
মো. কামাল উদ্দিন
সভ্যতার বিকাশ হয়েছে শিক্ষার ছোঁয়ায়। সেই আদিম সমাজ থেকে মানুষ ধাপে ধাপে সভ্যতার আলোয় এসেছে শিক্ষায় আলোকিত হয়ে। জ্ঞান-বিজ্ঞান, চিন্তা-চেতনা, নৈতিকতা-মূল্যবোধ সবকিছুর উৎকর্ষ সাধিত হয়েছে শিক্ষার মাধ্যমে। যুগের পরিবর্তন হয়েছে, নতুন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে। মানুষের প্রয়োজনীয়তার স্বরূপ বদলে গেছে। এর সাথে তাল মিলিয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষানীতি প্রণয়নের মাধ্যমে শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিকায়ন করা হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষাব্যবস্থায় পরিবর্তন এনে যুগোপযোগী করার চিন্তা করছে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী এক বক্তব্যে সে ধরনেরই আভাস দিয়েছেন। কিন্তু শিক্ষাব্যবস্থার মৌলিক সমস্যা কোথায়, কী ধরনের শিক্ষাব্যবস্থা যুগোপযোগী, আমাদের শিক্ষা কাঠামোয় বর্তমানে কী দরকার এবং তা এদেশের ছাত্র-ছাত্রী ও অভিভাবকদের জন্য কতটা প্রয়োজনীয় এসব জানাতেই আমাদের এবারের প্রবন্ধ।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা উপনিবেশিক ধাঁচে গড়া। ব্রিটিশ উপনিবেশিককালে ব্রিটিশরা উপমহাদেশে তাদের শাসন ও শোষণ পাকাপোক্ত করার জন্য তাদের সিদ্ধির অনুকূল করে শিক্ষাব্যবস্থাকে বিন্যাস করে। যে শিক্ষাব্যবস্থা ছিল মূলত কেরানি তৈরির একটি উৎকৃষ্ট কৌশল। পাকিস্তান আমলেও সে শিক্ষাব্যবস্থার কোনো লক্ষণীয় পরিবর্তন সাধিত হয়নি। বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পরে ১৯৭২ সালে ড. কুদরত-এ-খুদার নেতৃত্বে একটি শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। উক্ত শিক্ষা কমিশন ভারত সফর করে যে শিক্ষা নীতিমালা সুপারিশ করে, তার ভিত্তি ধর্মনিরপেক্ষতা। এরপর কয়েকটি শিক্ষা কমিশনের মাধ্যমে শিক্ষানীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। সর্বশেষ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মিঞার নেতৃত্বে গঠিত হয় জাতীয় শিক্ষা কমিশন (২০০৩-০৪), যার অন্য নাম মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান শিক্ষা কমিশন ২০০৩-০৪। এ কমিশন বাংলাদেশে এসএসসি পর্যন্ত একমুখী শিক্ষা প্রবর্তনের সুপারিশ করে। এ কমিশনের শিক্ষানীতি বাস্তবায়িত হয়নি। উল্লেখ্য, শুধু এটি নয় স্বাধীনতার পর গঠিত ৭টি শিক্ষা কমিশনের একটিও পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হয়নি।
বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা পরিবর্তন : স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সালে প্রথম শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। ২০০৩ সালে গঠিত হয় সর্বশেষ শিক্ষা কমিশন। কিন্তু একটি কমিশনও পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি। শিক্ষাব্যবস্থা চলছে মূলত জোড়াতালির শিক্ষানীতি দিয়ে। তবে বর্তমান সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ শিক্ষানীতি চালু করতে যাচ্ছে। মাননীয় শিক্ষামন্ত্রী একাধিকবার জানিয়েছেন তারা ড. শামসুল হক শিক্ষা কমিশন এবং ড. কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের আলোকে কয়েক মাসের মধ্যে একটি শিক্ষানীতি চালু করতে যাচ্ছেন। কারণ দুটি কমিশনের রিপোর্ট প্রায় একই। তবে যে শিক্ষানীতিটি চালু করা হবে তাতে দুটির সমন্বয় ছাড়াও যুগোপযোগিতা ও আধুনিকতার ছোঁয়া থাকবে। কিন্তু কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের বাস্তবায়নের ঘোষণার পর পর দেশব্যাপী শুরু হয় হৈচৈ। কারণ ঐ কমিশনের ভিত্তি ছিল ধর্মনিরপেক্ষতা।
ড. কুদরত-এ-খুদা কমিশন : তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আগ্রহ এবং নির্দেশে ১৯৭২ সালের ২৫ জুলাই বাংলাদেশ শিক্ষা কমিশন গঠিত হয়। বিজ্ঞানী ও শিক্ষাবিদ ড. কুদরাত-এ-খুদার নেতৃত্বে এ কমিশন গঠিত হয় বলে তার নামেই পরিচিতি পায় এ কমিশন। ১৯৭৪ সালের ৩০ মে এ কমিশন ২৯৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয়।
মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা : ড. কুদরত-এ-খুদা কমিশন রিপোর্টে এক পৃষ্ঠায় মাদ্রাসা শিক্ষার বিষয়টি ‘মাদ্রাসা শিক্ষা ও টোল শিক্ষা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষার কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা নামে একটি বিষয় রয়েছে। নবম শ্রেণী থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষা সম্পূর্ণ রূপে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীতে কলা বিভাগে ধর্মকে ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য : খুদা কমিশনের প্রথম অধ্যায়ে শিক্ষার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা। শিক্ষার মাধ্যমে এ বিষয়গুলো শিক্ষার্থীর চিত্তে যাতে জাগ্রত ও বিকশিত হয় এবং বাস্তব জীবনে যাতে এর সম্যক প্রতিফলন ঘটে সেদিকে দৃষ্টি রাখতে হবে। এছাড়া শিক্ষার মাধ্যমে যাতে শিক্ষার্থীদের মনে দেশপ্রেম নৈতিক মূল্যবোধ, মানবতাবোধ নেতৃত্ব ও সংগঠনের গুণাবলি, কর্মকুশলী এবং সর্বোপরি সমাজকে উন্নতির দিকে নিয়ে যেতে পারে তা নিশ্চিত করতে হবে।
শিক্ষার স্তর : মাদ্রাসাসহ দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক শিক্ষার স্তর হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। মাধ্যমিক স্তর হবে ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত। মাধ্যমিক স্তরে নবম শ্রেণী থেকে শিক্ষাক্রম দু’ভাগে বিভক্ত হবে- বৃত্তিমূলক ও সাধারণ শিক্ষা। দশম শ্রেণী শেষে পাবলিক পরীক্ষা হবে। এরপর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণী হবে বহুমুখী স্তরের শিক্ষা। অর্থাৎ এখন যেমন কলা, বাণিজ্যিক ও বিজ্ঞান বিভাগ আছে তেমনি থাকবে। তবে এর প্রত্যেক শাখায় কিছু কারিগরি বিষয় আবশ্যিক পাঠ্য হিসেবে থাকবে।
জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন কমিটি / শামসুল হক কমিশন : ১৯৯৭ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশন রিপোর্ট বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়। সময়ের সাথে সঙ্গতি রেখে খুদা কমিশনের রিপোর্ট বাস্তবায়নের জন্য গঠিত হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি শামসুল হকের নেতৃত্বে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন। এ কমিশনে প্রাথমিক শিক্ষা সম্পর্কে বলা হয় প্রাথমিক শিক্ষার স্তর হবে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত। ইবতেদায়ি মাদ্রাসায়ও একই নিয়ম চালু হবে। পাঠ্য বিষয় হিসেবে থাকবে মাতৃভাষা, গণিত, পরিবেশ পরিচিতি সমাজ ও বিজ্ঞান। এছাড়া থাকবে চারু ও কারুকলা, শারীরিক শিক্ষা, সঙ্গীত ইত্যাদি। তৃতীয় শ্রেণী থেকে ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষা থাকবে। বর্তমান উচ্চমাধ্যমিক স্তর বিলুপ্ত করে শুধু মাধ্যমিক স্তর করা হবে। মাধ্যমিক স্তর নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণী পর্যন্ত হবে। মাধ্যমিক স্তরে ৩টি ধারা থাকবে- সাধারণ, কারিগরি শাখায় ১০০ নম্বরের ধর্মীয় শিক্ষা বাধ্যতামূলক। মাদ্রাসা ও ধর্মীয় শিক্ষা সম্পর্কে শামসুল হক শিক্ষা কমিশনে বলা হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা বর্তমানে যে ইবতেদায়ি, দাখিল, আলিম এবং কামিল মাদ্রাসা আছে সেগুলোও প্রাইমারি ও হাই স্কুলের মতো পুনর্বিন্যাস করা হবে। ইবতেদায়ি মাদ্রাসা পঞ্চম শ্রেণীর বদলে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত করা হবে। এরপরে দাখিল ও আলিম দুই বছর করে থাকবে। ফাজিল করা হয়েছে তিন বছর। কামিল এক অথবা দুই বছর। ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারে ইসলাম, হিন্দু ও খ্রিস্টান ধর্ম শিক্ষার কথা বলা হয়েছে।
দুই কমিশনের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য : কুদরত-এ-খুদা কমিশনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তীতে বিভিন্ন ধরনের শিক্ষানীতি প্রণয়ন করা হয়। তবে কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের রিপোর্টের সাথে অনেক বিষয়ে এর মৌলিক পার্থক্য রয়েছে। খুদা কমিশনে প্রাথমিক স্তরে পঞ্চম শ্রেণী পর্যন্ত কোন ধর্মীয় শিক্ষা রাখা হয়নি। ষষ্ঠ শ্রেণী থেকে অষ্টম শ্রেণী পর্যন্ত ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা নামে একটি বিষয় রাখা হয়েছে। এছাড়াও নবম-দশম শ্রেণীতে গিয়ে আবার ধর্মীয় শিক্ষা সম্পূর্ণরূপে উঠিয়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু শামসুল হক প্রণীত শিক্ষানীতিতে তৃতীয় থেকে দশম শ্রেণী পর্যন্ত এখন যেমন ১০০ নম্বরের বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষা রয়েছে তেমনি রাখা হয়েছে। শিক্ষা সম্পর্কে খুদা কমিশনে ২৯৩ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে মাত্র এক পৃষ্ঠায় মাদ্রাসা শিক্ষা সম্পর্কে বলা হলেও শামসুল হক শিক্ষা কমিশনের প্রতিবেদনে মাদ্রাসা শিক্ষার আধুনিকায়নে এবং উন্নয়নে বিশদ বর্ণনা করে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষা আমাদের জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থার একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং এ শিক্ষার স্বকীয়তা বজায় রেখে একে আরো যুগোপযোগী করার কথা বলা হয়েছে। মাদ্রাসা শিক্ষার মান উন্নয়ন, বৃত্তিপ্রথা চালু, অবকাঠামোগত উন্নয়ন, কারিগরি বিষয়ের প্রতি গুরুত্বারোপ, অধিক হারে মহিলা মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা, বিনামূল্যে বই প্রদানসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধার সুপারিশ করা হয়েছে শামসুল হক শিক্ষা কমিশন প্রতিবেদনে। মাদ্রাসা বোর্ড এবং অন্যান্য প্রশাসনিক স্তরে সংস্কারেরও সুপারিশ করা হয়েছে। মাদ্রাসা বোর্ড পুন:গঠন, শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে মাদ্রাসার জন্য আলাদা একটি পদ সৃষ্টি এবং উচ্চ শিক্ষার দেখাশোনার জন্য জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি শাখা স্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।
শিক্ষাক্ষেত্রে মৌলিক সমস্যাসমূহ : ব্রিটিশ আমল থেকেই আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় বড় ধরনের ত্র“টি রয়েছে। কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাব্যবস্থা প্রাধান্য পায়নি কখনো। অথচ উন্নত বিশ্বে একজন শিক্ষার্থীর মেধার গভীরতা দেখে তার জন্য শিক্ষাস্তর নির্দিষ্ট করে দিত। অর্থাৎ সবাইকে উচ্চশিক্ষার জন্য সেখানে বাধ্য করা হয় না। সেখানে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষার প্রাধান্য দেয়া হয় বেশি। আর আমাদের দেশে এমএ আর এমবিএ পাস যেন না করলে শিক্ষা সমাপ্ত হয় না। জোর করে এভাবে চাপিয়ে দিয়ে দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলা যায় না। বাংলাদেশের যে জনসংখ্যা এবং শিক্ষিত বেকারের ¯তূপ এর জন্য এ ধরনের আরোপিত এবং জবরদস্তমূলক শিক্ষা অনেকাংশে দায়ী। কিন্তু কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষাকে প্রধান্য দিলে চীনের মতো আমরা আমাদের জনসংখ্যাকে সম্পদে পরিণত করতে পারি।
আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক ত্র“টিসমূহ : ১. শিক্ষাঙ্গন কলুষিত ছাত্র রাজনীতি, ২. সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি, ৩. কোচিং সেন্টারের দৌরাত্ম্য, ৪. সেশন জট, ৫. পরীক্ষায় নকল ও অসদুপায় অবলম্বন।
কতিপয় সুপারিশ : বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতিসহ যে শিক্ষাব্যবস্থা চালু আছে তার অধিকাংশই কুদরত-এ-খুদা শিক্ষা কমিশনের, যা আজ থেকে ৩৬ বছর আগের। বর্তমান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ফলে বর্তমান সময়ের জন্য উপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি। এ সংক্রান্ত কতিপয় সুপারিশ হলো : ১. সমাজ ও রাষ্ট্রীয় চাহিদার সাথে সঙ্গতি রেখে পাঠ্যক্রম ও শিক্ষাস্তর নির্ধারণ করা উচিত; ২. ধর্মীয় ভিত্তিকে নৈতিকতার ভিত্তি হিসেবে গ্রহণ করা; ৩. প্রাথমিক শিক্ষার স্কুল ত্যাগরোধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ৪. মাদ্রাসা শিক্ষাকে উন্নত ও বিজ্ঞানসম্মত করা; ৫. উচ্চশিক্ষায় ও গবেষণায় কম্পিউটার ও ইলেক্ট্রনিক্স এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংযুক্ত করা; ৬. ব্রেনড্রেন বা মেধাপাচার বন্ধের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা; ৭. নকল রোধ করার জন্য পরীক্ষা পদ্ধতিকে পুনর্বিন্যাস করা; ৮. নোট বই, টিউশনি ও কোচিং সেন্টার বন্ধ করা; ৯. শিক্ষকদের দায়িত্ব ও মর্যাদা বৃদ্ধি করা; ১০. শিক্ষা প্রশাসনকে রাজনৈতিক ও আমলাতান্ত্রিক প্রভাবমুক্ত করা; ১১. শিক্ষার সুযোগ ও শিক্ষা উপকরণ আধুনিক করা; ১২. সামগ্রিক শিক্ষাব্যবস্থার উদ্দেশ্য হতে হবে সৎ, নীতিবান, যোগ্য ও দক্ষ মানুষ গড়া, ১৩. শিক্ষকদের বেতন-ভাতা ও সুবিধাদি বৃদ্ধি এবং প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা; ১৪. মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আসতে উদ্বুদ্ধ করা; ১৫. ছাত্র-শিক্ষক সম্পর্ক জোরদার করা।
শিক্ষা জাতির মেরুদণ্ড। তাই শিক্ষাব্যবস্থা যদি আধুনিক এবং উন্নত না হয় তবে দক্ষ জাতি গঠন অসম্ভব। আর অদক্ষ জাতি দিয়ে দিন বদল সম্ভব নয়। তাই বর্তমান সরকারের উচিত কোনো ধরনের বিতর্কের সৃষ্টি না করে আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষাব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে জাতিকে দক্ষ করে গড়ে তোলা- তবেই প্রকৃত দিন বদল সম্ভব হবে।