মো. কামাল উদ্দিনঃ
কোরবানি ঈদ আসছে। চারপাশে গরু-ছাগলের হাঁকডাক, বাজারে মানুষের ভিড়, ব্যস্ত প্রস্তুতির মাঝেও কোথাও যেন এক শূন্যতা থেকে যায়—যেখানে স্বজনের সান্নিধ্য নেই, প্রিয়জন দূরে থাকে, কিংবা কারো জন্য নেই ঈদের নতুন পোশাক, ভালো খাবার। এই শূন্যতা যারা বোঝে, তারাই প্রকৃত মানুষ। আর এই মানুষদের একজন—মোহাম্মদ রবিউল হোসেন, বোয়ালখালীর সেই সোনার ছেলে, যিনি প্রবাস থেকে হৃদয়ের আলো ছড়িয়ে দেন নিজের মাটিতে, নিজের মানুষের জন্য।
এই ঈদে যখন আমরা সকলে ব্যস্ত নিজেদের আয়োজন নিয়ে, তখন রবিউল একান্ত নিরবে প্রেরণা হয়ে উঠেছেন শত শত অসহায়, দরিদ্র মানুষের জীবনে। তিনি শুধু অর্থ দেন না, তিনি ফিরিয়ে দেন সম্মান, জাগিয়ে তোলেন আত্মবিশ্বাস। তাঁর কোরবানি মানে শুধু পশু জবাই নয়, তা আত্মত্যাগ, সমাজের প্রতি দায়বদ্ধতা, এবং সত্যিকারের ঈমানদার জীবনের চর্চা।
ওমানে নয়, হৃদয়ে তাঁর ঠিকানা
ওমানে তিনি এক সফল ব্যবসায়ী। বৈধপথে অর্জিত শত কোটি টাকার সম্পদ তাঁকে যেমন আর্থিকভাবে শক্তিশালী করেছে, তেমনি মানসিকভাবে পরিপক্ব করে তুলেছে। কিন্তু রবিউলের প্রকৃত পরিচয় তাঁর অর্থের নয়, বরং তাঁর মনুষ্যত্বের, তাঁর মানবিক হৃদয়ের। আর এ কারণেই বোয়ালখালী তাঁকে ভালোবাসে, শ্রদ্ধা করে, এবং গর্ব করে বলে—'রবিউল আমাদেরই এক আপনজন, যিনি দূরে থেকেও সবচেয়ে কাছে।'
ঈদের আনন্দ সকলের জন্য—এই বিশ্বাসই রবিউলের ঈমান
রবিউল মনে করেন, ঈদ হলো সমতা ও সহমর্মিতার উৎসব। তাই তিনি চান, বোয়ালখালীর কোনো মানুষ যেন না খেয়ে ঈদ না করে, কোনো শিশু যেন না কাঁদে নতুন জামা না পেয়ে, কোনো মা যেন অপমানে মাথা না নিচু করে খাদ্যের অভাবে। এ বিশ্বাস থেকেই প্রতি বছর ঈদ উপলক্ষে তিনি অসংখ্য পরিবারকে দেন অর্থ, কোরবানির পশু, খাদ্যসামগ্রী ও পোশাক। তাঁর এই সহযোগিতা নিছক দান নয়—এটি এক গভীর দায়বদ্ধতার প্রকাশ, একটি হৃদয়ের চিৎকার, যা বলে—"আমি দূরে আছি ঠিকই, কিন্তু তোমাদের মধ্যে আছি—রক্তে, আত্মায়, ভালোবাসায়।"
রবিউল: একজন মানুষ, একটাই লক্ষ্য—মানুষের জন্য কিছু করা
এই সমাজে আমরা অনেক বিত্তবান দেখি, কিন্তু কতজন আছেন যাঁরা নিজেকে বিলিয়ে দেন অন্যের জন্য? রবিউল সেই বিরল কিছু মানুষের একজন, যিনি সম্পদের ভারে নতমুখী হন না, বরং মানবতার রাজপথে মাথা উঁচু করে হাঁটেন। তাঁর জীবনে অহংকার নেই, আছে কৃতজ্ঞতা—প্রভুর প্রতি, পরিবারের প্রতি, এবং প্রিয় জন্মভূমির প্রতি।
রবিউল যেখানে স্বার্থ নেই, কেবল আছে সহানুভূতির ছায়া।
রেডিসনের আলোয় যে আলোকে খুঁজে পেলাম—একজন রবিউল
চট্টগ্রামের রেডিসন ব্লু হোটেলের আলোঝলমলে আঙিনায় বসে যখন রবিউলের কথা শুনছিলাম, তখন বুঝতে পারছিলাম, এই আলোকমালার চেয়েও দীপ্তিমান মানুষটি আমার সামনে। তাঁর কথায় নেই অহমিকা, নেই কৃত্রিমতা—আছে সত্য, আছে ভালোবাসা, আর আছে বোয়ালখালীকে নিয়ে অগাধ স্বপ্ন। তিনি স্বপ্ন দেখেন, বোয়ালখালীর প্রতিটি শিশু একদিন শিক্ষিত হবে, প্রতিটি মেয়ে নিরাপদে পথ চলবে, এবং প্রতিটি গরিব ঘরে ফিরবে ঈদের হাসি।
বোয়ালখালীর আগামীদিন—রবিউলের মতো হৃদয়ের পথিকদের হাতে নিরাপদ-
আজ যখন আমরা উন্নয়ন, প্রযুক্তি, বিলাসিতা নিয়ে কথা বলি, তখন মানুষ হারিয়ে ফেলি। রবিউল সেই মানুষদের আমাদের সামনে দাঁড় করান—যারা মানুষ থাকে, মানুষকে ভালোবাসে, এবং মানুষের জন্যই বাঁচে। তিনি নিজে রাজনীতি করেন না, ক্ষমতার মোহে মত্ত হন না। কিন্তু সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য তিনি নিরব এক বিপ্লব চালিয়ে যাচ্ছেন—প্রবাস থেকে। তাঁর এই প্রবাসজীবন যেন আত্মত্যাগের এক মহাকাব্য, যার প্রতিটি পৃষ্ঠায় লেখা আছে—'মানুষের পাশে দাঁড়ানোই শ্রেষ্ঠ ইবাদত।' কোরবানি ঈদের এই পুণ্যতিথিতে রবিউল যেন হয়ে উঠেছেন একজন মুসাফির, যিনি কাঁধে করে বয়ে আনছেন ভালোবাসা, সহমর্মিতা আর আশা। আমরা যারা তাঁর আশপাশে আছি, আমাদের দায়িত্ব এখন এই আশার আলোকে আরও ছড়িয়ে দেওয়া। বোয়ালখালীর মানুষ জানুক, রবিউলের মতো মানুষ এখনো আছেন, এখনো তারা নিঃশব্দে বলে যান—
"এই দেশ আমার, এই মানুষ আমার, এই ঈদ তোমাদের সঙ্গে আমারও।"
শুভ কোরবানি ঈদ।