লেখক: মো. কামাল উদ্দিন
সময়ের নদী কখনও থামে না। ইতিহাসের পাতা বুকে চাপিয়ে নতুন নতুন ঘটনা, নতুন মানুষ, নতুন সমাজের ছাপ ফেলে যায়। কিন্তু কিছু প্রশ্ন থাকে চিরন্তন, যা সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হারায় না। যেমন—বোয়ালখালী। এই জনপদ, যার মাটি অপার সম্ভাবনায় ভরা, যার নদী, পাহাড়, প্রকৃতি ও মানুষ একসাথে তৈরি করতে পারত এক নতুন ইতিহাস, আজও কেন অবহেলিত? কেন এখানকার মানুষ স্বপ্ন দেখে, অথচ সেই স্বপ্ন বাস্তবতার আলো পায় না? কেন প্রতিশ্রুতির বন্যা আসে, কিন্তু উন্নয়নের বাতাস এসে এই জনপদকে শীতল করতে পারে না? এই চিরন্তন প্রশ্নের জবাব হতে চলেছেন এক মানুষ—রবিউল হোসেন। তিনি কোনো কাল্পনিক চরিত্র নন, কোনো ক্ষমতাশালী পরিবারের উত্তরসূরি নন। তিনি সেই মানুষ, যার হাতের পরিশ্রম, মেধা, দৃঢ় সংকল্প এবং হৃদয়ের আলোকচ্ছটাই আজ বোয়ালখালীর মানুষের জন্য নতুন দিনের সম্ভাবনার দীপশিখা জ্বালিয়েছে। প্রবাসে থাকা সত্ত্বেও তিনি শিকড়কে ভুলে যাননি; বরং নিজের স্বপ্নকে মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের সঙ্গে যুক্ত করেছেন। শৈশবের স্মৃতি ও শিকড়ের বন্ধন রবিউল হোসেন বেড়ে উঠেছেন বোয়ালখালীর মাটিতে। এই মাটির মেঠোপথে তার দৌড়, এই বাতাসে তার কিশোর বয়সের আনন্দমুখর হাসি, এই নদী ও পাহাড়ে তার প্রথম স্বপ্ন—সবই আজ তার জীবনের প্রেরণা। জীবন তাকে ভিন্ন পথে টেনে নিয়েছিল, কিন্তু হৃদয়ের গভীরে বোয়ালখালীর মাটির গন্ধ আর মানুষের কষ্ট তাকে সবসময় ফিরে এনেছিল। ওমানে প্রবাসী জীবনের কঠোর সংগ্রামের মাঝেও রবিউল হোসেন নিজের উন্নতির জন্যই সীমাবদ্ধ ছিলেন না। তিনি ভাবেননি শুধু নিজের জন্য। বরং তার চিন্তা ছিল—কিভাবে বোয়ালখালীর মানুষের জীবন পরিবর্তন করা যায়? কিভাবে যুবকদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা যায়? কিভাবে এই জনপদকে তার প্রাপ্য মর্যাদা দেওয়া যায়? তার এই চিন্তাভাবনা, তার এই অনল প্যাশন, ওমান থেকে হাজার হাজার মানুষের জীবনে আলোর রশ্মি হয়ে গেছে। যারা একসময় অনিশ্চিত ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে ছিলেন, আজ তারা নিজেরা দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করছেন। কোটি কোটি টাকা রেমিট্যান্স পাঠিয়ে তারা বোয়ালখালীর মাটিকে সমৃদ্ধ করে তুলেছেন। আর এই পুরো ব্যবস্থার পেছনে রয়েছেন রবিউল হোসেন—একজন স্বপ্নদ্রষ্টা। বোয়ালখালী: সম্ভাবনার শহর, কিন্তু অবহেলার বৃত্তে বোয়ালখালী হতে পারত চট্টগ্রামের একটি আধুনিক শহর। শিল্প-বাণিজ্যের কেন্দ্র, পর্যটনের কেন্দ্র, যেখানে নদী, পাহাড়, শহর—সবই একসাথে গড়ে তুলতে পারত জীবনের নতুন ছন্দ। কিন্তু এই জনপদ আজও পড়ে আছে উন্নয়ন বঞ্চিত। কেবল একটি সেতু—কালুরঘাট সেতু—এখানেই হতে পারত বিপ্লব। নতুন শিল্প কারখানা, হাজার হাজার কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত—সবই হয়ে উঠতে পারত বাস্তব। কিন্তু প্রশাসন আসে, প্রতিশ্রুতি দেয়, চলে যায়। বোয়ালখালীর ভাগ্য অপরিবর্তিত থাকে। এবার সেই পরিবর্তনের ডাক দিচ্ছেন রবিউল হোসেন। তিনি মানুষের সামনে একটি স্বপ্নের রূপরেখা এঁকেছেন। বোয়ালখালীর তরুণদের বলছেন—"এগিয়ে আসো, তোমাদের হাতে এই জনপদের ভবিষ্যৎ। এই মাটি তোমাদের, এই স্বপ্ন তোমাদের। এক হয়ে কাজ করো, নিজ হাতে নিজের ভাগ্য বদলাতে চাও—তাহলে কেউ তোমাদের থামাতে পারবে না।" স্বপ্নের দীপশিখা: তরুণদের আহ্বান রবিউল হোসেন নিজেকে বোয়ালখালীর সন্তান হিসেবে পরিচয় দেন। তিনি বলেন, আমি কোনো নতুন আগন্তুক নই। আমি এই মাটির সন্তান। এখানে আমার শৈশব কেটেছে, এখানেই আমার শেকড়। আমি চাই, বোয়ালখালীর হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনতে। আমি চাই, এই অবহেলিত জনপদকে আলোয় ভাসাতে।" তার চোখে স্বপ্ন—একটি আধুনিক, উন্নত, সম্ভাবনাময় বোয়ালখালী। যেখানে তরুণরা চাকরির আশায় হাত গুটিয়ে বসে থাকবে না। যেখানে পরিবারগুলো অভাব-অনটনের যন্ত্রণায় কাতর হবে না। যেখানে অর্থনীতির চাকা সচল থাকবে, পর্যটন শিল্প বিকশিত হবে, নদীর স্রোতের সঙ্গে মানুষের স্বপ্নও বহমান থাকবে। আজকের এই মুহূর্ত কেবল আনন্দের নয়, এটি এক নতুন প্রতিজ্ঞার সময়। রবিউল হোসেন দেখিয়েছেন পথ, দেখিয়েছেন সম্ভাবনা। এখন সময় আমাদের—স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার, নিজেদের মাটিকে আলোকিত করার। সাহিত্য, সংবাদ ও সমাজসেবা: রবিউল হোসেনের বহুমাত্রিক ভূমিকা কেবল প্রবাসী জীবনের সফলতা নয়, রবিউল হোসেন সংবাদপত্রের মাধ্যমে সত্য ও তথ্যের আলো ছড়িয়ে দিচ্ছেন। তিনি ‘চট্রল চিত্র’ পত্রিকার কর্ণধার হিসেবে দায়িত্ব নিয়ে বোয়ালখালী ও চট্টগ্রামের মানুষের কাছে সমাজ ও মানবতার বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন। প্রবাসী জীবনের অর্জন, সমাজসেবার উদাহরণ এবং সাংবাদিকতার মাধ্যমে জনমত গঠন—সব মিলিয়ে রবিউল হোসেন আজ বোয়ালখালীবাসীর গর্ব। সময়ের ডাক: আমাদের দায়িত্ব এই জনপদকে নতুন দিনের আলোয় উদ্ভাসিত করার যাত্রা শুরু হয়েছে। এবার আমাদেরও সময়—স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দেওয়ার, নিজেদের মাটিকে আলোকিত করার। বোয়ালখালীবাসীর জেগে ওঠার, ঐক্যের দীপ্তি ছড়িয়ে দেওয়ার। রবিউল হোসেন দেখিয়েছেন পথ, দেখিয়েছেন সম্ভাবনা। ইতিহাস এখন আমাদের প্রতীক্ষা করছে। আমরা কি সেই পরিবর্তনের অংশ হব? আমরা কি নিজেরা নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ব? সময় আর অপেক্ষা করে না। সিদ্ধান্ত আমাদেরই নিতে হবে। আজকের স্বপ্নকেই পরবর্তী প্রজন্মের গল্পের অংশ করতে হলে আমাদের হাত মিলতে হবে, মন জোড়াতে হবে, একসাথে এগোতে হবে।