গবেষণায় মরণোত্তর একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা, বরেণ্য বুদ্ধিজীবি, চট্টলতত্ত্ববিদ, গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর ১০৩তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে লোককলা চর্চা কেন্দ্র বাংলাদেশ ও সন্দীপনা কেন্দ্রীয় সংসদের যৌথ উদ্যোগে দিনভর কর্মসূচি ২৪ আগস্ট সংগঠনের দোস্ত বিল্ডিংস্থ আঙ্গীনায় ও ডিসি হিলস্থ গোল চত্তরে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ১০টায় কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সন্দীপনার প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক চবি গবেষক, ভাস্কর ডি. কে. দাশ (মামুন)। লোককলা চর্চা কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী লায়ন দুলাল কান্তি বড়ুয়ার সভাপত্তিত্বে অনুষ্ঠিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথিবৃন্দের উপস্থিত ছিলেন- সাংবাদিক বেলায়েত হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ মোহাম্মদ শামসুদ্দিন, অধ্যাপক মহি মোহাম্মদ, কবিয়াল আব্দুল লতিফ, কবিয়াল হরিপদ দেয়ারী, বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা কামাল উদ্দিন, সংগঠক মিলন রূদ্র, সাংবাদিক মুকুল শিকদার, সংগঠক নিবেদিতা আচার্য্য, সংগঠক মোহাম্মদ হোসেন, কবিয়াল সন্তোষ কুমার দে, নাট্যজন কে. কে বাবুল, নাট্যজন জাবের হোসেন, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম নবী, সংগঠক প্রনবরাজ বড়ুয়া, নাট্যকর্মী এমরান হোসেন মিঠু, জাহানারা পারুল, শাহিন হোসেন, অধ্যাপক ডাঃ ডি.কে. ঘোষ, কবিয়াল নির্মল শীল, কবিয়াল বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রসুল, কবিয়াল কংসরাজ দত্ত প্রমুখ। আলোচনা পর্বের শুরুতে গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর নন্দিত জন্মদিনে সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন, শিল্পী এম.এ. হাশেম, শিল্পি মুসলিম আলী জনি, নাট্যকর্মী পম্পি দাশ, শিল্পি ডা. শিউলি চৌধুরী, শিল্পি বৃষ্টি দাশ, উজ্জ্বল সিংহ, শিল্পি বিথি সিংহ, দিয়া দাশ, মো: মিজানুর রহমান প্রমুখ।
নাট্যকর্মী মেজবাহ্ উদ্দিন চৌধুরীর সঞ্চালনায় আলোচনায় বক্তারা বলেন- চট্টল তত্ত্ববিদ গবেষক আবদুল হক চৌধুরী বায়ান্নের মহান ভাষা আন্দোলন ও ৭১’র মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণীকারী একজন সাহসী যোদ্ধা শুধু নন, সকল আন্দোলন সংগ্রামের ইতিবৃত্ত নিয়ে সারগর্ভ একাধিক গ্রন্থের প্রণেতা। বলা চলে, তিনি চট্টগ্রাম তথা এই বাংলার এক গুনধর ভূমিপুত্র। কায়িক ও মানসিক শ্রম লগ্নি করে তিনি এই বাংলার দেশের ঐতিহ্যের, সাহিত্য-সংস্কৃতির ইতিহাস ও লোকজ বিষয় আসয়ের উপর গুরুত্বপূর্ণ গবেষনা আমাদের জন্য গ্রন্থগত করে গেছেন। তার বহু মূল্যবান পান্ডুলিপি আজও প্রকাশের মুখ দেখেনি। এই বিষয়ে সরকার বাহাদুরের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ভূমিকা রাখতে পারে। তাঁর রচিত গ্রন্থ সমূহ চট্টগ্রাম তথা দেশের ইতিহাস এবং ঐতিহ্য সম্পর্কে গভীর জ্ঞান লাভের অতলস্পর্শী ধনাগার। আবদুল হক চৌধুরীর গবেষণা কর্ম আজ দেশ বিদেশের ছাত্র-শিক্ষক, গবেষক ও পন্ডিত মহলে সমাদৃত বিষয় শুধু নয়, গবেষনার উপযোগী অমুল্য সমৃদ্ধ তথ্য ভান্ডার। চট্টগ্রামের হাজার বছরের সমাজ সংস্কৃতি ও নগর চট্টগ্রামের ইতিহাস রচনায় তিনি একজন অন্যতম পথিকৃৎ, ইতিহাসবিদ।
সভায় বক্তারা চট্টগ্রামে গবেষক আবদুল হক চৌধুরীর নামে একটি পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক লোকশিল্প-লোকসাহিত্য গবেষণাকেন্দ্র প্রতিষ্ঠার দাবী জানান। সভার শুরুতে তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট ইসলামিক চিন্তাবিদ মওলানা মোহাম্মদ হোসেন। অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে সংগঠনের আঙ্গীনায় কবিয়ালদের পরিবেশনায় কবি গানের আসর বসে।