মো.কামাল উদ্দিনঃ
প্রতিটি জাতির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যখন রক্তের টানে আত্মপরিচয় জেগে ওঠে, যখন প্রজন্ম বুঝে ফেলে, আত্মমর্যাদা রক্ষার চেয়ে বড় কিছু নেই। আজ নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর তিন শত বছরের গৌরবময় ইতিহাস, পূর্বপুরুষদের ঘাম ও আত্মত্যাগের জমি—চরণদ্বীপের পারিবারিক কবরস্থান—একটি ষড়যন্ত্রকারী গোষ্ঠীর দখলের চেষ্টায় চরম অপমানের মুখোমুখি। আর এই চক্রান্তের বিরুদ্ধে জেগে উঠেছে প্রবাসে বেড়ে ওঠা সেই সাহসী প্রজন্ম, যারা রক্তে ধারণ করে আমাদের ঐতিহ্য, আমাদের অহংকার।
আমাদের এই পবিত্র কবরস্থান কোনো জমির দলিল নয়, এটি আমাদের আত্মপরিচয়ের স্তম্ভ। তিন শত বছরের পুরনো ইতিহাস আজ ভুলিয়ে দিতে চায় একদল ‘ভূমি-অপসারিত রিফুজি’, যারা শত বছর আগে বোয়ালখালীর বাইর থেকে চরণদ্বীপে এসে আশ্রয় নিয়েছিল। আজ সেই আশ্রিতরাই আশ্রয়দাতার কবরস্থান দখলের মত দুঃসাহস দেখাচ্ছে। তারা চরণদ্বীপের ভূমিপুত্র নয়, নয় আদিবাসিন্দা। তারা ভিন্ন ইতিহাসের সন্তান। অথচ আজ ইতিহাসকে মুছে দিয়ে নিজেদের ‘আদি অধিকার’ দাবী করছে—এ যেন এক নতুন ইসরায়েল-ফিলিস্তিন কাহিনি। নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর প্রবাসী সন্তানদের প্রতিবাদে আজ ভরপুর নতুন আশার আলো। তারা কেউ ব্যবসায়ী, কেউ পেশাদার, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ—কিন্তু এক জায়গায় তারা এক, আর সেটি হলো—তারা নজর মোহাম্মদের উত্তরসূরি। রক্তের সম্পর্ক শুধু স্মৃতিতে নয়, দায়িত্ববোধেও আজ রূপ নিয়েছে প্রতিবাদে। প্রবাস থেকে একের পর এক কণ্ঠে উচ্চারিত হচ্ছে প্রতিবাদের ভাষা। তারা বলছে—"আমরা কাউকে আমাদের কবরস্থান নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে দেবো না। যে অপশক্তি আমাদের পূর্বপুরুষদের কবরস্থান দখল করতে চায়, তাকে প্রতিরোধ করা আমাদের রক্তের ধর্ম।"
এই ঈদে ‘নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর প্রবাসী কল্যাণ সংস্থা’-এর আয়োজনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রবাসে বসবাসকারী ইকবাল, মহিউদ্দিন, আকবর, সোহেল, আকতারসহ আরও অসংখ্য তরুণ প্রতিবাদী মুখরতায় প্রমাণ করেছেন—"আমরাই নজর মোহাম্মদের গোষ্ঠীর শক্তি, আমরা হার মানবো না।"
তাঁদের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস—"আমরা আইনত এই জমির উত্তরাধিকার, এই কবরস্থানের পাহারাদার। রিফুজিদের অপকর্মে আমরা মাথা নোয়াবো না, আপোষ করবো না। আমাদের পূর্বপুরুষেরা যেমন এক চুল জমিও বিক্রি করেননি, আমরাও রক্তের বিনিময়ে হলেও আমাদের উত্তরাধিকার রক্ষা করবো।"
আমাদের করণীয় কী?
✅ আমরা আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে গঠন করবো একটি শক্তিশালী প্রচার সেল।
✅ আমরা তথ্য-প্রমাণসহ এই দখলদার গোষ্ঠীর মুখোশ উন্মোচন করবো।
✅ আমরা সামাজিকভাবে এবং আইনত তাঁদের বিরুদ্ধচারণ করবো।
✅ আমরা ইতিহাস পুনরুদ্ধার করবো—লেখা, ছবি, দলিলপত্র দিয়ে।
এই আন্দোলন জমির নয়—এই আন্দোলন অস্তিত্বের। আমরা অস্তিত্ব রক্ষা করতেই লড়ছি। এটা আমাদের চরণদ্বীপের প্রতি প্রেম, পূর্বপুরুষের প্রতি শ্রদ্ধা, এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি দায়িত্ব।
সংযুক্ত আরব আমিরাত এর সংবাদ সম্মেলনে দাবী নিয়ে কিছু কথা ---
নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর
৩০০ বছরের পুরনো কবরস্থানের
দখলচেষ্টার প্রতিবাদে এক দৃপ্ত আহ্বান
চরণ দ্বীপ ইউনিয়নের বুকে অবস্থিত আমাদের পূর্বপুরুষদের শায়িত ৩০০ বছরের প্রাচীন কবরস্থানটি কেবল একটি জমি নয়—এটি আমাদের ইতিহাস, আমাদের শিকড়, আমাদের আত্মপরিচয়ের এক জীবন্ত সাক্ষী। আজ সেই পবিত্র কবরস্থানটি দখলের অপচেষ্টা চলছে—যা শুধু বেআইনি নয়, চরম অন্যায় ও নৈতিক অবক্ষয়ের পরিচায়ক।
আমরা, নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর প্রবাসী কল্যাণ কমিটি, সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখা, এই জঘন্য অপচেষ্টার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি। কবরস্থান দখলের এই ঘৃণ্য ষড়যন্ত্র আমাদের পূর্বপুরুষদের অবমাননা করার সামিল, যা আমরা কখনোই মেনে নেব না।
এই কবরস্থান শুধু নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর নয়, এটি চরণ দ্বীপের ঐতিহ্য, এটি একটি ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থান। এখানে যারা চিরনিদ্রায় শায়িত, তারা আমাদের অস্তিত্বের মূল। তাদের স্মৃতি রক্ষা করা আমাদের ধর্মীয় ও সামাজিক দায়িত্ব।
আমরা জোরালোভাবে দাবি জানাচ্ছি:
• অবিলম্বে এই দখলচেষ্টা বন্ধ করতে হবে
• প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রাচীন কবরস্থানটিকে সংরক্ষিত ঐতিহাসিক স্থান হিসেবে চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে
• দখলদারদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে
আমরা দেশে না থাকলেও, প্রবাস থেকে আমরা আমাদের মাতৃভূমির এই ইতিহাস রক্ষা আন্দোলনে সর্বশক্তি দিয়ে পাশে আছি এবং থাকব। যদি প্রয়োজন হয়, দেশে ফিরে সরাসরি আন্দোলনে অংশ নেওয়ারও প্রস্তুতি রয়েছে আমাদের।
এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা এক এবং অভিন্ন।
কবরস্থান বাঁচাতে আমরা প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।
প্রতিবাদের এই ভাষা হোক গর্জে ওঠা এক সুতীব্র সংকেত—
ইতিহাসের পবিত্রতা নিয়ে ছিনিমিনি খেলা চলবে না!
প্রকাশনায়:
নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর প্রবাসী কল্যাণ কমিটি
-সংযুক্ত আরব আমিরাত শাখা।
পরিশেষে--- ইকবাল, মহিউদ্দিন, আকবর, সোহেল, আকতার ও আরও অনেক প্রবাসী ভাইয়ের প্রতি রইল আমাদের গর্ব, ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা। তোমরাই আজ প্রমাণ করেছ—"দূরত্ব মনের নয়, দায়িত্বের বিচারেই মাপা হয়।"
তোমরাই নজর মোহাম্মদ গোষ্ঠীর ভবিষ্যৎ পতাকাবাহক। ইনশাআল্লাহ, এই পতাকা কোনোদিন মলিন হবে না, কবরস্থানের মাটি থাকবে পবিত্র, অক্ষত, নিরাপদ।
আমরা সতর্ক, আমরা প্রস্তুত, আমরা ঐক্যবদ্ধ—
আর আমাদের জয় হবেই, ইনশাআল্লাহ।