মো. রাকিবঃ
চট্টগ্রাম নগরীর চান্দগাঁও এলাকায় এক তরুণীকে নিয়ে হত্যার হুমকি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও চরিত্র হননের ঘটনা ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। এই ঘটনায় ভুক্তভোগী নওরিন সুলতানা (১৯) গত ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ইং তারিখে চান্দগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-২০২৯, ট্র্যাকিং নং: N5H8J4) দায়ের করেছেন। জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছে, পারিবারিক দ্বন্দ্বের জেরে নওরিন সুলতানার খালাতো ভাই আব্দুর রহিম দিলু (৩১), পিতা-মৃত দোস্ত মোহাম্মদ লেদু এবং তার ভাই মো. হোসেন (কাতার প্রবাসী) দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের ভয়ভীতি প্রদর্শন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে আসছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টায় আব্দুর রহিম তার ফেসবুক আইডি “Rajvir Rohim” (লিংক: https://www.facebook.com/chittagong.dilo/videos/1728305507887090/?app-fbl) থেকে নওরিনকে নিয়ে কুৎসা রটনা করে। একই দিনে সন্ধ্যা ৭টায় মো. হোসেন তার ফেসবুক আইডি “HM Hossain” (লিংক: https://www.facebook.com/100004191933158/posts/...) থেকে অপপ্রচার চালায়। এরপর ২৮ সেপ্টেম্বর রাত ১১টা ৩০ মিনিটে একটি অজ্ঞাত নম্বর (০১৭৫৯৬৭০৮৩৭) থেকে নওরিনের ব্যক্তিগত মোবাইল (০১৬০১২৪২৪৬৩) নম্বরে ফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। এতে ভুক্তভোগী ও তার পরিবার মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনার ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি নওরিন সুলতানার ওপর হত্যার উদ্দেশ্যে হামলার মামলার সংবাদ দেশের একাধিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। এর মধ্যে রয়েছে— দৈনিক টুরিস্ট, দৈনিক আমাদের বাংলা, দৈনিক ভোরের আওয়াজ, দৈনিক আমাদের চট্টগ্রাম, সময়ের আলো, কথা টিভি, চট্টল চিত্রসহ আরও কয়েকটি অনলাইন পোর্টাল। এই সংবাদ প্রকাশের পর মামলার এক নম্বর পলাতক আসামি আজিজুল রহমান ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তিনি মোবাইল ফোনে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া গ্রুপের কর্ণধার, বিশিষ্ট সাংবাদিক-লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক মো. কামাল উদ্দিন-কে হুমকি দেন। শুধু তাই নয়, সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ জানাতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েও ভয়ভীতি প্রদর্শন করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, পুলিশ এখনো মূল আসামিদের গ্রেফতার করতে না পারায় তারা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুধু নওরিন সুলতানাকেই নয়, তার পরিবারকেও নিয়মিত হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা, চরিত্র হনন, এমনকি সংবাদপত্রের প্রকাশনা বন্ধ করার ষড়যন্ত্র চালানো হচ্ছে। চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল কবির বলেন— “আসামিরা যতই শক্তিশালী বা প্রভাবশালী হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। সাধারণ ডায়েরির ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। পাশাপাশি যারা জামিনে থেকে বাদী ও তার পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে, তাদের বিরুদ্ধেও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নওরিন সুলতানা ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ নজরদারি শুরু হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার আশাবাদী যে, দ্রুত আসামিদের গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে। এইদিকে-উকিল নোটিশ ও হুমকি: পলাতক আসামি আজিজুল রহমানের বিরুদ্ধে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়ার জিডি করার সিদ্ধান্ত- চট্টগ্রাম নগরীতে আলোচিত মামলার এক নম্বর পলাতক আসামি আজিজুল রহমান সম্প্রতি এক নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন। অভিযোগ উঠেছে, তিনি মোবাইল ফোনে হুমকি দিয়ে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়ার কর্ণধার ও সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছেন, যাতে তাদের প্রকাশিত সংবাদপত্রগুলো জোরপূর্বক প্রতিবাদ ছাপতে বাধ্য করেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি উকিল নোটিশ পাঠানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করেছেন। এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া গ্রুপের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে— তাদের গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো ছিল বাস্তব ঘটনার প্রতিফলন এবং জনস্বার্থে প্রচারিত। কিন্তু আসামি আজিজুল রহমান নানা কৌশলে সংবাদপত্রের স্বাধীনতা রুদ্ধ করতে চাইছেন। ফলে, সাদা কালো মাল্টিমিডিয়া গ্রুপ কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সংশ্লিষ্ট সকল পত্রিকার স্বপক্ষে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হবে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বিশিষ্ট সাংবাদিক, লেখক ও টেলিভিশন উপস্থাপক মো. কামাল উদ্দিন বলেন—“একজন আসামি আইনের হাত থেকে পালিয়ে বেড়াচ্ছে, অথচ সাংবাদিকদের হুমকি দিচ্ছে এবং সংবাদ প্রকাশে চাপ সৃষ্টি করছে। এটি সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর সরাসরি হস্তক্ষেপ। আমরা আইনের আশ্রয় নিচ্ছি, যাতে সত্য সংবাদ প্রকাশে কোনো বাধা সৃষ্টি না হয়।” আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে, জিডি দায়েরের পর ঘটনাটি খতিয়ে দেখা হবে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।