-মো.কামাল উদ্দিনঃ
চট্টগ্রাম শহর এখন দৃশ্যতই এক অন্যরকম সময় পার করছে। একটি সময় ছিল যখন রাজনৈতিক কর্মসূচি মানেই ছিল উত্তেজনা, বিশৃঙ্খলা, নিরাপত্তাহীনতা। তবে সময় বদলেছে। বিশেষ করে চান্দগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ আফতাব উদ্দিন এর মতো পেশাদার, জনবান্ধব ও দূরদর্শী পুলিশ কর্মকর্তার নেতৃত্বে এখন সেই পুরনো আশঙ্কা অনেকটাই পেছনে ফেলে এসেছে নগরবাসী। গতকাল, ২০ জুলাই ২০২৫ ইং, চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত জাতীয় নাগরিক পরিষদ (এনসিপি)-এর এক বৃহৎ রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রমাণ করলো, গণতান্ত্রিক অধিকার চর্চা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা—দুটিই একসাথে সম্ভব, যদি নেতৃত্বে থাকেন একজন দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ প্রশাসক।
শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক কর্মসূচি :
বিকাল ৩টা নাগাদ কাপ্তাই রাস্তার মাথা থেকে শুরু হয় এনসিপির বিশাল রাজনৈতিক শোভাযাত্রা ও পথসভা। হাজার হাজার নেতাকর্মীর পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। মূল আয়োজনটি চলে টানা পাঁচ ঘণ্টা, রাত ৮টা পর্যন্ত। বক্তারা গণতন্ত্র, অধিকার, উন্নয়ন ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলনের প্রাসঙ্গিকতা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।
এই পুরো কর্মসূচিতে কোথাও কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি—যা একটি বড় অর্জন, বিশেষ করে আমাদের দেশের প্রেক্ষাপটে। এর সম্পূর্ণ কৃতিত্ব গিয়ে পড়ে চান্দগাঁও থানার পুলিশ বিভাগের উপর, যাঁরা প্রথম থেকে শেষ পর্যন্ত অতন্দ্র প্রহরীর মতো দায়িত্ব পালন করেছেন।
ওসি আফতাব উদ্দিনের নেতৃত্বে নিরাপত্তা নিশ্চিত: ওসি মোঃ আফতাব উদ্দিন নিজে পুরো আয়োজন পর্যবেক্ষণ করেছেন। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলার সুযোগ যেন কেউ নিতে না পারে, সেজন্য কৌশলীভাবে মোতায়েন করা হয় অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য, পোশাকধারী ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা বাহিনী।
নাগরিকরা বলেছেন—"আমরা পুলিশকে এর আগে কখনো এত সংগঠিত ও সজাগভাবে দেখিনি। পুরো এলাকা জুড়ে ছিল শৃঙ্খলা, ছিল ভরসা।"
একই দিনে সফল অভিযান: অপরাধী গ্রেফতারে চমকপ্রদ সাফল্য- এই বৃহৎ কর্মসূচির দিনে থানা পুলিশের ব্যস্ততা সীমাহীন থাকার কথা, তবুও ওসি আফতাব উদ্দিন থেমে থাকেননি। বরং এই কর্মব্যস্ততার ফাঁকে তিনি এবং তাঁর টিম অভিযান পরিচালনা করে চান্দগাঁও থানার বিভিন্ন এলাকায় একাধিক অপরাধীকে গ্রেফতার করেছেন। এ যেন একদিকে দায়িত্ব পালন, আর অন্যদিকে অপরাধ দমন—দুই মোর্চায় জয়ী একজন সাহসী প্রশাসকের কাহিনি।
গ্রেফতারের বিবরণ: ১. ছিনতাইকারী গ্যাং সদস্য গ্রেফতার: রাত ২:২০ ঘটিকায় বহদ্দারহাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাল্গুন ত্রিপুরা (২১) নামের এক ছিনতাইকারীকে গ্রেফতার করা হয়। তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে মামলা নং-১৬/২৫, ধারা ৩৯৯/৪০২ পেনাল কোড।
২. সিআর ও জিআর পরোয়ানাভুক্ত আসামি গ্রেফতার: দুইজন দীর্ঘদিন পলাতক আসামি—তপন নাথ ও জানে আলম (৪৪)—কে পৃথক অভিযানে গ্রেফতার করে থানা পুলিশ। এদের বিরুদ্ধে রয়েছে এনআই অ্যাক্ট ও দণ্ডবিধির আওতায় একাধিক মামলা।মহানগর অধ্যাদেশে বিশেষ অভিযান:
থানার এলাকায় আরও পৃথক অভিযানে মহানগর অধ্যাদেশ ১০৩ ধারায় গ্রেফতার করা হয়: মোঃ রিদোয়ান (২৪ মোঃ শাকিল (২১) মোঃ মেজবাহ (২০) মোঃ ফরহাদ ওরফে ফারুক (১৯) তাদের বিরুদ্ধে সিএমপি অধ্যাদেশ ৮৮(ডি) ধারায় প্রসিকিউশন দাখিল করা হয়েছে।
কমিশনারের দূরদর্শী নির্দেশনা:
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ কমিশনার হাসিব আজিজ সাহেবের কৌশলী নির্দেশনা, নিয়মিত মনিটরিং ও পেশাদারিত্বের উপর জোর দেওয়ার ফলেই সিএমপি এখন আগের চেয়ে আরও বেশি দৃশ্যমান, সক্রিয় এবং জনগণের আস্থাভাজন এক বাহিনী হয়ে উঠেছে। ওসি আফতাব উদ্দিন সেই নির্দেশনার সফল বাস্তবায়নকারী হিসেবে ইতিমধ্যেই প্রশংসিত হচ্ছেন পুলিশ বিভাগে ও নাগরিক মহলে। নাগরিকদের প্রশংসা: সাধারণ নাগরিকদের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়েছে স্বস্তি ও কৃতজ্ঞতা। একজন বয়স্ক নাগরিক বলেন—
"শুধু পুলিশ না, ওসি সাহেব নিজে যেন আমাদের পাহারাদার ছিলেন। এমন পুলিশ অফিসার পেলে সমাজ পাল্টে যাবে।"
চান্দগাঁও থানা যেন এখন সিএমপির এক আদর্শ থানায় রূপ নিচ্ছে। রাজনৈতিক শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করা আর একই সাথে অপরাধ দমন—এই দুই দায়িত্ব সমানতালে সফলভাবে সম্পন্ন করে ওসি মোঃ আফতাব উদ্দিন প্রমাণ করেছেন, তিনি শুধু একজন পুলিশ অফিসার নন, বরং নাগরিক নিরাপত্তার জন্য একজন নিবেদিত যোদ্ধা। তাঁর প্রতি নাগরিক সমাজের শুভকামনা রইলো।
স্লোগান হোক— “চট্টগ্রাম নিরাপদ, কারণ পুলিশ সজাগ।”
আর নেতৃত্বে থাকুক এমনই সাহসী ওসি।