-মো.কামাল উদ্দিনঃ
বাংলাদেশ পুলিশ—একটি শক্তিশালী প্রতিষ্ঠান, যেখানে প্রতিটি সদস্যের দায়িত্ব, সততা, দক্ষতা ও চরিত্র শুধু একটি ইউনিট বা থানাকে নয়, পুরো জাতির নিরাপত্তাকে প্রভাবিত করে। এই বাহিনীর ভেতরে কিছু অফিসার আছেন যাঁরা নিজেদের জীবনের পরম সময়, প্রতিভা, পরিশ্রম এবং মানবিক বিবেক উজাড় করে দেন মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। তাদেরই একজন হলেন—ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম, বিসিএস নন, কিন্তু অভিজ্ঞতা, সততা এবং কঠোর পরিশ্রমে বহু বিসিএস অফিসারকে ছাড়িয়ে যাওয়া এক উজ্জ্বল নাম। বিপি নং ৭৪৯২০৫৩৬৭৫, জন্ম ফেনী জেলার মাটিতে। ২০১৭ সালে ইন্সপেক্টর পদে পদোন্নতি পেয়ে শুরু করেন এক নতুন অধ্যায়। সাড়ে সাত বছর পিবিআই-তে কাজ— যেখানে প্রতিটি মামলা ছিল চ্যালেঞ্জ, প্রতিটি তদন্ত ছিল সময় সাপেক্ষ, প্রতিটি রহস্য ছিল গভীর। এবং সেখানেই তিনি দেখিয়েছেন— মেধা, ধৈর্য, বিশ্লেষণ ক্ষমতা আর প্রযুক্তিগত দক্ষতার এক চমৎকার সমন্বয়। আজ তিনি বন্দর থানায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো— এত বছরের অভিজ্ঞতা সত্ত্বেও কেন তিনি এখনো অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হননি?ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম শুধু আজ নয়— এক দীর্ঘ সময় ধরে অদৃশ্য বৈষম্যের শিকার। যেখানে তার জুনিয়ররা একের পর এক ওসি হচ্ছেন, সেখানে তিনি এখনও জুনিয়রদের অধীনস্থ থেকে কাজ করছেন—যা একজন সিনিয়র কর্মকর্তার পেশাগত মর্যাদায় আঘাত। এই দৃশ্য নতুন নয়। পুলিশ বাহিনীর অতীতে আমরা দেখেছি—সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ ডিআইজি আহাসান হাবিব পলাশ এমন মেধাবী অফিসাররাও ছিলেন অন্যায়ের শিকার।১৫তম বিসিএস হয়েও তারা যথাসময়ে সম্মান পাননি, কিন্তু ২১তম বিসিএসের অনেকে— ক্ষমতা, রাজনীতি এবং দুর্নীতির পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। এই বৈষম্যের শিকার এখন ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম। একজন পরিশ্রমী, নীরব, সৎ, এবং দায়িত্বশীল অফিসার।
যিনি কখনো “মামা-চাচা” রাজনীতির আশ্রয় নেননি, যিনি প্রভাবশালী কারো ছায়ায় বড় হননি, যিনি নিজের যোগ্যতার ওপর ভরসা করে এগিয়েছেন এবং তাই-ই তিনি আজও ন্যায়সঙ্গত মূল্যায়ন থেকে বঞ্চিত। ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলামের যে দক্ষতা, তা ওসি হওয়ার জন্য যথেষ্টের চেয়েও বেশি— ৯ বছরের ইন্সপেক্টর অভিজ্ঞতা পিবিআই-তে সাড়ে সাত বছর—সবচেয়ে কঠিন তদন্ত বিভাগে সফলতার ধারাবাহিকতা অসংখ্য চাঞ্চল্যকর মামলার সঠিক তদন্ত চট্টগ্রামের ক্রাইম প্যাটার্ন, অপরাধী নেটওয়ার্ক, সংঘবদ্ধ অপরাধ—সব কিছুর গভীর জ্ঞান মানবিকতা, সততা ও অফিসারশিপে প্রশংসিত জুনিয়রদের পরামর্শদাতা ও নেতৃত্বদানের সক্ষমতা
যে অফিসারের এতো অভিজ্ঞতা, সাফল্য ও পেশাদারিত্ব—তাকে ওসি না করে, বরং জুনিয়রের অধীনে রাখা—এটা শুধু তাকে অপমান নয়,বরং পুলিশ বিভাগের নীতিগত মর্যাদাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে। চট্টগ্রামের থানাগুলো অপরাধের বিচিত্র চরিত্রে ভরা— মাদক, সন্ত্রাস, সাইবার অপরাধ, চাঁদাবাজি, গ্যাং কালচার থেকে শুরু করে হত্যাকাণ্ড।এই শহর চায়—দক্ষ, অভিজ্ঞ এবং মানবিক নেতৃত্ব। যে নেতৃত্ব অপরাধীদের ভয় দেখাবে, কিন্তু সাধারণ মানুষকে নিরাপত্তা দেবে। ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম সেই নেতৃত্ব দিতে পারেন। তার অভিজ্ঞতা শুধু তদন্তে নয়— মানুষকে বোঝার ক্ষমতায়ও অনন্য। তিনি বর্তমানে ওসি তদন্ত।কিন্তু তার ওপর যিনি ওসি— তিনি তার জুনিয়র।এ দৃশ্য কি স্বাভাবিক? একজন সিনিয়র অফিসারের জন্য কি এটি ন্যায়সংগত? কখনো নয়। এটা শুধু সিরাজুল ইসলামের প্রতি বৈষম্য নয়— এটা পুরো পুলিশ প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা মূল্যায়নের কাঠামোর প্রতি এক ব্যর্থতা। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের মাননীয় কমিশনার একজন সৎ, ন্যায়পরায়ণ এবং মানবিক অফিসার হিসেবে পরিচিত। তার হাতেই রয়েছে—এই বৈষম্যের অবসান ঘটানোর ক্ষমতা মেধাবীদের স্বীকৃতি দেওয়ার সুযোগ অভিজ্ঞ অফিসারদের নেতৃত্বে নিয়ে আসার দায়িত্ব,ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলামকে চট্টগ্রামের যেকোনো থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসাবে নিয়োগ দিলে—
থানার কাজের গতি বাড়বে অপরাধ দমন আরও শক্তিশালী হবে পেশাদারিত্ব ও ন্যায়বিচারের বার্তা ছড়িয়ে পড়বে পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি আরও উন্নত হবে এ সিদ্ধান্ত শুধু একটি পদায়ন নয়—এটি একজন অবহেলিত, যোগ্য অফিসারের প্রতি ন্যায্যতার স্বীকৃতি। ইন্সপেক্টর সিরাজুল ইসলাম আজ একজন উদাহরণ— সততা নিয়ে কাজ করলে প্রভাবশালী না থাকলেই দুর্বল হতে হয়। কিন্তু এই মানসিকতা বদলানো প্রয়োজন। মেধা ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করলেই পুলিশ বাহিনী শক্তিশালী হবে। আজ সময় এসেছে— একজন নিরব নক্ষত্রকে আলোয় আনার। একজন অভিজ্ঞ অফিসারকে তার প্রাপ্য সম্মান দেওয়ার। মাননীয় পুলিশ কমিশনার মহোদয়— আপনার একটি সিদ্ধান্ত একজন কর্মকর্তার ভবিষ্যৎ বদলে দেবে, এবং পুলিশ বিভাগের ভাবমূর্তিকে আরও উজ্জ্বল করবে। এই আবেদন শুধু সাংবাদিক হিসেবে নয়—একজন ন্যায়বোধসম্পন্ন নাগরিকের আন্তরিক আকুতি।