আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ মধ্যপ্রাচ্যের শান্ত ও সমৃদ্ধ দেশ ওমানের মরুপ্রান্তে ঘটল এক হৃদয়বিদারক দুর্ঘটনা। বুধবার (৮ অক্টোবর) বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টার দিকে দেশটির দুখুম সিদ্দা এলাকায় ভয়াবহ এক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ উপজেলার আটজন প্রবাসী বাংলাদেশি। তাদের বহনকারী গাড়িটি দুমড়ে-মুচড়ে যায়, মুহূর্তেই শেষ হয়ে যায় সাতটি স্বপ্নময় জীবন, নিভে যায় সাতটি প্রবাসী পরিবারের আলো। নিহতদের মধ্যে সারিকাইত ইউনিয়নের পাঁচজন, মাইটভাঙা ইউনিয়নের একজন এবং রহমতপুর ইউনিয়নের একজন রয়েছেন। প্রত্যেকেই জীবিকার তাগিদে, পরিবারকে সুখ দিতে দূর প্রবাসে এসেছিলেন—কিন্তু নিয়তির নির্মম পরিহাসে তারা ফিরবেন না আর। তাঁদের পরিবারগুলো এখন কান্নায় ভেঙে পড়েছে, সন্দ্বীপের বাতাসে বইছে শোকের হাওয়া। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন ওমান প্রবাসী বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া লিমিটেডের চেয়ারম্যান এবং চট্টগ্রামবাসীর প্রিয় মুখ রবিউল হোসেন। তিনি ওমানে অবস্থানরত চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে, বিশেষ করে চট্টল চিত্র পত্রিকা ও দৈনিক টুরিস্ট পত্রিকার কর্ণধার হিসেবে নিহতদের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জ্ঞাপন করেন। তিনি বলেন—“এই প্রবাসীরা শুধু তাদের পরিবারেরই নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণশক্তি। তারা দেশের জন্য রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রেখেছেন। তাদের মৃত্যু কেবল পরিবারের নয়, পুরো জাতির জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি।”

রবিউল হোসেন, ওমান প্রবাসী
রবিউল হোসেন মাননীয় প্রধান উপদেষ্টার সরাসরি দৃষ্টি আকর্ষণ করে নিহতদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি সহায়তা ও আর্থিক অনুদান প্রদানের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “প্রবাসীদের এই আত্মত্যাগ যেন অবহেলিত না হয়। সরকারকে অনুরোধ করছি, তাদের মরদেহ দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে এবং পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে। তারা দেশের সেবায় প্রবাসে ছিলেন, এখন দেশকেই তাদের পাশে দাঁড়াতে হবে।” চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে তিনি আরও জানান, সন্দ্বীপের প্রতিটি পরিবারে এখন শোকের মাতম, প্রতিটি ঘরে নিভে গেছে হাসির প্রদীপ। এই দুর্ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দিল—প্রবাস জীবন শুধু সংগ্রামের নয়, ঝুঁকিরও নাম। তিনি ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে কর্মরত বাংলাদেশিদের সড়ক নিরাপত্তা ও জীবনযাপনের মান উন্নয়নে সরকারের বিদেশ মন্ত্রণালয় ও প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সক্রিয় পদক্ষেপের আহ্বান জানান। শেষে রবিউল হোসেন বলেন— “আজ যারা হারিয়ে গেলেন, তারা আমাদের ভাই, আমাদের আপনজন। তাদের আত্মা যেন শান্তি পায়, তাদের পরিবার যেন সাহস পায়—এই প্রার্থনা করি আল্লাহর কাছে। আর যেন কোনো প্রবাসী ভাই এভাবে অকালমৃত্যুর শিকার না হয়।” ওমানের বালুকাময় মরুভূমির রাস্তায় যে গাড়িটি থেমে গেছে চিরতরে, তার সঙ্গে থেমে গেছে সাতটি স্বপ্ন। কিন্তু তাদের রক্ত-ঘামের অর্জন, তাদের ভালোবাসা, তাদের ত্যাগ—চট্টগ্রামের মানুষ ভুলবে না কখনো। শোকবার্তা: সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া লিঃ চট্টল চিত্র পত্রিকা,দৈনিক টুরিস্ট,ওমান প্রবাসী চট্টগ্রামবাসীর পক্ষ থেকে নিহতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জ্ঞাপন। চলুন, আমরা সবাই প্রার্থনা করি— "যারা আমাদের দেশের জন্য পরিশ্রম করে গেছে, প্রবাসের বুকে ঘাম ঝরিয়েছে—তাদের আত্মা যেন শান্তি পায়, তাদের পরিবার যেন না হারায় জীবনের সাহস ও আশা।"