মো.কামাল উদ্দিনঃ
বর্ষা আসে শুধু আকাশ ভিজিয়ে দিতে নয়, হৃদয়টাকেও ভিজিয়ে দেয় এক প্রগাঢ় অনুভবে। সৃষ্টির, সুরের, সৌন্দর্যের জগতে বর্ষা যেন এক জীবনমুখী উৎসব। আর এই বর্ষাকে ঘিরেই গতকাল চট্টগ্রাম শিল্পকলা একাডেমিতে অনুষ্ঠিত হলো “বর্ষা বরণ” অনুষ্ঠান—সাংস্কৃতিক উন্মেষে, সুরের মূর্ছনায়, শুভ্র ফুলের সৌরভে রঞ্জিত এক অনিন্দ্য আয়োজন। এই মঞ্চেই, সকলের সামনে, নান্দনিক চট্টগ্রলার পক্ষ থেকে বরণ করে নেওয়া হলো এক উজ্জ্বল, স্নিগ্ধ নারীকে—মীম চৌধুরীকে। তিনি শুধু একজন ফ্যাশন ডিজাইনার বা বুটিক হাউজের কর্ণধার নন, তিনি এক জীবনঘনিষ্ঠ শিল্পমানস, একজন সংগ্রামী নারী, যাঁর জীবনের প্রতিটি অধ্যায় এক একটি সাহসিকতার কাব্য। মঞ্চে সেই মুহূর্তটি ছিল যেন আবেগ ও গর্বের অপূর্ব সমাবেশ। বাম পাশে দাঁড়িয়ে থাকা কমলা পাঞ্জাবি পরিহিত গম্ভীর মুখের মানুষটি হচ্ছে মীম সহ সকলের প্রিয় মানুষ তাহের ভাই - তিনি কিন্তু ছিলেন সমগ্র আয়োজনের প্রতীক; মঞ্চের মাঝখানে অবস্থানকারী শার্ট-পরা ব্যক্তি হাতে তুলে দিচ্ছিলেন একটি সম্মাননা স্মারক, যা গ্রহণ করছিলেন এক সবুজ শাড়ি ও হিজাব পরিহিতা নারী—মীম চৌধুরী। তাঁর কাঁধে ঝুলন্ত ব্যাগটি যেন প্রতীক ছিল এক যাত্রার, এক সংগ্রামের, এবং এক নীরব অথচ গর্বিত সাহচর্যের।
সম্মাননা স্মারকটি ছিল একটি হৃদয় ছোঁয়া স্বীকৃতি—তার কর্ম, তার শিল্পবোধ, তার ভালোবাসা ও মানুষের প্রতি উন্মুক্ত হৃদয়ের। যারা তাকে চেনেন, তারা জানেন—মীম শুধু ফ্যাশনের আলোকিত মুখই নন, তিনি নিজেই এক চলমান অনুপ্রেরণা। তার হাসি প্রাণখোলা, তার বাচনভঙ্গি হৃদয়গ্রাহী, এবং তার মন—এক অকৃপণ দাতা। ব্যক্তিগত জীবনে এখনো তিনি নিঃসঙ্গ, সংসারের সংজ্ঞায় বাঁধেননি নিজেকে। তবে এই একাকিত্ব কখনো তাকে দুর্বল করেনি। বরং সেই শূন্যতা ভরিয়ে দিয়েছেন মানুষের জন্য ভালোবাসা দিয়ে, শিল্পচর্চায় নিজেকে নিবেদিত করে, এবং নারীজাগরণে তার মৃদু অথচ প্রগাঢ় অবস্থান জানিয়ে। মীম চৌধুরী যেন এমন এক নারীর নাম, যিনি না চেয়েও ভালোবাসা অর্জন করেন; যিনি না বলেও মানুষকে কাছে টেনে নিতে পারেন।
চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে তিনি ইতোমধ্যেই এক সুপরিচিত নাম। তাঁর নাম উচ্চারণে যেন থাকে সৌন্দর্যবোধ, সততা ও স্বকীয়তার ছাপ। তাঁর কাজ যেমন গুণগত, তেমনি তাঁর জীবনযাপনও ভিন্ন এক মাত্রায় উঠে এসেছে—সৃজনশীলতায়, বন্ধুত্বে, হৃদয়ের ঔদার্যে।
অনুষ্ঠানের সেই মুহূর্তটি তাই ছিল শুধুমাত্র একটি স্মারক হস্তান্তর নয়, বরং ছিল এক নিঃশব্দ কবিতা, যা পাঠ করা হয়নি, কিন্তু অনুভব করা গেছে। উপস্থিত সবাই সেই স্নিগ্ধতা অনুভব করেছেন মীম চৌধুরীর চোখে, তাঁর অভিব্যক্তিতে, এবং তাঁর বিনম্র গ্রহণে। এই বর্ষা বরণ যেন হয়ে উঠলো কেবল ঋতু উদযাপন নয়, বরং এক নারীর প্রতি চট্টগ্রামের সম্মান ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ। তাকে ঘিরে, বর্ষার গন্ধটা আরও বেশি মৌতাতে ভরে উঠলো—কারণ এই নারী নিজেই যেন এক জীবন্ত ঋতু, যাঁর মাঝে মিশে আছে বসন্তের উচ্ছ্বাস, বর্ষার ভালোবাসা, শরতের নির্মলতা আর হেমন্তের নির্ভরতা।
নান্দনিক চট্টগ্রলার পক্ষ থেকে মীম চৌধুরীকে জানিয়েছে হৃদয়ের গভীরতা থেকে নিঃসৃত সম্মান, ভালোবাসা ও অফুরন্ত শুভকামনা- আপনি অনুপ্রেরণা, আপনি সৌন্দর্য, আপনি মীম চৌধুরী।