্যিক, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে সৃজনশীলতা ও মানবিক চেতনার বিকাশই এই সম্মেলনের মূল লক্ষ্য।
সম্মেলনের সমন্বয়করা জানান, দুই দিনব্যাপী এই আয়োজন শুধু একটি সাহিত্য অনুষ্ঠান নয়—এটি হবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাহিত্য-ঐতিহ্যের এক ঐতিহাসিক পুনর্মিলন, যেখানে একই মঞ্চে মিলিত হবেন কবি, গল্পকার, প্রাবন্ধিক, গবেষক ও শিক্ষক—যারা বাংলা ভাষা ও সাহিত্যকে নতুন দিগন্তে পৌঁছে দিতে কাজ করছেন।