চট্টগ্রাম মহানগরবাসীকে ঈদ-উল-আযহার শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দন জানিয়ে, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি) ঈদের আনন্দঘন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নানামুখী ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। কোরবানির ঈদে চট্টগ্রাম নগরজুড়ে বিপুল জনসমাগম, পশুবাহী যানবাহনের চলাচল, হাটের ব্যস্ততা এবং ছুটির ফাঁকে বাড়ি ফাঁকা থাকার সম্ভাবনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। বর্তমান কমিশনার মোহাম্মদ হাসিব আজিজ যোগদানের পর থেকেই সিএমপির মধ্যে একটি শৃঙ্খলাবদ্ধতা, পেশাদারিত্ব ও জনসম্পৃক্ততা দৃশ্যমান হয়ে উঠেছে। ‘জনগণের পুলিশ’ স্লোগানকে বাস্তবে রূপ দিতে তিনি যে আন্তরিকতা ও কর্মতৎপরতা দেখিয়েছেন, তা চট্টগ্রামের মানুষের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে।
নগরবাসীর জন্য সিএমপি’র সচেতনতা নির্দেশনা:
সিএমপি ঈদের সময় নাগরিকদের জন্য যে নির্দেশনাগুলো দিয়েছে, তা শুধুই আইন প্রয়োগ নয়, বরং একধরনের জনসচেতনতা বৃদ্ধির প্রচেষ্টা। ঈদের আনন্দ সবার জন্য নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল রাখতে সিএমপির আহ্বান হলো—
পশুবাহী গাড়ি সুনির্দিষ্ট জায়গায় লোড-আনলোড করা:
যাতে নগরের সড়কে যানজট ও বিশৃঙ্খলা না তৈরি হয়।
অজ্ঞান ও মলমপার্টির বিরুদ্ধে সাবধানতা:
পশুর হাটে এবং জনসমাগম এলাকায় অপরাধীরা সক্রিয় থাকতে পারে—সেজন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।
জাল নোট ও প্রতারণা প্রতিরোধে সতর্কতা:
ক্রয়-বিক্রয়ের সময় যাচাই-বাছাই করে লেনদেন করতে হবে। বড় অঙ্কের টাকা ব্যাংকে রাখতে ও মানি এস্কর্ট নিতে উৎসাহ দেওয়া হয়েছে।
চাঁদাবাজি ও অনলাইন প্রতারণা রোধ:
পশুর হাটে বা অনলাইন মাধ্যমে প্রতারণার কোনো তথ্য থাকলে তা সঙ্গে সঙ্গে পুলিশকে জানানোর জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
নির্ধারিত স্থানে কোরবানি ও বর্জ্য অপসারণ:
রাস্তা বা জনসমক্ষে পশু জবাই না করে নির্ধারিত স্থানে কোরবানি দিয়ে বর্জ্য দ্রুত অপসারণে নাগরিক সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে।
বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ:
ঈদে অধিকাংশ পরিবারই আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে সময় কাটাতে বাইরে যান। তখন বাড়ি, প্রতিষ্ঠান বা দোকানপাট ফাঁকা পড়ে থাকে। এ সময়টিতে যেন কোনো চুরি, অনধিকার প্রবেশ বা অপরাধ সংগঠিত না হয়, সে লক্ষ্যে সিএমপি নাগরিকদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ দিয়েছে—
বাসা ছাড়ার আগে তালা, সিসি ক্যামেরা, অ্যালার্ম ব্যবস্থা নিশ্চিত করুন।
সন্ধ্যার পর বাসার চারপাশ আলোকিত রাখুন।
প্রতিবেশীদের জানিয়ে যান যেন তারা নজর রাখে।
দরজার পাশে থাকা গাছের ঝোপঝাড় কেটে ফেলুন।
যদি সন্দেহভাজন কেউ এলাকায় ঘোরাফেরা করে, সঙ্গে সঙ্গে নিকটস্থ ফাঁড়িতে জানান।
যানবাহনের গ্যারেজ সুরক্ষিত রাখুন।
নগদ অর্থ বা মূল্যবান জিনিস নিরাপদ স্থানে রাখুন, প্রয়োজনে ব্যাংক লকার ব্যবহার করুন।
ট্রাফিক নিরাপত্তা ও জনসচেতনতা:
ঈদ মানেই বেড়ানো, ভ্রমণ ও আত্মীয়বাড়ি যাওয়া-আসা। কিন্তু সেই আনন্দ যেন কোনো দুর্ঘটনায় রূপ না নেয়, সেজন্য ব্যক্তিগত গাড়ি বা বাইক চালনার সময় অতিরিক্ত গতি বা বেপরোয়া আচরণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুলিশি সহায়তা:
যেকোনো জরুরি প্রয়োজনে নগরবাসী সিএমপি কন্ট্রোল রুম: ০১৩২০-০৫৭৯৯৮ এবং জাতীয় জরুরি সেবা: ৯৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারবেন।
কমিশনার মোহাম্মদ হাসিব আজিজের নেতৃত্বে উন্নয়নের চিত্র
কমিশনার মোহাম্মদ হাসিব আজিজ যখন সিএমপির দায়িত্ব গ্রহণ করেন, তখন তার প্রথম অগ্রাধিকার ছিল পুলিশ বাহিনীর পেশাদারিত্ব ও জনআস্থা পুনরুদ্ধার করা। তিনি নানামুখী উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন—
✔️ থানাগুলোতে জনবান্ধব সেবা নিশ্চিত করা
✔️ হেল্প ডেস্ক, নারী-শিশু ডেস্ক সক্রিয় করা
✔️ ট্রাফিক ব্যবস্থার আধুনিকায়ন
✔️ সাইবার অপরাধ দমন ও মাদকবিরোধী অভিযান জোরদার
✔️ সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে স্কুল-কলেজে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম
✔️ পুলিশ সদস্যদের মধ্যে শৃঙ্খলা ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা
এইসব পদক্ষেপের ফলে চট্টগ্রাম শহরে আইন-শৃঙ্খলার দৃশ্যমান উন্নয়ন ঘটেছে। মানুষের মধ্যে পুলিশের প্রতি আস্থা বেড়েছে, এবং তারা এখন আরও বেশি সহযোগিতা করছে।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে যেভাবে নিরাপত্তা ও জনসচেতনতার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, তা নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। এই উদ্যোগ তখনই সফল হবে, যখন নগরবাসী সক্রিয়ভাবে অংশ নেবে, আইন মেনে চলবে এবং পুলিশকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করবে।
এই ঈদ হোক নিরাপত্তার, সৌহার্দ্যের ও সহমর্মিতার উৎসব। আইন মেনে চলুন, পুলিশকে সহায়তা করুন।
- জনস্বার্থে প্রচারিত
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)
পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ হাসিব আজিজ