মো.রাকিবঃ ঢাকায় চট্টগ্রাম সমিতির উদ্যোগে এক বিশাল প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে বিগত সরকারের সমর্থিত ফ্যাসিবাদী দোসর ও ভুয়া কমিটির অপপ্রচারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়। সমিতির আজীবন সদস্যরা জানিয়েছেন, গত ১৬ বছর ধরে এই কমিটি সমিতির অর্থ আত্মসাৎ করে এবং কোনো ধরনের আর্থিক হিসাব বা সদস্যপদের তথ্য প্রকাশ করেনি। সভায় বক্তারা উল্লেখ করেন, “গত ১৬ বছরে যারা সমিতির সম্পদ লুট করেছে, তারা আবার নতুনভাবে সমিতি দখলের চেষ্টা চালাচ্ছে। আমরা এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে একমত ও ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ জানাচ্ছি।” ফ্যাসিবাদের পতনের পর সমিতির আজীবন সদস্যরা উদ্যোগ নিয়ে একটি সাধারণ সভা (এজিএম) আয়োজন করেন। সভায় গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়, যা সমিতির স্বচ্ছ ও ন্যায্য পরিচালনার পথ সুগম করেছে। নতুন কমিটি সবাইকে সমিতির প্রকৃত সদস্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া, আর্থিক হিসাব প্রকাশ করা এবং সমিতিকে নতুন উদ্যমে এগিয়ে নেওয়ার অঙ্গীকার করেছে। প্রতিবাদ সভায় বিচারপতি ও ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট ফরিদ উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। সমিতির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আজীবন সদস্যবৃন্দও সভায় উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা একযোগে আহ্বান জানান, চট্টগ্রাম সমিতির সম্পদ, মর্যাদা ও সম্মান রক্ষায় সকল সদস্যকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে এবং গণতান্ত্রিক নীতির ভিত্তিতে সমিতি পরিচালনা করতে হবে। বক্তারা আরও বলেন, “বিগত বছরের অসাধু কমিটি সমিতির সম্পদ লুট করেছে, আর্থিক হিসাব গোপন করেছে এবং সদস্যদের অধিকার হরণ করেছে। আমরা এমন কুপ্রচেষ্টা আর কখনও স্বীকার করব না। সমিতিকে পুনরায় সুশৃঙ্খল ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য আমরা আজীবন সদস্যদের সমন্বয়ে নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করেছি।” সভায় অংশগ্রহণকারীরা এও জানিয়েছেন, সমিতির বর্তমান নতুন কমিটি ফ্যাসিবাদী মনোভাব ও অসৎ পরিচালনায় অভ্যস্ত পুরনো নেতাদের প্রতিরোধ করবে এবং সমিতিকে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছতার পথনির্দেশে এগিয়ে নেবে। ঢাকায় অনুষ্ঠিত এই প্রতিবাদ সভা শুধু একটি প্রতীকী অনুষ্ঠান নয়; এটি চট্টগ্রাম সমিতির সদস্যদের ঐক্য ও প্রতিরোধের প্রকাশ। বক্তারা একমত, যে কোনো ধরনের অসাধু ও ফ্যাসিবাদী অপচেষ্টা প্রতিরোধে তারা জোরদার ভূমিকা রাখবেন এবং সমিতিকে গণতান্ত্রিক ও স্বচ্ছভাবে পরিচালনার জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন।