
মো.কামাল উদ্দিনঃ
মানুষের ভিড়ে কিছু মুখ থাকে আলোকবর্তিকার মতো,
যাদের গল্প শোনার মতো, লেখার মতো, স্মৃতিতে রাখার মতো। রিদুয়ান হৃদয় তেমনই এক দীপ্ত প্রতীক—
যার সংগ্রাম সাহসের, যার সাফল্য তারুণ্যের। শিক্ষায় তার যাত্রা এক অন্তহীন অনুসন্ধান, সাংবাদিকতায় সত্যের পতাকা হাতে তার নির্ভীক পদচারণ।
সমাজসেবায় মানুষের প্রতি মমতা,
সংস্কৃতিতে শিল্পচর্চার উজ্জ্বল উপস্থিতি।
আমি তাকে দেখি আমার প্রিয় ছোট ভাইয়ের রূপে, আর গর্বে ভরে উঠি তার প্রতিটি জয়গাথায়। সংগ্রাম যেখানে দীপ্তি ছড়ায়, সাফল্য সেখানে ইতিহাস রচনা করে। রিদুয়ান হৃদয় আমার চোখে সেই আলোকবর্তিকা— শিক্ষায় প্রখর, সাংবাদিকতায় নির্ভীক, সমাজসেবায় নিবেদিত, সংস্কৃতিতে সৃজনশীল। আমার প্রিয় মানুষ এই প্রতিভারস্ফূরণ তার প্রতিটি জয় আমাকে গর্বে ভরিয়ে তোলে।“রিদুয়ান হৃদয়— সংগ্রামের দীপ্তি, সাফল্যের ইতিহাস-মানুষের জীবনে এমন কিছু আলোকিত মুখ থাকে, যাদের গল্প শোনার মতো, লেখার মতো। কারণ তারা নিজেদের জীবনকে সাজিয়েছেন সংগ্রাম, সাহস আর আত্মবিশ্বাসের মজবুত বাঁধনে। এমন মানুষরা আমাদের সময়কে অর্থপূর্ণ করে তোলে, পথ হারানোদের পথ দেখায়। আমার অতিপ্রিয় ছোট ভাইয়ের মতো একজন তরুণ, যিনি আজকের যুগে এক অনন্য প্রতীক হয়ে উঠেছেন—তার নাম রিদুয়ান হৃদয়। আমি জানি, তার সাফল্যের পূর্ণাঙ্গ বৃত্তান্ত লিখে শেষ করা যাবে না। কারণ, সে এক বহুমুখী প্রতিভা—যিনি শিক্ষা, সাংবাদিকতা, সমাজসেবা, সংস্কৃতি, ভ্রমণ, তথ্যপ্রযুক্তি ও রাজনীতির প্রতিটি ক্ষেত্রেই সাফল্যের দীপ্ত ছাপ রেখেছেন। তবুও আজকের দিনে আমার কলমে তার গল্প লিখে রাখছি ভালোবাসার দায়ে, গর্বের আবেগে, আর এই বিশ্বাসে যে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম তাকে অনুকরণীয় এক আলোকবর্তিকা হিসেবেই দেখবে।
শৈশব: গ্রামের মাটিতে বেড়ে ওঠা-আনোয়ারা উপজেলার হেটিখাইন গ্রামের সেই শান্ত নিরিবিলি পরিবেশে জন্ম রিদুয়ান হৃদয়ের। চারপাশে সবুজ, মাটি-গন্ধে ভরা জীবনের সূচনা। ছোটবেলা থেকেই তার চোখ ছিল কৌতূহলী, মন ছিল অনুসন্ধিৎসু। গ্রামীণ জীবনের সরলতা তার চরিত্রে এনেছে দৃঢ়তা আর অটল বিশ্বাস। একটি সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে বেড়ে ওঠায় পেয়েছেন ধর্মীয় শিক্ষা ও নৈতিকতার ভিত্তি। সেখান থেকেই শুরু তার শিক্ষার যাত্রা, যা পরবর্তীতে তাকে নিয়ে যায় বহুদূর। শিক্ষাজীবন: জ্ঞানের নিরন্তর অনুসন্ধান-
হৃদয়ের শিক্ষাজীবন যেন এক আলোকিত পথচলার নাম। প্রথমে প্রাথমিক শিক্ষার ধাপ পেরিয়ে তিনি ভর্তি হন চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান—জামেয়া আহমদিয়া সুন্নিয়া আলিয়া মাদ্রাসায়। এখানে তিনি শুধু ধর্মীয় শিক্ষাই অর্জন করেননি, বরং মেধার দীপ্তি ছড়িয়ে কৃতিত্বের সঙ্গে সম্পন্ন করেছেন দাখিল, আলিম, ফাজিল ও কামিল ডিগ্রি।
কিন্তু জ্ঞানের প্রতি তার পিপাসা এখানেই থেমে থাকেনি। আধুনিক শিক্ষার প্রতি অদম্য টান তাকে নিয়ে যায় পোর্টসিটি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে, যেখানে তিনি সাংবাদিকতায় অনার্স সম্পন্ন করেন। এরপরও থেমে না থেকে বর্তমানে অধ্যয়ন করছেন প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (PIB)-এ সাংবাদিকতায় মাস্টার্সে। পাশাপাশি ভর্তি হয়েছেন বঙ্গবন্ধু ল’ টেম্পল কলেজে আইন বিষয়ে পড়াশোনার জন্য। এ যেন এক তরুণের নিরন্তর অনুসন্ধান—যিনি বিশ্বাস করেন শিক্ষা হলো জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ।
সাংবাদিকতা: সত্যের পথে নির্ভীক অভিযাত্রা-সাংবাদিকতা শুধু একটি পেশা নয়, এটি সমাজের দর্পণ। রিদুয়ান হৃদয় সেই দর্পণ হাতে তুলে নিয়েছেন সাহস আর সততার সঙ্গে।
তিনি কাজ করেছেন একাধিক গণমাধ্যমে—CTGTIMES24, ChattalaTV, Chittagong Live, CVoice24। অভিজ্ঞতা আর দক্ষতায় সমৃদ্ধ হয়ে বর্তমানে তিনি নিউজ টুডে-তে স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে কর্মরত। সত্য প্রকাশের এই অভিযাত্রায় তিনি নির্ভীক। অন্যায়কে অন্যায় বলতে তার দ্বিধা নেই। সাংবাদিক সমাজের অধিকার রক্ষার আন্দোলনেও তিনি ছিলেন অগ্রণী। চট্টগ্রাম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (CRA)-এর আইন ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম সাংবাদিক সংস্থার সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তিনি সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। তার সাংবাদিকতা যেন কেবল খবরে সীমাবদ্ধ নয়, বরং এক সংগ্রাম—ন্যায় প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। সমাজসেবা: মানুষের প্রতি ভালোবাসার অঙ্গীকার-রিদুয়ান হৃদয় কেবল পেশাজীবী নন, তিনি মানুষপ্রেমী। সমাজের জন্য, তরুণদের জন্য, অসহায়দের জন্য তার হৃদয় সবসময় উন্মুক্ত। তিনি স্বপ্নযাত্রী ফাউন্ডেশন-এর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া যুক্ত আছেন প্রথম আনোয়ারা, স্বপ্নযাত্রী ফুড ব্যাংক, হেটিখাইন ইউনাইটেড ক্লাব, লিও ক্লাব অব গোল্ডেন সিটি এবং আরও অনেক সংগঠনের সঙ্গে। মানুষের দুঃখে-সুখে পাশে দাঁড়ানোই তার নেশা। এই মানবিক দায়বদ্ধতা তাকে করেছে সবার প্রিয়।
সংস্কৃতি: মননের উন্মেষ-
সংস্কৃতি ছাড়া মানুষের জীবন অপূর্ণ। রিদুয়ান হৃদয় সেটি জানেন, বোঝেন এবং চর্চা করেন। তিনি চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমীর নাট্যকলা ও আবৃত্তি বিভাগে নিয়মিত চর্চা করেন। তার আবৃত্তির ভরাট কণ্ঠ আর মঞ্চনাটকে অভিনয় দর্শকদের মুগ্ধ করে। তিনি সক্রিয় সদস্য মুক্তধ্বনি আবৃত্তি সংসদ, নাট্যধার, জুলাই সংস্কৃতিক সংসদ, মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থান উদযাপন পরিষদসহ নানা সংগঠনের। সংস্কৃতির এই চর্চাই তাকে করে তুলেছে আরও আলোকিত, আরও পূর্ণাঙ্গ।
ভ্রমণ: দেশকে জানার এক অদম্য নেশা-হৃদয় একজন আপাদমস্তক ভ্রমণপিপাসু। দেশকে জানার অদম্য নেশায় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৫৫টি।
বান্দরবানের পাহাড় থেকে কুয়াকাটার সমুদ্র, মহাস্থানগড় থেকে পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার, সুন্দরবন থেকে জাফলং—সবখানেই তার পদচিহ্ন। এই ভ্রমণ কেবল আনন্দের জন্য নয়; বরং দেশকে হৃদয়ে ধারণ করার, সংস্কৃতিকে জানার, ইতিহাসকে অনুভব করার এক অনন্য প্রয়াস। তথ্যপ্রযুক্তি: ডিজিটাল প্রজন্মের আইকন-প্রযুক্তিই ভবিষ্যতের চালিকাশক্তি। রিদুয়ান হৃদয় সেটি অনুধাবন করেছেন তারুণ্যের শুরুতেই। তিনি প্রতিষ্ঠা করেছেন বাংলাদেশ সাইবার এক্সপ্রেস, যেখানে তিনি সিইও হিসেবে নেতৃত্ব দিচ্ছেন। একইসঙ্গে তিনি সুন্নি সাইবার ফোর্স বাংলাদেশ-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী। এখানে হাজারেরও বেশি তরুণ যুক্ত হয়ে শিখছে সাইবার নিরাপত্তা ও আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার। তার এই অবদান প্রমাণ করে—তিনি কেবল সাংবাদিকই নন, প্রযুক্তির জগতে এক অনন্য উদ্যোক্তাও।
নেতৃত্ব ও রাজনীতি: তারুণ্যের জাগরণ-রিদুয়ান হৃদয় সবসময় ছিলেন সচেতন নাগরিক, দক্ষ সংগঠক। ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে শুরু করে ঐতিহাসিক জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত প্রতিটি যৌক্তিক আন্দোলনে তার উপস্থিতি ছিল সক্রিয়।
বর্তমানে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টি (NCP)-এর চট্টগ্রাম মহানগর সমন্বয় কমিটির সদস্য এবং চট্টগ্রাম মিডিয়া সেল-এর প্রধান। তরুণ সমাজকে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রেও তিনি নিজেকে প্রমাণ করেছেন যোগ্য নেতা হিসেবে।
লক্ষ্য ও অনুপ্রেরণা রিদুয়ান হৃদয়ের দৃঢ় বিশ্বাস—“পরিশ্রম ও সততা ছাড়া কোনো সাফল্য স্থায়ী নয়।”
প্রতিকূলতাকে তিনি দেখেন সুযোগ হিসেবে। ভবিষ্যতে তিনি সাংবাদিকতা ও আইন পেশায় নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান, যাতে সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা যায়। তার পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি, সংস্কৃতি ও সমাজসেবার মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে আলোকিত পথে পরিচালিত করাই তার জীবনদর্শন। আমার অনুভূতি: প্রিয় ছোট ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসা-আমি যখন তাকে দেখি, তখন মনে হয়—এই যুগের প্রকৃত আইকন যেন আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে। হয়তো শত ব্যস্ততার কারণে এতদিন তাকে নিয়ে লিখিনি, কিন্তু আজ মনে হলো, অন্তত কিছু লিখি। রিদুয়ান হৃদয় আমার কাছে শুধু একজন সাংবাদিক নন, শুধু একজন উদ্যোক্তা নন, তিনি আমার প্রিয় ছোট ভাই। তার সাফল্য আমার গর্ব, তার সংগ্রাম আমার অনুপ্রেরণা।
আজ তার সম্পর্কে লিখতে গিয়ে বারবার মনে হয়েছে—এই তরুণের আলো নিভে যাওয়ার নয়। সে আরও দূরে যাবে, আরও উঁচুতে উঠবে, আরও মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে। রিদুয়ান হৃদয়ের গল্প কেবল একজন তরুণের সাফল্যের কাহিনি নয়; এটি হলো সংগ্রামী তারুণ্যের প্রতীক। শিক্ষা থেকে সাংবাদিকতা, সমাজসেবা থেকে তথ্যপ্রযুক্তি—প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি প্রমাণ করেছেন মেধা, সাহস ও সততার মূল্য। তিনি এই প্রজন্মের কাছে শুধু প্রেরণা নন, ভবিষ্যতের পথপ্রদর্শকও। আর আমার কাছে তিনি সেই প্রিয় ছোট ভাই—যাকে নিয়ে গর্ব করতে হয়, যাকে নিয়ে লিখতে হয়, যাকে ভালোবাসতে হয়।
লেখকঃ সাংবাদিক গবেষক টেলিভিশন উপস্থাপক।